প্রভাতী বাজারে তরতাজা সব পণ্য

ঢাকা: দিনের নানান ব্যস্ততায় রাতে ক্লান্তির ঘুম, কাক ডাকা ভোর থেকে আবার সেই ব্যস্ততা। এমন চক্রেই মানব জীবন। সারাদিনের ব্যস্ততার মধ্যে নগরবাসী হয়ে উঠেনা নিত্যপণ্যের কেনাকাটা। অনেকে মহল্লার হকার বা দিনশেষে বাসি পণ্য নিয়ে বাসায় ফিরেন। আবার একদিনে পুরো সপ্তাহের বাজার ফ্রিজে ঢুকাচ্ছেন কেউ কেউ। ফলে বাধ্য হয়েই গুণ-মানহীন খাদ্য পণ্য ভোগ করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

এ ঝামেলা এড়াতে প্রাতভ্রমণ শেষেই নিত্যপণ্যের কেনাকাটা সেরে ফেলেন অনেক নগরবাসী। দুই থেকে তিন ঘন্টার এই প্রভাতী বাজারের ভ্রাম্যমাণ দোকানে থাকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল পণ্য। আলু-কাঁচা মরিচ থেকে শুরু করে থাকে মাছ-মাংস। স্থায়ী বাজারের কিছু দোকানী এবং হকাররা এসব বাজারে এসে থাকেন। নির্ধারিত সময় শেষে আবার নিজ দোকানে ফিরে যান। ফলে পণ্য মূল্যে কোন পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়না। সকাল ছয়টা থেকে নয়টা পর্ন্ত থাকে এসব বাজার।

/uploads/files/VYtqVWmN6SnrjLDXM5z7DTlfUVzP4NyBxG87wrDf.jpeg

রাজধানীর প্রধান প্রাতভ্রমণ কেন্দ্র রমনা পার্ক। এখানে আসা যাওয়ার পথে বসে কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ বাজার। এর মধ্যে বেইলি রোড, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচায়ও রয়েছে প্রভাতী বাজার। একই চিত্র পাওয়া যায় অন্য পার্কের আশপাশের এলাকাগুলোতে।

রমনা পার্কে প্রতিদিন প্রাতভ্রমণ করতে আসেন সরকারি কর্মকর্তা আবুল ফজল। মর্নিং ওয়ার্ক শেষে ফ্রেশ তাজা সবজি কিনে নিয়ে যান তিনি। আবুল ফজল বলেন, শরীর সুস্থ রাখার জন্য আমার আগে থেকে হাঁটার অভ্যাস রয়েছে। এর উপর আবার ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে।  এখানে আসার আরেকটা লাভ হচ্ছে, সকালে ফ্রেশ সবজি ও মাছ মাংষ পাওয়া যায়। হাঁটাও হয় তাজা সবজিও কেনা হয়।

প্রভাতী বাজার হলেও ক্রেতা পেতে কোনো সময় নেই বলে জানান ব্যবসায়ী মিনহাজ। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে তো পচা মাল দিয়ে ভরা। মানুষ তাজা জিনিস খেতে চায়। এ কারণে সকাল হলেও কাস্টমারের অভাব নেই। তিন ঘন্টায় অনেক বেচা-বিক্রি হয়।

/uploads/files/zpCf3ZgsYaiQA05N5Ll0qK8LtOuFYELt9vob9Eo6.jpeg

নিত্যপণ্যের বাজারে মঙ্গলবার (১০ জুলাই) প্রতি হালি ডিম বিক্রি হয়েছে ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। কাঁচা মরিচের দাম প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর কেজি প্রতি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা। বেগুন প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকায়। প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা। দেশি পিঁয়াজ প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, আমদানি পিঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

প্রতি আঁটি লাল, পালং শাক ১০ থেকে ১৫ টাকা, ডাটা, লাউ ও পুঁই শাক ২০ থেকে  ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঢেঁড়স, ঝিঙা, কাকরল, চিচিঙ্গা ৪০ থেকে ৫০ টাকা,করল্লা কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শশা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, লতি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, লেবুর হালি ১০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

/uploads/files/MUlTq6vN1TaAdEsfSlJrZX8HJLPYYxAK5j80YQOa.jpeg

প্রতি কেজি রুই মাছ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা, ইলিশের কেজি ৬০০ থেকে ১,৪০০ টাকা, তেলা পিয়া ১২০ থেকে ২৫০ টাকা, বাইন মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, পঙ্গাস ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৪৬০ থেকে ৫০০ টাকা, খাসীর মাংস প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী প্রতি কেজি ১৪৫ থেকে ১৫৫ টাকা, দেশি মুরগী প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

অর্থনীতি এর আরও খবর