Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী নূর উদ্দিনের মৃত্যু

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী নূর উদ্দিনের মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
নেত্রকোনা
বার্তা২৪.কম:


  • Font increase
  • Font Decrease

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত নূর উদ্দিন ওরফে রদ্দীন (৭০) নামের এক পলাতক আসামি মারা গেছেন। সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকায় তিনি মারা যান।

তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার পূর্বধলার জারিয়া ইউনিয়নের পূর্ব মৌদাম গ্রামে। পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় নূর উদ্দিন ওরফে রদ্দীন পলাতক থাকা অবস্থায় প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হন। চলতি বছরের ২৮ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার পলাতক পাঁচ রাজাকারের মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, উপজেলার খারছাইল গ্রামের আবদুল খালেক তালুকদার (৬৭), উপজেলা সদরের মো. কবির খান (৭০), পূর্বমৌদাম গ্রামের শেখ আবদুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানা (৬৬), একই গ্রামের আবদুস সালাম বেগ (৬৮) ও মো. নূরউদ্দিন ওরফে রদ্দীন (৭০)।

এই মামলায় প্রথমে সাতজন আসামি ছিলেন। সাত আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিল তদন্ত সংস্থা। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট সব আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। ওইদিনই আসামি আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে ট্রাইব্যুনালে এই মামলার যুক্তিতর্কের সময় গ্রেফতারকৃত আবদুর রহমান (৭০) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।এর আগে আসামি আহমদ আলী (৭৮) অভিযোগ (চার্জ) গঠনের আগেই ২০১৫ সালের ৮ অক্টোবর মারা যান।

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বাড়হা গ্রামের আবদুল খালেককে হত্যার ঘটনায় খালেকের ছোট ভাই মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদির ২০১৩ সালে এ মামলাটি করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ২১ আগস্ট আবদুল খালেককে গুলি করে হত্যার পর কংস নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়। পরে মামলাটি ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান কবির ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে পরের বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত করেন। এরপর তিনি ২০১৬ সালের ১৬ মার্চ প্রসিকিউশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রসিকিউশন বিভাগ ২০১৬ সালের ২২ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জ দাখিল করে। একই বছর ১২ জুন অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই আসামিদের বিরুদ্ধে একাত্তরে ডা. হেম সুন্দর বাগচী হত্যা, নির্যাতন, লুন্ঠণসহ একাধিক মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামিরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের বাড়িতে নির্যাতন, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায় বলে প্রসিকিউশনে অভিযোগ রয়েছে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান বলেন, স্বজনরা তার লাশ বাড়িতে আনার জন্য গাজীপুরের জয়দেবপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। লাশ বাড়িতে এলে পুলিশ প্রশাসন যাবে ও পরে তার মৃত্যুর বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

মিল্কভিটা, আড়ং, প্রাণসহ ১৮ পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর কিছু পায়নি বিএসটিআই

মিল্কভিটা, আড়ং, প্রাণসহ ১৮ পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর কিছু পায়নি বিএসটিআই
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

১৮টি পাস্তুরিত-ইউএইচটি দুধের নমুনা পরীক্ষায় ক্ষতিকর উপাদান খুঁজে পায়নি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। হাইকোর্টে দাখিল করা একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি ইকবাল কবির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টেও দ্বৈত বেঞ্চে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় বিএসটিআই।

বিএসটিআইর প্রতিবেদনে ১৪টি ব্যান্ডের ১৮টি পাস্তুরিত দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যয়িনি। প্রতিবেদন অনুসারে ব্যান্ডগুলো হলো-বেড়ার ইছামতি ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের ‘পিউরা’, নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ড্যানিশ ডেইরি ফার্মের ‘আয়রান’, গাজীপুরের জয়দেবপুরের ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের ‘আড়ং ডেইরি’, ঢাকার ধামরাইর আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘ফার্ম ফ্রেশ দুধ’, গাজীপুরের শ্রীপুরের আমেরিকান ডেইরির ‘মো’, ঢাকার মিরপুর-৭ বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়নের ‘মিল্কভিটা’, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের আফতাব মিল্ক অ্যান্ড মিল্ক প্রোডাক্টসের ‘আফতাব’, কুষ্টিয়ার কামারখালীর শিলাইদহ ডেইরির ‘আল্ট্রা’, পাবনার বেড়ার তানিয়া ডেইরি অ্যান্ড ফুড  ‘প্রাণ মিল্ক’, নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারের বারো আউলিয়া ডেইরি মিল্ক অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টেসের ‘ডেইরি ফ্রেশ’, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের উত্তকবঙ্গ ডেইরীর ‘মিল্ক ফ্রেশ’, ‘প্রাণ মিল্ক’, ঢাকার ধামরাইর আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘ফার্ম ফ্রেশ মিল্ক’, ঢাকার গুলশানের রাফি অ্যান্ড ব্রাদার্সের ‘কাউহেড পিউর মিল্ক’,  ব্র্যাক ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের ‘আড়ং ডেইরি’।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তানভীর আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী জিনাত হক।

প্রতিবেদন দাখিলের পর আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করেছেন আদালত।

২০১৮ সালের ২০ মে পাস্তুরিত দুধে ব্যাকটেরিয়ার রয়েছে এমন দাবি করে জনস্বার্থে রিট দায়ের করেন আইনজীবী তানভির আহমেদ। একইবছরের ১৭ মে ‘পাস্তুরিত দুধের ৭৫ শতাংশই নিরাপদ নয়’ শিরোনামে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে তিনি তা আদালতের নজরে আনেন।

আদালত ওই আইনজীবীকে রিট আকারে আবেদন নিয়ে আসতে বলেন। এরপর আইনজীবী তানভীর আহেমদ রিট করেন। রিটের পর বাজারে পাওয়া যায় এমন সব ব্র্যান্ডের পাস্তুরিত দুধের মান পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

ভাগ্নের জামিন নামঞ্জুরের খবরে আদালতেই খালার মৃত্যু

ভাগ্নের জামিন নামঞ্জুরের খবরে আদালতেই খালার মৃত্যু
আদালতের বারান্দায় ওই নারীর মরদেহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

ভাগ্নের জামিন নামঞ্জুর হওয়ার আদেশ শুনে অসুস্থ হয়ে আদালতের বারান্দায় মারা গেলেন আসামির খালা জোহরা (৫০)।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং দেউলিয়া বিষয়ক আদালতের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর ৭২৫ পুরিয়া (১৫২ গ্রাম) হেরোইন রাখার অভিযোগে ঢাকার দোহার থানাধীন বরইক্রাসি গ্রামের আমির আলী মাদবরের ছেলে মো. রুবেলের (২৭) নামে মামলা হয়।

ওই বছরের ২১ নভেম্বর পুলিশ রুবেলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করলে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এবং দেউলিয়া বিষয়ক আদালতে বিচারের জন্য পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার মামলাটি সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আসামি রুবেলের জামিনের আবেদন করা হয়। গত ৮ মাস তিনি কারাগারে আটক আছেন।

রুবেলের আইনজীবী রজব হোসেন বলেন, 'মঙ্গলবার আসামির জামিনের শুনানির সময় খালা জোহরা এবং বোন বেবি হাজির ছিলেন। শুনানির পর বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে দেন। আদালত কক্ষেই ছিলেন খালা জোহরা।

তিনি জানান, জামিন না মঞ্জুরের খবরে আদালত কক্ষেই অসুস্থ হয়ে পড়েন জোহরা। তাকে ধরাধরি করে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আদালতের বারান্দায় আনা হলে সেখানেই তিনি মারা যান।

তবে আদালতের পেশকার বলেন, 'ওই মামলায় জামিন শুনানির সময়ই ওই মহিলা আদালতের বারান্দায় চিল্লাচিল্লি শুরু করেন। বিচারক তাকে ডেকে শান্ত হতে বলে আদেশ পরে দেবেন বলে আদেশ দেন।'

পরে জানতে পারি, ওই মহিলা আদালতের বারান্দায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিচে নামানোর সময় লিফটেই মারা যান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র