Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

রাবি ভিসির নিয়োগের বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ

রাবি ভিসির নিয়োগের বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান, ছবি: সংগৃহীত
রাবি করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের দ্বিতীয় দফায় নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করে তা জানাতে বলা হয়েছে। বুধবার (১৫মে) এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ীর কানাইডাঙ্গা গ্রামের সালমান ফিরোজ ফয়সালের পক্ষে আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, শিক্ষা সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও অধ্যাপক আব্দুস সোবহানের নিজ বিভাগের (ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক্স বিভাগ) সভাপতির কাছে এই নোটিশ নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশে বলা হয়েছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ২০১৭ সালের মে মাসের ৭ তারিখে দ্বিতীয় মেয়াদে ৪ (চার) বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে আব্দুস সোবহানকে নিয়োগ প্রদান করেন। সেদিনই তিনি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরে উপাচার্য থেকে নিজস্ব বিভাগ ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে জুন মাসের ২১ তারিখে দুপুরে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন।

একইদিনে বিকালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। এতে করে উপাচার্য পদে সাময়িক শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল। সেখানে রাষ্ট্রপতির বিনা অনুমতিতে একদিনের জন্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. আখতার ফারুককে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নীতিবিরোধী।

নোটিশে আরও বলা হয়, আবার পুনরায় একই তারিখ বিকালে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন আব্দুস সোবহান। জুলাই মাসের ২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটর অসাধারণ (এক্সটা অর্ডিনারী) সভায় জুন মাসের ২১ তারিখের স্বেচ্ছায় অবসর অনুমোদিত হয়। সিন্ডিকেটের উক্ত সভায় বেআইনিভাবে নিজে সভাপতিত্ব করেন।

এরপর ২৯ তারিখে অবসর গ্রহণ করবেন মর্মে ২০১৭ জুন মাসের ২৪ তারিখে এক পত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছের আবেদন করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি সেটা গ্রহণ করেন এবং অবসর পরবর্তী উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের অনুমতি প্রদান করেন। এর আগেই একই মাসের ২১ তারিখে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

কিন্তু তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে তথ্য গোপন রেখে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন। ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখে সিন্ডিকেটের ৪৭৩ তম সভায় উপাচার্য নিজেই সভাপতিত্ব করে তার ভবিষ্যৎ তহবিলের জমাকৃত অর্থ সুদসহ উত্তোলন করার সিদ্ধন্ত গ্রহণ করেন। উপাচার্য তার পেনশন ভাতার আশি লাখ সাতাশি হাজার আটশত উনসত্তর টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে উত্তোলন করেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য নিয়োগ পাওয়ার পরে হঠাৎ করে নিজ বিভাগ থেকে পদত্যাগের কারণ ছিল, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসের ৯ তারিখে জারিকৃত পেনশন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন পাশ কাটিয়ে তার প্রাপ্য পেনশনের শতভাগ টাকা উত্তোলন করা। উক্ত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১ জুলাই ২০১৭ তারিখ হতে পেনশনারগণ তাদের প্রাপ্য পেনশনের শতকরা ৫০ ভাগ বাধ্যতামূলক সমর্পণ করে অবশিষ্ট ৫০ ভাগের নির্ধারিত হারে মাসিক পেনশন প্রাপ্য হবেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩ ‘লঙ্ঘন করে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অসত্য তথ্য প্রদান করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মত সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা হারিয়েছেন। উপাচার্য এই আইনি নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে পদত্যাগ করার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমান ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফুল ইসলাম নাহিদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। এ ব্যাপারে এখনো কোনো আইনি নোটিশ পাইনি।’

এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এম এ বারীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও  তাকে পাওয়া যায়নি। 

আপনার মতামত লিখুন :

যানজট নিরসনে মাস্টার প্ল্যান করার নির্দেশ হাইকোর্টের

যানজট নিরসনে মাস্টার প্ল্যান করার নির্দেশ হাইকোর্টের
পুরনো ছবি

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে আগামী তিন মাসের মধ্যে তা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে ঢাকার যানজট নিরসনে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানিতে রোববার (২১ জুলাই) বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টেও দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান জনস্বার্থে রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন, রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম।

রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, পরিকল্পনা সচিব, অর্থ সচিব, পরিবেশ সচিব, রাজউকের চেয়ারম্যান, ঢাকা সিটির দুই মেয়র, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

একটি দৈনিকে 'যানজটে বছরে ক্ষতি ৩৭ হাজার কোটি টাকা' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করা হয়েছে রিট আবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যানজটের কারণে শুধু ঢাকায় দৈনিক ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। রাজধানীতে যানজটের কারণে একটি যানবাহন ঘণ্টায় যেতে পারে গড়ে পাঁচ কিলোমিটার। ১২ বছর আগেও এ গতি ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকায় যাত্রীদের মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। এ চাপ আবার কাজ করছে অন্যান্য রোগের উৎস হিসেবে।

মৃত রোগীর চিকিৎসার নামে বিল আদায়, সঠিক তদন্তের আশা বাদীর

মৃত রোগীর চিকিৎসার নামে বিল আদায়, সঠিক তদন্তের আশা বাদীর
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ভুল চিকিৎসায় রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মো. শহিদ উল্লাহর মৃত্যুর অভিযোগ করেছেন তার ছেলে মো. কামাল হোসেন। এ ঘটনার গত ১৭ জুলাই তিনি বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত। বাদী কামাল হোসেনের আশা পিবিআই প্রভাবিত না হয়ে যথাযথ তদন্ত প্রতিবেদন দেবে আদালতে।

রোববার (২১ জুলাই) বেলা ১ টায় ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন মো. কামাল হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন সৃষ্টি হিউম্যান রাইটস সোসাইটির চেয়ারম্যান আনোয়ার-ই-তাসলিমা।

প্রসঙ্গত, মৃত্যুর পরেও রোগীর চিকিৎসার নামে অতিরিক্ত বিল আদায়ের অভিযোগে গত ২১ জুন তুলকালাম হয়েছিল হাসপাতালটিতে।  এ ঘটনায় মৃত রোগীর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি ও পরে মামলা করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

কামাল হোসেন বলেন, বিশেষজ্ঞদের মতে একজন রোগীর সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৩ বার ডায়ালাইসিস দেওয়া যায়। তা সত্ত্বেও আমার বাবার ক্ষেত্রে ২০ দিনে ২৩টি ডায়ালাইসিস দেওয়া হয়েছিল। যা সাধারণ নিয়মের চেয়ে ৮টি বেশি। এ অতিরিক্ত ডায়ালাইসিস দেওয়া হয়েছে বেশি মুনাফা তথা বিল আদায় করতে।

হাসপাতাল থেকে দেওয়া ওষুধের বিল তুলে ধরে তিনি জানান, মাত্র ৩১ দিনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের ২ লাখ ৪১ হাজার ৮৪২ টাকার ওষুধ বিল করেছে। গত ১৪ মে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ৩৬ দিনে মোট বিল করেছে ১০ লাখ ২ হাজার ৭৮ টাকা।

তিনি বলেন, আমার বাবাকে ভুল চিকিৎসায় ইচ্ছাকৃতভাবে মেরে ফেলার প্রতিবাদ করলে গত ২১ জুন হাসপাতালের চেয়ারম্যান প্রীতি চক্রবর্তী আমাদের হুমকি দিয়ে বলেন, তেজগাঁও এলাকার উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার (বর্র্তমানে রংপুর আছেন) আমার ভাই। সুতরাং এ বিষয়ে কথা বলে লাভ নেই। শুধু তাই নয়, এখনো আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অপচিকিৎসা, অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে ২৫ জুন আমাদের নামে মিথ্য ও বানোয়াট অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। অথচ ঘটনাস্থলে একাধিক গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সেদিন হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ দেখা হলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তিনি দাবি করেন।

আনোয়ার-ই-তাসলিমা বলেন, সেদিন আমি হাসপাতালে গিয়েছি মানবতার খাতিরে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাকেও মামলার আসামি করেছে। আমি এমন কিছু করিনি যে মামলার আসামি হতে হবে। আমি এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার দাবি করছি।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র