Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

কারা কর্তৃপক্ষকে দুষলেন খালেদা জিয়া

কারা কর্তৃপক্ষকে দুষলেন খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া-ছবি: সংগৃহীত।
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পূর্ব ছাতক গ্যাসক্ষেত্র অনিয়মের মাধ্যমে কানাডার কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দেয়ার সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার পরবর্তী চার্জ শুনানির জন্য আগামী ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (৩ মার্চ) ঢাকার বিশেষ জজ-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমান পরবর্তী শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেছেন।

এদিন মামলার অন্যতম আসামি সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলামের পক্ষে শুনানি শেষ হয়।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি নাইকো মামলার শুনানিতে ঘুমিয়ে থাকায় আদালতে আসতে না পারা সংক্রান্ত কারাকর্তৃপক্ষের বক্তব্য অস্বীকার করেন। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজলকে বলেন, ওইদিন আমি আদালতে আসার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কারাকর্তৃপক্ষই আমাকে আদালতে হাজির করে নি।

এরআগে বেলা ১২টা ৩৫ মিনিটে হুইল চেয়ারে করে আদালতে আসেন খালেদা জিয়া। আদালতে শুনানি শুরু হয় বেলা ১২টা ৪০ মিনিটে। শুনানি শেষ হয় দুপুর ২টায়।

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন।

পলাতক অন্য ৩ আসামি হলেন- সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহা-ব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

চলতি বছরের ৫ মে এই মামলায় অভিযুক্ত আরেক আসামি সাবেক সচিব শফিউর রহমান মারা যান।

গত বছরের ২০ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মোশাররফ হোসেন কাজল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ মামলার ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিসাধন ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান।

অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

নাইকো ছাড়াও গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা বাতিলের আবেদন জানিয়ে পৃথক রিট করেছিলেন খালেদা জিয়া। এসব রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত ও রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

কয়েক বছর ধরে স্থগিত থাকার পর মামলাগুলো সচলের উদ্যোগ নিয়ে রুল নিষ্পত্তির আবেদন জানায় দুদক। পরে গতবছর পৃথক পৃথক শুনানি শেষে মামলা তিনটি সচলের রায় দেন হাইকোর্ট।

আপনার মতামত লিখুন :

একদিনে ১৫৩ মামলার আসামির জামিন বাতিল

একদিনে ১৫৩ মামলার আসামির জামিন বাতিল
সুপ্রিম কোর্ট

হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ একদিনে ১৫৩টি ফৌজদারি বিবিধ মামলা ও আপিলে আসামিদের দেওয়া জামিন বাতিল করেছেন। এসব মামলায় আসামিরা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেওয়ার পর মেয়াদ বাড়ানো বা রুল শুনানির পদক্ষেপ নিচ্ছিল না। এতে ১৫৩টি মামলা দীর্ঘদিন যাবত ঝুলে ছিল।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। অন্যদিকে ওই জামিন বা আপিলের পক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, ২০১৭ সালের ১১৮টি ফৌজদারি বিবিধ মামলা ও ২০১৬ সালের ৩৫টি ফৌজদারি আপিলে আসামিরা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন ও রুল নেন।

বিচারিক আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি বিবিধ ও আপিল করে জামিন নেন। পরে আর রুল ও আপিল শুনানি করেননি বা জামিন বর্ধিত করেননি।

তিনি বলেন, ‘মামলার জট কমাতে এসব মামলা শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আনা হলে শুনানি শেষে আসামিদের পক্ষে করা ফৌজদারি বিবিধ মামলার রুল ও আপিল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে এসব মামলার সকল আসামির হাইকোর্ট থেকে পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বাতিল হয়ে গেল।’

'রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে তিন বিচারপতিকে বিরত রাখা'

'রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে তিন বিচারপতিকে বিরত রাখা'
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, পুরনো ছবি

তিন বিচারপতিকে বিরত রাখার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, 'রাষ্ট্রপতির (আবদুল হামিদ) সম্মতিতে প্রধান বিচারপতি সিদ্ধান্তটা নিয়েছেন। এখন এ বিষয়ে কীভাবে তদন্ত করবেন, অনুসন্ধান কীভাবে হবে তা প্রধান বিচারপতি ঠিক করবেন।'

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

কি ধরনের অভিযোগ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'অভিযোগ কী সেটা অনুসন্ধানের পরেই জানা যাবে। কী অভিযোগ তা জনসম্মুখে প্রকাশ করাটা বিচার বিভাগের জন্য শুভ হবে না। আর এটা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির বিষয়।'

এ রকম কি নজির আছে, কোনো অভিযোগ প্রমাণ ছাড়াই বিচার কাজ থেকে বিরত রাখার? এমন প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, 'অভিযোগ আছে কী নাই সেটা অনুসন্ধানের পরেই বোঝা যাবে'।

সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের মাধ্যমে তদন্ত হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সেটাও প্রধান বিচারপতি এবং রাষ্ট্রপতিই ঠিক করবেন। বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার জন্য কী পদক্ষেপ নেবেন তা ওনারাই ঠিক করবেন।'

বারের পক্ষ থেকে এই তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'বারের সাধারণ সদস্যরা সব সময়ই চান বিচার বিভাগ কলুষমুক্ত যাতে থাকে এবং ভাবমূর্তি যেন সাধারণ জনগণের কাছে উজ্জ্বল থাকে।'

পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে? অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, 'সেটা রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নেবেন'।

আজকের এই পদক্ষেপ সমস্ত বিচার বিভাগের জন্য নতুন বার্তা কিনা? জবাবে তিনি বলেন, 'নিশ্চয়ই। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকতে পারে না। কোনো মন্ত্রী থাকতে পারে না, কোনো বিচারপতিও থাকতে পারে না এবং আমরা সাধারণ মানুষও থাকতে পারি না। কাজেই এটা অবশ্যই একটি ইঙ্গিত যাবে অন্যান্যদের কাছে যারা নিজেদেরকে সঠিক পথে পরিচালনা করছেন না।'

আরও পড়ুন: ‘আরও অনেক বিচারপতি দুর্নীতিতে জড়িত’

আরও পড়ুন: ছুটিতে তিন বিচারপতি

আরও পড়ুন: হাইকোর্টের ৩ বিচারপতিকে বেঞ্চ দেওয়া হয়নি

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র