Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক দুই আইজিপির জামিন আপিলেও বহাল

দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক দুই আইজিপির জামিন আপিলেও বহাল
হাইকোর্ট
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশের সাবেক দুই মহাপরিদর্শক (আইজিপি) শহুদুল হক ও আশরাফুল হুদার জামিন বহাল রয়েছে।

হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনে ওপর বুধবার (২৩ জানুয়ারি) চেম্বার বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান 'নো অর্ডার’ আদেশ দেন। ফলে পুলিশের সাবেক ওই শীর্ষ দুই কর্তাকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রইল ও তাদের কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী। আর আসামীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আরশাদুর রউফ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জামিলুর রহমান।

এর আগে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় দুই বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে হাইকোর্টে জামিন চান সাবেক ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ২১ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন এবং তাদেরকে ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। সেই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে তাদের জামিন বহাল রাখেন চেম্বার আদালত।

আদেশের বিষয়টি জানিয়ে আরশাদুর রউফ  বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ জামিনযোগ্য। দুই বছরের সাজা হলেও ইতিমধ্যে তারা ১৪ মাস কারাভোগ করেছেন—এসব যুক্তিতে জামিন আবেদন করা হলে হাইকোর্ট ছয় মাসের অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। একইসঙ্গে দুজনের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশও স্থগিত করেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে চেম্বার বিচারপতি ‘নো অর্ডার’ আদেশ দেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলটির বহু নেতা-কর্মী আহত হন।

ঘটনার ১৪ বছর পর ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর হামলা মামলার (হত্যা ও বিস্ফোরক) রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান (বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৫২ আসামির মধ্যে অন্য মামলায় জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদ, হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। মামলার আসামি তারেক রহমানসহ পলাতক আছেন ১৮ জন।

ওই হামলা মামলায় আটজন পুলিশ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়। তারা হলেন পুলিশের সাবেক তিন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা (গ্রেনেড হামলার সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন), শহুদুল হক ও খোদা বকশ চৌধুরী, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি খান সাইদ হাসান ও মো. ওবায়দুর রহমান, জোট সরকারের আমলে মামলার তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান ও এএসপি আবদুর রশিদ।

আপনার মতামত লিখুন :

মিল্কভিটা, আড়ং, প্রাণসহ ১৮ পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর কিছু পায়নি বিএসটিআই

মিল্কভিটা, আড়ং, প্রাণসহ ১৮ পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর কিছু পায়নি বিএসটিআই
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

১৮টি পাস্তুরিত-ইউএইচটি দুধের নমুনা পরীক্ষায় ক্ষতিকর উপাদান খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। হাইকোর্টে দাখিল করা একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টেও দ্বৈত বেঞ্চে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বিএসটিআই।

বিএসটিআইর প্রতিবেদনে ১৪টি ব্যান্ডের ১৮টি পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যয়িনি। প্রতিবেদন অনুসারে ব্যান্ডগুলো হলো-বেড়ার ইছামতি ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের ‘পিউরা’, নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ড্যানিশ ডেইরি ফার্মের ‘আয়রান’, গাজীপুরের জয়দেবপুরের ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের ‘আড়ং ডেইরি’, ঢাকার ধামরাইর আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘ফার্ম ফ্রেশ দুধ’, গাজীপুরের শ্রীপুরের আমেরিকান ডেইরির ‘মো’, ঢাকার মিরপুর-৭ বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়নের ‘মিল্কভিটা’, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের আফতাব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টসের ‘আফতাব’, কুষ্টিয়ার কামারখালীর শিলাইদহ ডেইরির ‘আল্ট্রা’, পাবনার বেড়ার তানিয়া ডেইরি অ্যান্ড ফুড  ‘প্রাণ মিল্ক’, নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারের বারো আউলিয়া ডেইরি মিল্ক অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টেসের ‘ডেইরি ফ্রেশ’, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের উত্তকবঙ্গ ডেইরীর ‘মিল্ক ফ্রেশ’, ‘প্রাণ মিল্ক’, ঢাকার ধামরাইর আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘ফার্ম ফ্রেশ মিল্ক’, ঢাকার গুলশানের রাফি অ্যান্ড ব্রাদার্সের ‘কাউহেড পিউর মিল্ক’,  ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের ‘আড়ং ডেইরি’।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।

প্রতিবেদন দাখিলের পর আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন আদালত।

২০১৮ সালের ২০ মে পাস্তুরিত দুধে ব্যাকটেরিয়ার রয়েছে এমন দাবি করে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন আইনজীবী তানভির আহমেদ। একইবছরের ১৭ মে ‘পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশই নিরাপদ নয়’ শিরোনামে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তিনি তা আদালতের নজরে আনেন।

আদালত ওই আইনজীবীকে রিট আকারে আবেদন নিয়ে আসতে বলেন। এরপর আইনজীবী তানভীর আহেমদ রিট করেন। রিটের পর বাজারে পাওয়া যায় এমন সব ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ভাগ্নের জামিন নামঞ্জুরের খবরে আদালতেই খালার মৃত্যু

ভাগ্নের জামিন নামঞ্জুরের খবরে আদালতেই খালার মৃত্যু
আদালতের বারান্দায় ওই নারীর মরদেহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

ভাগ্নের জামিন নামঞ্জুর হওয়ার আদেশ শুনে অসুস্থ হয়ে আদালতের বারান্দায় মারা গেলেন আসামির খালা জোহরা (৫০)।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর ৭২৫ পুরিয়া (১৫২ গ্রাম) হেরোইন রাখার অভিযোগে ঢাকার দোহার থানাধীন বরইক্রাসি গ্রামের আমির আলী মাদবরের ছেলে মো. রুবেলের (২৭) নামে মামলা হয়।

ওই বছরের ২১ নভেম্বর পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং দেউলিয়া বিষয়ক আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আসামি রুবেলের জামিনের আবেদন করা হয়। গত ৮ মাস তিনি কারাগারে আটক আছেন।

রুবেলের আইনজীবী রজব হোসেন বলেন, 'মঙ্গলবার আসামির জামিনের শুনানির সময় খালা জোহরা এবং বোন বেবি হাজির ছিলেন। শুনানির পর বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে দেন। আদালত কক্ষেই ছিলেন খালা জোহরা।

তিনি জানান, জামিন না মঞ্জুরের খবরে আদালত কক্ষেই অসুস্থ হয়ে পড়েন জোহরা। তাকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আদালতের বারান্দায় আনা হলে সেখানেই তিনি মারা যান।

তবে আদালতের পেশকার বলেন, 'ওই মামলায় জামিন শুনানির সময়ই ওই মহিলা আদালতের বারান্দায় চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। বিচারক তাকে ডেকে শান্ত হতে বলে আদেশ পরে দেবেন বলে আদেশ দেন।'

পরে জানতে পারি, ওই মহিলা আদালতের বারান্দায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিচে নামানোর সময় লিফটেই মারা যান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র