শিশু অপহরণ: ২ জনের ফাঁসি, ৮ জনের যাবজ্জীবন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

টিএনজেড গ্রুপের মালিকের ছেলে আবির (৮) অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মামলায় দুই আসামির ফাঁসি নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া দুই সহোদরসহ আট আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মশিউর রহমান (৪০) ও মিজানুর রহমান ওরফে মিজান মাতুব্বর (৩৫)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রেজাউল করিম (৩৬), নজরুল ইসলাম (৩২), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৮), ইকবাল হোসেন শুভ (২৮), সজীব আহমেদ ওরফে কামাল উদ্দিন (৪৭), আলিম হোসেন চন্দন ওরফে চঞ্চল (২৭), দুই সহোদর কাউসার মৃধা (২৫) ও রেজা মৃধা (৩০)।

মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের বিভিন্ন অংকের অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে কাউসার মৃধা ও রেজা মৃধা পলাতক আছেন। বাকি আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় জহির উদ্দিন বাবর ও শাহ মো. অলিউল্লাহকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. খাদেম উল কায়েস এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের বিবরণ থেকে জানা যায়, টিএনজেড গ্রুপের মালিক শাহাদাত হোসেনের ছেলে আবির (৮) উত্তরার একটি মাদরাসায় পড়ত। তাকে অপহরণের জন্য প্রায় চার মাস ধরে পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও তথ্য সংগ্রহ করে অপহরণকারীরা।

২০১৫ সালের ২ মে আবির গাড়ি করে মাদরাসা থেকে বাসায় ফেরার পথে বনানী ফ্লাইওভারের নিচে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় দিয়ে আবিরের গাড়ি আটকায় ও তাকে তুলে নিয়ে যায়।

এরপর অপহরণকারীরা আবিরের মুক্তিপণ হিসেবে ১০ কোটি টাকা দাবি করেন। আবিরের পিতা গোপনে র‍্যাবকে জানায়। চারদিন দর-কষাকষির পর দুই কোটি টাকায় তারা রাজি হয়। এরপর আবিরের পিতা এক কোটি ৭৩ লাখ টাকা অপহরণকারীদের ব্যাংক হিসাবে প্রদান করেন।

এছাড়া হোটেল র‌্যাডিসনের সামনে ২৭ লাখ টাকা নগদ দেন। এরপর অপহরণকারীরা শিশু আবিরকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেয়।

আবিরকে ফিরে পাওয়ার পর অপহরণকারীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করে র‌্যাব। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে অপহরণকারীদের ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তোলার সুযোগ বন্ধ করে দেয়।

এরপর একেক করে সব আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। রায় ঘোষণার আগে চার্জশিটের ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।

আপনার মতামত লিখুন :