মোবাইল টাওয়ার ব্যবসা চায় বিটিসিএল

ঢাকা: মোবাইল টাওয়ার পরিচালনার ব্যবসা করতে চায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)। এজন্য টাওয়ার শেয়ারিং কোম্পানি লাইসেন্স পেতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে আবেদন করেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল।

আবেদনপত্র গ্রহণের শেষ দিন ছিল সোমবার। বিটিসিএল ছাড়াও আবেদন করেছে ইডটকো, এফটিএ বাংলাদেশ লিমিটেড, টিএএসসি সামিট টাওয়ারস লিমিটেড, বিটি টাওয়ার বিজনেস কোম্পানি কনসোর্টিয়াম, যমুনা টাওয়ার, এবি হাই টেক কনসোর্টিয়াম ও আইএসওএন ইসিটি টাওয়ার।

১৯টি কোম্পানি আবেদনপত্র নিলেও শেষ পর্যন্ত তা জমা দিয়েছে মাত্র ৮টি কোম্পানি। তবে বিটিআরসি টাওয়ার ব্যবসা চালাতে শেষ পর্যন্ত  চারটি কোম্পানিকে লাইসেন্স প্রদান করবে।  

লাইসেন্স পেতে হলে আবেদনকারীকে নূন্যতম পাঁচ হাজার টাওয়ার পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বিটিসিএল এর টাওয়ার পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে বহু আগে থেকেই। রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানটির জেলা-উপজেলা পর্যায়ে টাওয়ার রয়েছে।

নাম না প্রকাশের শর্তে বিটিসিএল এর কর্মকর্তা বলেন, ‘‘তারা যখন টাওয়ার স্থাপন করেছে তখন কারো জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কোনো স্থাপনাই ছিল না। সুতরাং অভিজ্ঞতার দিক থেকে বিটিসিএল সবচেয়ে অভিজ্ঞ কোম্পানি। আর সক্ষমতার দিক থেকেও আমরা এগিয়ে রয়েছি।’’ 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের টাওয়ার ব্যবসা করার অভিজ্ঞতা নেই - একথা ঠিক। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে তারা এই ব্যবসায় যুক্ত হয়ে নজির স্থাপন করতে চান।

বিটিআরসি মতে নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় বিপুল ব্যয়ের পাশাপাশি টাওয়ার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষেণে অনেক লোকবলও লাগছে অনেক। মোবাইল কোম্পানিসমূহ যে যার মতো সারাদেশে যত্রতত্র টাওয়ার স্থাপন করছে। পাশাপাশি হয়তো তিনটি কোম্পানির তিনটি টাওয়ার রয়েছে। অথচ এখানে একটি টাওয়ার দিয়েই নেটওয়ার্ক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব। এর আগে বিটিআরসি মোবাইল কোম্পানিসমূহকে কাছাকাছি স্থানে একাধিক টাওয়ার স্থাপন না করে নিজেদের মধ্যে টাওয়ার শেয়ারিং করার তাগিদ দিয়েছিল। এতে তারা সফল হয়নি।

বিটিআরসি বলছে, একই জায়গায় যত্রতত্র টাওয়ার স্থাপনে অনেক বেশি জমি যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এছাড়া পরিবেশের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় বিটিআরসি মোবাইল কোম্পানিসমূহকে টাওয়ার ব্যবস্থাপনা থেকে সরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ নিয়েছে।

টাওয়ার শেয়ারিং লাইসেন্স ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ কোটি ও বার্ষিক লাইসেন্স ফি ৫ কোটি টাকা। টাওয়ার কোম্পানিতে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ থাকতে পারবে। এর আগের নীতিমালার খসড়ায় এ সীমা ছিল সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ।

লাইসেন্স পাওয়ার পর নির্দিষ্ট কোম্পানিকে প্রথম বছর সব বিভাগীয় শহরে সেবা পৌছে দিতে হবে। দ্বিতীয় বছর জেলা শহর, তৃতীয় বছর ৩০ শতাংশ উপজেলা, চতুর্থ বছর ৬০ শতাংশ উপজেলা ও পঞ্চম বছর দেশের সব উপজেলায় টাওয়ার নিতে হবে লাইসেন্স পাওয়া কোম্পানিকে।

অর্থনীতি এর আরও খবর