Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

'প্যারোল' কী?

'প্যারোল' কী?
ছবি: প্রতীকী
মুজাহিদুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়া না পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসতেই 'প্যারোল' টার্মটি বেশ আলোচিত হচ্ছে। প্যারোলে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সরকারের এমপি-মন্ত্রী ও বিএনপি নেতারা দিচ্ছেন বিভিন্ন বক্তব্য। কিন্তু প্যারোল শব্দটির সঙ্গে অনেকেই পরিচিত নয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্যারোল নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে।

প্যারোল হলো- আইনগত পরিভাষা। সাজাপ্রাপ্ত কোনো আসামিকে নজরদারিতে রেখে শর্তসাপেক্ষে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লোকালয়ে মুক্তভাবে চলাফেরার সুযোগ দেওয়াকে প্যারোলে মুক্তি বলা যায়।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ১ জুন প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ওই নীতিমালায় কারাবন্দীদের মুক্তির পথ বলে দেয়া রয়েছে।

(ক) সাধারণ নীতিমালা:

১ (ক) ধারায় বলা হয়েছে, ভিআইপি/অন্যান্য সকল শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দীর নিকট আত্মীয় (যেমন: বাবা-মা, শ্বশুর-শাশুড়ি, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি এবং আপন ভাই-বোন) মারা গেলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে।

১ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, ভিআইপি/অন্যান্য সকল শ্রেণির কয়েদি/হাজতি বন্দীর নিকট আত্মীয়র মৃত্যু ছাড়াও কোনো আদালতের আদেশ কিংবা সরকারের বিশেষ সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্যারোলে মুক্তি দেওয়া প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্দীকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে। উভয় ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও দূরত্ব বিবেচনায় প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ সময় নির্ধারণ করে দেবেন।

২ নং ধারায় বলা হয়েছে, সে ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় রাখতে হবে।

৩ নং ধারায় বলা হয়েছে, মুক্তির সময়সীমা কোনো অবস্থাতেই ১২ ঘণ্টার বেশি হবে না। তবে বিশেষক্ষেত্রে সরকার মুক্তির সময়সীমা হ্রাস/বৃদ্ধি করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।

৪ নং ধারায় বলা হয়েছে, কোনো বন্দী জেলার কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক থাকলে ওই জেলার অভ্যন্তরে যে কোনো স্থানে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন। অপরদিকে কোনো বন্দী নিজ জেলায় কো-কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক না থেকে অন্য জেলায় অবস্থিত কোনো কেন্দ্রীয়/জেলা/বিশেষ কারাগার/সাব জেলে আটক থাকলে গন্তব্যের দূরত্ব বিবেচনা করে মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর করতে পারবেন। তবে উভয় ক্ষেত্রেই দুর্গম এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, দূরত্ব বা নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ প্যারোল মঞ্জুর বা না মঞ্জুরের ক্ষমতা সংরক্ষণ করবেন।

৫ নং ধারায় বলা হয়েছে, কারাগারের ফটক থেকে পুলিশ প্যারোলে মুক্ত বন্দীকে বুঝে নেবার পর অনুমোদিত সময়সীমার মধ্যেই পুনরায় কারাগারে প্রেরণ করবেন।

(খ) প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ:

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্যারোল মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'প্যারোল হচ্ছে আসামির আবেদনের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা সরকার কর্তৃক মুক্তি লাভ।'

এর আগে দেশে যারা প্যারোলে মুক্তি নিয়েছেন

তারেক রহমান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্যারোলে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান।

দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী সন্তানের মৃত্যুতে প্যারোলের মাধ্যমে জানাজায় অংশ নেন।

কামারুজ্জামান, ২২ আগস্ট ২০১২ সালে মানবতা বিরোধী অপরাধে কারাগারে আটক অবস্থায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামান তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নেন এবং জানাজার নামাজে ইমামের দায়িত্ব পালন করেন।

খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের ১৯ জানুয়ারিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কারাগারে বন্দী অবস্থায় মায়ের মৃত্যুর পর প্যারোল নিয়েছিলেন।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০১৬ সালের ১২ জুলাই মা জোবাইদা রহমানের মৃত্যুর পর প্যারোলে ১২ ঘণ্টার মুক্তি পেয়েছিলেন।

পাকিস্তান

পাকিস্তানের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের স্ত্রী কুলসুম নওয়াজের মৃত্যুর পর ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন। এমনকি তার মেয়ে মরিয়ম শরিফ ও জামাতা অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ সাফদারও প্যারোলে মুক্তি পান।

ভারত

৩০ দিনের জন্য প্যারোলে মুক্ত হয়েছিলেন বলিউডের ‘মুন্নাভাই’ খ্যাত অভিনেতা সঞ্জয় দত্ত। ২০১৩ সালের মে মাসে জেলে যাবার পর তিন দফায় প্যারোল নিয়েছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

মিন্নির রিমান্ড ও জবানবন্দির তথ্য জানতে চান হাইকোর্ট

মিন্নির রিমান্ড ও জবানবন্দির তথ্য জানতে চান হাইকোর্ট
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বরগুনায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা নিহতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদনের ওপর মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) আদেশ দেবেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১৯ আগস্ট) বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে জামিন আবেদনের শুনানি হয়।

আরও পড়ুন: রিফাতকে মেরে ফেলবে এমন তথ্য জানত না মিন্নি

শুনানিতে আদালত মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্নার কাছে জানতে চান, পুলিশ সুপার যে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন সেটা আসামির (মিন্নি) স্বীকারোক্তি জবানবন্দির আগে ছিল কি না, কতো তারিখে হয়েছিল? আইনজীবী তারিখ জানাতে না পারলে আদালত বলেন, মঙ্গলবার এসব উল্লেখ করে সম্পূরক আবেদন নিয়ে আসুন। এদিন দুপুর ২টায় রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য শুনে আদেশ দেওয়া হবে বলে জানান আদালত।

শুনানিতে আইনজীবী মিন্নিকে গ্রেফতার ও রিমান্ডের বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মিন্নিকে থানা বা জেল হাজতে রিমান্ডে না নিয়ে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়েছিল। আদালত বলেন, রিমান্ডের আগে না পরে পুলিশ লাইনে নিয়েছিল ? আইনজীবী বলেন, পুলিশ লাইনেই। আদালত বলেন, পুলিশ ফরওয়ার্ডিং তা বলছে না। এখানে সেটা নেই।

আরও পড়ুন: বন্দুকযুদ্ধের কথা শুনেই আলহামদুলিল্লাহ বলেছি: মিন্নি

এর আগে গত রোববার (১৮ আগস্ট) মিন্নির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না আবেদন করেন।

গত ৮ আগস্ট বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ মিন্নির জামিন আবেদন ফেরত দেন। আদালত জামিন না দিয়ে রুল জারি করতে চাইলে আবেদনটি ফেরত নেন মিন্নির আইনজীবী। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর গত ৪ আগস্ট জামিন চেয়ে আবেদন করেন হাইকোর্টে।

বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি চেষ্টা করেও রিফাতকে বাঁচাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় প্রথমে মিন্নিকে সাক্ষী করা হলেও এক আসামির জবানবন্দিতে তার নাম আসলে আসামি হিসেবে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা: পদক্ষেপ কী জানতে চান হাইকোর্ট

কুলাউড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনা: পদক্ষেপ কী জানতে চান হাইকোর্ট
হাইকোর্ট

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরছাড়া রেলব্রিজে সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনা পর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানাতে রেলওয়ের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৪ অক্টোবরের মধ্যে তা জানাতে হবে আদালতকে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

জনস্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মৌলভীবাজারের বাসিন্দা ব্যারিস্টার ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ রিট আবেদনটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. তাজুল ইসলাম।

একইসঙ্গে পৃথক রুলে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের রেললাইন, রেল ব্রিজ ও কালভার্ট অবিলম্বে মেরামত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, কিম্যান, ওয়েম্যান, গ্যাংম্যান ও পার্মানেন্ট ওয়ে ইন্সপেক্টরদের এ ক্ষেত্রে সেবা নিশ্চিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বর্হিভূত হবে না এবং রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের রেললাইন, রেল ব্রিজ ও কালভার্ট অবিলম্বে মেরামত করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত, কিম্যান, ওয়েম্যান, গ্যাংম্যান ও পার্মানেন্ট ওয়ে ইন্সপেক্টরদের এ ক্ষেত্রে সেবা নিশ্চিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

৪ সপ্তাহের মধ্যে রেল সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক, মহাব্যবস্থাপক (পূর্ব জোন), বিভাগীয় প্রধান (পূর্ব জোন) ও একই জোনের প্রধান প্রকৌশলীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ২৩ জুন রাত পৌনে ১২টার দিকে কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল স্টেশনের পাশে বরছড়া রেলব্রিজে রেল দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়।

পরে ২৯ জুন একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সেতুর কাছে ছয় মাসে সাতটি দুর্ঘটনা’ শীর্ষক প্রকাশিত প্রতিবেদনসহ বিভিন্ন দৈনিকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তা যুক্ত করে রিট করা হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র