দুই শিক্ষার্থী মৃত্যুর মামলায় আরও একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ

জাবালে নূর বাস, ছবি: সংগৃহীত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম

বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় জাবালে নূরের মালিক ও বাসচালকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় রিয়াদ আহমেদ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ একেএম ইমরুল কায়েসের আদালতে পুলিশের উপ-পরিদর্শক রিয়াদ আহমেদ সাক্ষ্যপ্রদান করেন। বিচারক আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বাকি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৮ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।

মামলাটির চার্জশিটের ৪১ সাক্ষীর মধ্যে ৩৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। রিয়াদ আহমেদ ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্যপ্রদান করছেন।

২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৩০৪, ২৭৯, ৩২৩, ৩২৫ ও ৩৪ ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর কাজী শরিফুল ইসলাম। চার্জশিটে ৪১ জনকে সাক্ষী করা হয়।

আসামিরা হলেন- জাবালে নূর পরিবহনের সেই বাসচালক মাসুম বিল্লাহ ও তার সহকারী এনায়েত হোসেন এবং বাসটির মালিক শাহাদাত হোসেন। ওই বাসটি যে বাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়েছিল ওই বাসের চালক জোবায়ের সুমন ও চালকের সহকারী কাজী আসাদ এবং বাসটির মালিক জাহাঙ্গীর আলম।

আসামীদের মধ্যে শাহদাত হোসেন, মাসুম বিল্লাহ ও জোবায়ের সুমন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আসামী সোহাগ আলী ও রিপন হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে মামলায় দায় হতে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, আসামী মাছুম বিল্লাহ ও জোবায়ের সুমনের হালকা যান কার, জীপ ও মাইক্রোবাস চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স সঠিক থাকলেও ৪১ সিটের বাস চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। এ ছাড়া জব্দকৃত ৩টি বাসের কোনোটিতেও কোনো প্রকার যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল না।

চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, বাসের ড্রাইভার ও হেলপার নিয়োগের এখতিয়ার বাস মালিকের। এই মামলার আসামী ড্রাইভার ও হেলপারদের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বুদ্ধিমত্তা যাচাই ছাড়াই মালিক শাহদাত হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম তাদের নিয়োগ প্রদান করেন।

গত ২৯ জুলাই সকালে জাবালে নুরের দুটি বাস আব্দুল্লাহপুরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় পাল্লাপাল্লি ও রেশারেশি করে বেশি যাত্রী ও বেশি ভাড়া পাওয়ার আশায় দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চালাতে শুরু করে।

ড্রাইভার জোবায়েরের বাসটি ড্রাইভার মাসুম বিল্লাহ বাসটিকে পেছনে ফেলে জিল্লুর রহমান ফ্লাইওভারের ঢালের সামনে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে ডান দিকে রাস্তা ব্লক করে যাত্রী ওঠাতে থাকেন।

১১টা ৩০ মিনিটে মাসুম বিল্লাহর বাসটি ডান দিক দিয়ে যেতে না পেরে বাম দিক দিয়ে যাওয়ার সময় স্বেচ্ছাকৃতভাবে বাসের জন্য অপেক্ষমান শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ১৪/১৫ জন ছাত্র-ছাত্রীর ওপর তুলে দেয়। যার কারণে ১৩/১৪ জন ছাত্র-ছাত্রী গুরুত্বর আহত হয়। যাদের মধ্যে উক্ত কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও বিজ্ঞান বিভাগের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আব্দুল করিম রাজীব মারা যায়। কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়।

এ ঘটনায় নিহত একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মিমের বাবা জাহাঙ্গীর আলম গত ২৯ জুলাই ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

আইন ও আদালত এর আরও খবর