Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

কুমিল্লার মামলায় খালেদার ৬ মাসের জামিন

কুমিল্লার মামলায় খালেদার ৬ মাসের জামিন
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে দায়ের করা হত্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছয়মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৬ মার্চ) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মুজিবুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ৫ মার্চ এ খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও খন্দকার মাহবুব হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

২০১৫ সালের শুরুর দিকে ২০ দলীয় জোটের অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামে দুষ্কৃতিকারীদের ছোড়া পেট্রোল বোমায় আইকন পরিবহনের একটি বাসের কয়েকজন যাত্রীর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়।

আহত হন আরও ২০ জন। এ ঘটনায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে এ মামলায় খালেদা জিয়াকে আসামি দেখানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

আদালতে না নিয়ে সাজা: সতর্ক করা হলো চট্টগ্রামের ইউএনও, ওসিদের

আদালতে না নিয়ে সাজা: সতর্ক করা হলো চট্টগ্রামের ইউএনও, ওসিদের
ছবি: সংগৃহীত

গ্রেফতার বা আটকের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে হাজির না করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সতর্ক করেছেন চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।

একটি বিজ্ঞপ্তিতে আইন বহির্ভূত এ ধরনের সাজা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের কারণে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রামের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) কামরুন নাহার রুমীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কীকরণ করা হয়েছে। নোটিশটি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমের হাতে এসেছে বুধবার (২১ আগস্ট)।

নোটিশে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলার থানার ওসিরা ধৃত আসামিদের নিয়মিত আদালতে হাজির না করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করছে। এরপর ইউএনও এবং এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার ভূমি) তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিচ্ছে। যা স্থানীয় পত্রিকা ও বিভিন্ন উৎস থেকে গোচরীভূত হয়েছে সিজেএম কার্যালয়ে।

এ ধরণের সাজা দেওয়া ঘটনা ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯ এবং হাইকোর্টের রায়ের লঙ্ঘন।

২০১৭ সালের ১৪ মে স্বপ্রণোদিত রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রাষ্ট্র বনাম ইউএন, সখীপুর টাঙ্গাইল এবং অন্যান্য মামলায় ঘোষিত এক রায়ে বলা হয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচার শুরুর আগে পুলিশের হাতে আটক বা গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯ এ শাস্তি প্রদানের সুযোগ নেই। যদি কোন ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয় তাহলে ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতের সম্পূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া কুলষিত বলে বিবেচিত হবে। ঘোষিত শাস্তি অবৈধ ও এখতিয়ার বহির্ভূত হবে।

নোটিশে বলা হয় সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ মোতাবেক এ রায় মানা সকলের জন্য বাধ্যকর।

টাঙ্গাইলের সখিপুরে প্রতীমা পাবলিক হাইস্কুলের শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে ইউএনও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ বছরের সাজা দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘বয় জেলড ফর এফবি কমেন্ট অ্যাবাউট এমপি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা হাইকোর্টের নজরে আনেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে স্বপ্রণোদিত রুল জারি এবং পরে সখীপুরের ইউএনও মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং ওসি মোহাম্মদ মাকসুদুল আলমকে তলব করেন হাইকোর্ট।

২০১৭ সালের ১৪ মে রুল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্ট স্কুল শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া দুই বছরের সাজা অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে সাব্বির শিকদারকে নির্যাতনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ইউএনও এবং ওসিকে সখীপুর থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট ।

শিশু আইনের অস্পষ্টতা ও অসঙ্গতি সংশোধন চান হাইকোর্ট

শিশু আইনের অস্পষ্টতা ও অসঙ্গতি সংশোধন চান হাইকোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

শিশু আইনে সাংঘর্ষিক বিধান, অসঙ্গতি, অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি দূর করতে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন হাইকোর্ট। এ জন্য শিশু আইন সংশোধন অথবা শিশু আইন ২০১৩-এর ৯৭ ধারার আলোকে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অস্পষ্টতা ও অসঙ্গতি দূর করতে পারে সরকার।

আদালত বলেছেন, বলতে দ্বিধা নেই যে, শিশু আইন ও আদালত নিয়ে বর্তমানে নিম্ন আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগে এক ধরনের বিচারিক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

শিশু আইনের একটি মামলায় জামিন চেয়ে করা আপিলের পর্যবেক্ষণে এমন অভিমত দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২১ আগস্ট) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জনাব মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: শ্রমিক পাঠানোর সিন্ডিকেট: তদন্ত ৩ মাসে শেষ করার নির্দেশ

গত ১ আগস্ট পুরান ঢাকার মো. ওসমান হত্যা মামলার আসামি শিশু মো. হৃদয়ের জামিন আবেদন বিষয়ক এক মামলায় হাইকোর্ট সংক্ষিপ্ত রায় দেন। বুধবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী। আসামি শিশু হৃদয়ের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন এম মশিউর রহমান। শিশু মো. হৃদয়কে জামিন দিয়েছেন আদালত।

অবগতি ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এই রায়ের অনুলিপি সংশ্লিষ্ট আদালত/ট্রাইব্যুনালসহ সমাজকল্যাণ সচিব, আইন সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আরও পড়ুন: সরষের মধ্যে ভূত থাকার দরকার নাই: হাইকোর্ট

রায়ে ভবিষ্যতে জটিলতা এড়াতে ৭ দফা নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো-

  • সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট কেবলমাত্র মামলার তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করবেন এবং এ সংক্রান্ত নিত্যনৈমিত্তিক প্রয়োজনীয় আদেশ এবং নির্দেশনা প্রদান করবেন।
  • রিমান্ড সংক্রান্ত আদেশ শিশু আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে, আইনের সংস্পর্শে আসা শিশু (ভিকটিম এবং সাক্ষী) বা আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর জবানবন্দি সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট লিপিবদ্ধ করতে পারবেন।
  • তদন্ত চলাকালীন সময়ে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুকে মামলার ধার্য তারিখে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা হতে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে।
  • তদন্ত চলাকালে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুর রিমান্ড, জামিন, বয়স নির্ধারণসহ অন্তর্বর্তী যেকোনো বিষয় শিশু আদালত নিষ্পত্তি করবে এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো আবেদন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল হলে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট নথিসহ ওই দরখাস্ত সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতে পাঠাবেন এবং সংশ্লিষ্ট শিশু আদালত ওই বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করবে।
  • অপরাধ আমলে গ্রহণের পূর্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শিশু আইনের অধীনে কোনো আদেশ প্রদানের ক্ষেত্রে ‘শিশু আদালত’ হিসেবে আদেশ প্রদান করবে এবং এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ বিচারক শিশু আদালতের বিচারক হিসেবে কার্য পরিচালনা এবং শিশু আদালতের নাম ও সিল ব্যবহার করবেন।
  • আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতি হলো এই যে, আইন মন্দ বা কঠোর হলেও তা অনুসরণ করতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত তা সংশোধন বা বাতিল না হয়। নালিশি মামলার ক্ষেত্রে শিশু কর্তৃক বিশেষ আইনসমূহের অধীনে সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিশেষ আদালত বা ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনাল শিশু আইনের বিধান ও অত্র রায়ের পর্যবেক্ষণের আলোকে অভিযোগ গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম গ্রহণের পরে অপরাধ আমলে গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কাগজাদি (নথি) সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট পাঠাবে। অতঃপর ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান এবং অপরাধ আমলে গ্রহণ করলে পরবর্তীতে কাগজাদি বিচারের জন্য শিশু আদালতে পাঠাবেন।
  • শিশু আইনের প্রাধান্যতার কারণে বিশেষ আইনসমূহের অধীনে জিআর মামলার ক্ষেত্রে শিশু কর্তৃক সংঘটিত অপরাধের জন্য পৃথক পুলিশ প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান থাকায় সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন।

রায়ে আদালত বলেন, আমাদের বলতে দ্বিধা নেই যে, শিশু আইনের ১৫ক নম্বর ধারা, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৭ নম্বর ধারা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০-এর ২৭ নম্বর ধারা এবং ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৪৮ নম্বর ধারাসহ বিভিন্ন বিশেষ আইনের সঙ্গে শুধু অসংগতিপূর্ণ নয়, সাংঘর্ষিকও বটে।

আরও পড়ুন: এখনো কি উত্তরের মশা দক্ষিণে যায়, প্রশ্ন হাইকোর্টের

আদালত বলেন, শিশু আইনের প্রাধান্যতার কারণে যদি যুক্তি দেওয়া হয় যে, থানার দায়েরকৃত মামলা, অর্থাৎ জিআর মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন তাহলে সেটা হবে শিশু আইন প্রণয়নের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পরিপন্থী। শুধু তাই নয়, একই আইনের অধীনে শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে গ্রহণ করবেন ম্যাজিস্ট্রেট, আর প্রাপ্ত বয়স্কদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল বা ক্ষেত্রমত, আদালত, যা বাস্তবতা বিবর্জিত এবং অদ্ভুত বা অস্বাভাবিক একটি প্রস্তাবনা।

আদালত রায়ে আরও বলেন, ‘এখানে উল্লেখ করা আরও প্রাসঙ্গিক হবে যে, শিশু আইনের অধীনে কোনো আদেশ প্রদানকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নাম, সিল ও পদবী ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। আমরা লক্ষ্য করছি যে, বিচার পূর্বকালীন সময়ে বিভিন্ন আদেশ প্রদানকালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের নাম, সিল ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সংক্ষুব্ধ পক্ষের উচ্চতর আদালতে আসার ক্ষেত্রে এখতিয়ার নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র