Alexa

দেনমোহর

দেনমোহর

প্রতীকী ছবি

মুসলিম বিয়ের অন্যতম উপাদান দেনমোহর। এটি স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা বিধান করে। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর সম্মনসূচক একটি দায় বা দেনাও এটি। বিয়ের সময়ই দেনমোহর নির্ধারিত হওয়ার উচিৎ। কিন্তু তা না হলে বিয়ের পরও তা নির্ধারণ করা যায়।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- ‘আর তোমরা নারীদের তাদের মোহর স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে প্রদান করবে। (সুরা আন-নিসা, আয়াত-৪)।

দেনমোহর নিয়ে অনেকেরেই সঠিক ধারণা নেই। বার্তা২৪.কমের পাঠকদের জন্য দেনমোহরের কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো-

· বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ে অবশ্যই রেজিস্ট্রি হতে হবে। কাবিননামায় দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে। মৌলভী দিয়ে বিয়ে পড়ালে ইসলামী শরিয়ত মতে বিয়ে শুদ্ধ হবে। পরবর্তীতে তা রেজিস্ট্রি করে নেওয়া ভালো। নতুবা পরবর্তীতে আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হয়।

· দেনমোহর নির্ধারণে পাত্রের আর্থিক সামর্থকে প্রধান্য দিতে হবে। পাত্রের সামর্থের কথা চিন্তা না করে অধিক পরিমাণে দেনমোহর নির্ধারণে অপ্রীতিকর নানা ঘটনা ঘটে। তবে দেনমোহরের নির্ধারণে স্ত্রীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথাও মাথায় রাখতে হবে। স্ত্রীর পারিবারিক অবস্থা, বংশ মর্যাদা, স্ত্রীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, স্ত্রীর ফুফু, খালা ও বোনের মোহরের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

· স্বামীর সামর্থ থাকলে যেকোনো পরিমাণ দেনমোহর নির্ধারণ করা যায়। এর সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই। তবে নূন্যতম পরিমাণ হচ্ছে হানাফি মাজহাবের মতে ১০ দিরহাম বা এর সমপরিমাণ অর্থ। দেনমোহর নির্ধারণের পর স্বামী ইচ্ছা করলে বাড়াতে পারেন। কিন্তু কমানো যাবে না।

· দেনমোহর বিয়ের শুরুতেই দেওয়া ভালো। পরে দিলেও ক্ষতি নেই। এটি স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর দুই আনা প্রাপ্যের অতিরিক্ত।

· স্বামী বা স্ত্রী যে-ই তালাক দিক না কেন, স্ত্রী দেনমোহরের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না। স্বামীর মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তা আদায়যোগ্য। স্ত্রী স্বেচ্ছায় মাফ করা ছাড়া এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় নেই। বাসর রাতে মাফ চেয়ে নেওয়া কিংবা স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর লাশ সামনে রেখে মোহর মাফ করে নেওয়া স্বেচ্ছা প্রণোদিত নয়। বিধায় পরবর্তীতে স্ত্রী তা দাবি করতে পারে।

· দেনমোহর দুই ধরনের। একটি তাৎক্ষণিক আদায়যোগ্য দেনমোহর, অপরটি বিলম্বিত দেনমোহর। তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রী চাওয়া মাত্র পরিশোধ করতে হয়। বিলম্বিত দেনমোহর বিয়ের পর যেকোনো সময় পরিশোধযোগ্য। স্বামীর কাছে স্ত্রী তাৎক্ষণিক দেনমোহর চাওয়ার পর তা না পাওয়া পর্যন্ত স্ত্রী দাম্পত্য মিলনে অস্বীকার করতে পারেন।

· বিয়ে বলবৎ থাকাকালীন স্ত্রী স্বামীর কাছে দেনমোহর দাবি করতে পারেন। তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

· বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেওয়া শাড়ি, কসমেটিকস বা অন্যান্য জিনিসপত্র দেনমোহরের অংশ নয়। তবে যদি স্বর্ণের গয়না দেওয়া হয়, তবে তা দেনমোহরের অংশ হিসাবে কাবিননামায় উসুল হিসাবে দেনমোহর থেকে কর্তন করা যাবে।

· বিয়ের পর দাম্পত্য মিলনের আগেই তালাক হলে কিংবা স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকে দেনমোহরের অর্ধেক পরিশোধ করতে হয়।

· বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীকে উপহার হিসাবে বাড়ি-গাড়ি প্রভৃতি উপহার দিতে পারেন। এগুলো দেনমোহর নয়। দেনমোহর হতে হলে স্পষ্টভাবে দেনমোহরের কথা উল্লেখ করে দিতে হবে।

· দেনমোহর আদায়ে স্ত্রী আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। স্থানীয় সহকারি জজ আদালত যা পারিবারিক আদালত নামে পরিচিত ওই আদালতে এ মামলা করতে হয়।

· দেনমোহর আদায়ে তালাকের পর অথবা স্বামীর মৃত্যুর তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়। স্ত্রী আগে মারা গেলেও দেনমোহর মাফ হয় না। স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা দেনমোহরের হকদার। তারাও মামলা করতে পারেন। তিন বছরের মধ্যে এ মামলা না করলে দাবি তামাদি হয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :