Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

দেনমোহর

দেনমোহর
প্রতীকী ছবি
মবিনুল ইসলাম
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

মুসলিম বিয়ের অন্যতম উপাদান দেনমোহর। এটি স্ত্রীর আর্থিক নিরাপত্তা বিধান করে। স্ত্রীর প্রতি স্বামীর সম্মনসূচক একটি দায় বা দেনাও এটি। বিয়ের সময়ই দেনমোহর নির্ধারিত হওয়ার উচিৎ। কিন্তু তা না হলে বিয়ের পরও তা নির্ধারণ করা যায়।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে- ‘আর তোমরা নারীদের তাদের মোহর স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে প্রদান করবে। (সুরা আন-নিসা, আয়াত-৪)।

দেনমোহর নিয়ে অনেকেরেই সঠিক ধারণা নেই। বার্তা২৪.কমের পাঠকদের জন্য দেনমোহরের কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো-

· বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিয়ে অবশ্যই রেজিস্ট্রি হতে হবে। কাবিননামায় দেনমোহরের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে। মৌলভী দিয়ে বিয়ে পড়ালে ইসলামী শরিয়ত মতে বিয়ে শুদ্ধ হবে। পরবর্তীতে তা রেজিস্ট্রি করে নেওয়া ভালো। নতুবা পরবর্তীতে আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হয়।

· দেনমোহর নির্ধারণে পাত্রের আর্থিক সামর্থকে প্রধান্য দিতে হবে। পাত্রের সামর্থের কথা চিন্তা না করে অধিক পরিমাণে দেনমোহর নির্ধারণে অপ্রীতিকর নানা ঘটনা ঘটে। তবে দেনমোহরের নির্ধারণে স্ত্রীর অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথাও মাথায় রাখতে হবে। স্ত্রীর পারিবারিক অবস্থা, বংশ মর্যাদা, স্ত্রীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা, স্ত্রীর ফুফু, খালা ও বোনের মোহরের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

· স্বামীর সামর্থ থাকলে যেকোনো পরিমাণ দেনমোহর নির্ধারণ করা যায়। এর সর্বোচ্চ কোনো সীমা নেই। তবে নূন্যতম পরিমাণ হচ্ছে হানাফি মাজহাবের মতে ১০ দিরহাম বা এর সমপরিমাণ অর্থ। দেনমোহর নির্ধারণের পর স্বামী ইচ্ছা করলে বাড়াতে পারেন। কিন্তু কমানো যাবে না।

· দেনমোহর বিয়ের শুরুতেই দেওয়া ভালো। পরে দিলেও ক্ষতি নেই। এটি স্বামীর সম্পত্তিতে স্ত্রীর দুই আনা প্রাপ্যের অতিরিক্ত।

· স্বামী বা স্ত্রী যে-ই তালাক দিক না কেন, স্ত্রী দেনমোহরের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় না। স্বামীর মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে তা আদায়যোগ্য। স্ত্রী স্বেচ্ছায় মাফ করা ছাড়া এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় নেই। বাসর রাতে মাফ চেয়ে নেওয়া কিংবা স্বামীর মৃত্যুর পর স্বামীর লাশ সামনে রেখে মোহর মাফ করে নেওয়া স্বেচ্ছা প্রণোদিত নয়। বিধায় পরবর্তীতে স্ত্রী তা দাবি করতে পারে।

· দেনমোহর দুই ধরনের। একটি তাৎক্ষণিক আদায়যোগ্য দেনমোহর, অপরটি বিলম্বিত দেনমোহর। তাৎক্ষণিক দেনমোহর স্ত্রী চাওয়া মাত্র পরিশোধ করতে হয়। বিলম্বিত দেনমোহর বিয়ের পর যেকোনো সময় পরিশোধযোগ্য। স্বামীর কাছে স্ত্রী তাৎক্ষণিক দেনমোহর চাওয়ার পর তা না পাওয়া পর্যন্ত স্ত্রী দাম্পত্য মিলনে অস্বীকার করতে পারেন।

· বিয়ে বলবৎ থাকাকালীন স্ত্রী স্বামীর কাছে দেনমোহর দাবি করতে পারেন। তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

· বিয়ের সময় স্ত্রীকে দেওয়া শাড়ি, কসমেটিকস বা অন্যান্য জিনিসপত্র দেনমোহরের অংশ নয়। তবে যদি স্বর্ণের গয়না দেওয়া হয়, তবে তা দেনমোহরের অংশ হিসাবে কাবিননামায় উসুল হিসাবে দেনমোহর থেকে কর্তন করা যাবে।

· বিয়ের পর দাম্পত্য মিলনের আগেই তালাক হলে কিংবা স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকে দেনমোহরের অর্ধেক পরিশোধ করতে হয়।

· বিয়ের পর স্বামী স্ত্রীকে উপহার হিসাবে বাড়ি-গাড়ি প্রভৃতি উপহার দিতে পারেন। এগুলো দেনমোহর নয়। দেনমোহর হতে হলে স্পষ্টভাবে দেনমোহরের কথা উল্লেখ করে দিতে হবে।

· দেনমোহর আদায়ে স্ত্রী আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করতে পারেন। স্থানীয় সহকারি জজ আদালত যা পারিবারিক আদালত নামে পরিচিত ওই আদালতে এ মামলা করতে হয়।

· দেনমোহর আদায়ে তালাকের পর অথবা স্বামীর মৃত্যুর তিন বছরের মধ্যে মামলা করতে হয়। স্ত্রী আগে মারা গেলেও দেনমোহর মাফ হয় না। স্ত্রীর উত্তরাধিকারীরা দেনমোহরের হকদার। তারাও মামলা করতে পারেন। তিন বছরের মধ্যে এ মামলা না করলে দাবি তামাদি হয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ২ সিটির দক্ষতার অভাব দেখছেন হাইকোর্ট

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ২ সিটির দক্ষতার অভাব দেখছেন হাইকোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) যথাসময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এটা নিলে হয়তো পরিস্থিতি এমন হতো না। তাদের দক্ষতার অভাব রয়েছে। তারা (সিটি করপোরেশন) সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে জনগণের ওপর দায় চাপাচ্ছে। জনগণকে তাদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে বলা হচ্ছে। জনগণকে সচেতন হতে হবে-এটা ঠিক। কিন্তু সব দায় জনগণের এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

রোববার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এসব মন্তব্য করেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম প্রতিবেদন আকারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অবহিত করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকল সরকারি হাসপাতালে ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বিদেশ থেকে ওষুধ আমদানিতে শুল্ক মুক্ত করা হয়েছে। ১০টি সার্ভিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এরইমধ্যে ৪০টি হাসপাতালে ভ্রাম্যম্যাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। যেসব হাসপাতাল সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেছে তাদের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ 

আরও পড়ুন: সারাদেশে ডেঙ্গু রোগী ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে: ড. কামাল

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম। 

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, ‘ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কতজন মারা গেছে তা নিয়ে পত্রপত্রিকায় দুইরকম তথ্য দেখছি। সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে ৪৮ জন। কিন্তু বেসরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে ৭২জন। এটা নিয়ে দুইরকম তথ্য কেন?’

জবাবে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, ‘সরকারি হিসাবে ৪৮ জন। যারা ডেঙ্গুতে মারা গেছেন তাদের কারও কারও অন্য রোগ থাকতে পারে। কারও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়।’

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধ: সচেতনতার সাথে প্রয়োজন সঠিক পদক্ষেপ

এ সময় আদালত বলেন, ‘ধরে নিচ্ছি, ৪৮ জনই মারা গেছে। যারা মারা গেছে তাদের পরিবারের কি অবস্থা তা একবার ভেবে দেখুন। ডেঙ্গু এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। যথাসময়ে যদি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হতো, তাহলে হয়তো এত লোককে মরতে হতো না। গত ফেব্রুয়ারিতে আমরা সতর্ক করেছিলাম। দুই সিটির সচিবকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম। কিন্তু আমাদের আদেশের পর দুই সিটির কর্তা ব্যক্তিদের কাছ থেকে যে ধরনের কথাবার্তা শুনলাম তা কারও কাম্য নয়। ডেঙ্গু মশার লার্ভা ও ডিম থাকে পানিতে। উনারা সেটা পরিষ্কার না করে রাস্তায় ময়লা ফেলে পরিষ্কার করলেন। এটা নেহায়েতই হাস্যকর।’ 

আদালত আরও বলেন, ‘কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বছরের পর বছর একই ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। অথচ ওই ওষুধে কাজ হচ্ছে না। একটি ওষুধ বারবার ব্যবহার করলে তা সহনীয় হয়ে যায়। এটা বুঝতে হবে। দেখুন না, এখন অ্যারোসল আর ঠিকমতো কাজ করে না। এ সময় একজন আইনজীবী বলেন, ‘অ্যারোসলে মশা মরে না।’

আরও পড়ুন: ‘ডেঙ্গু মশা একটু অ্যারিস্টোক্রেটিক হয়ে গেছে!’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করতে গেলে আদালত বলেন, ‘আমরাতো কোনো রুল জারি করিনি। আরেকটি বেঞ্চ রুল জারি করেছে। সেখানে প্রতিবেদন জমা দিন।’

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘এই আদালত মৌখিকভাবে এক আদেশে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ জানতে চেয়েছিলেন। তাই সরকার বিষয়টি জানিয়েছে।’ 

আদালত বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা কোনো আদেশ দিচ্ছি না।’  

আইন বহির্ভূত সাজা: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যা তলব

আইন বহির্ভূত সাজা: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যা তলব
হাইকোর্ট, ছবি: সংগ্রহীত

ভ্রাম্যমাণ আদালতের তফসিলভুক্ত অপরাধ না হওয়ার পরেও এক ব্যক্তিকে দন্ডিত করায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউছুফের (বর্তমানে অন্যত্র বদলি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট। কোন কর্তৃত্ববলে ওই ব্যক্তিকে সাজা দিয়েছেন তা ২৮ আগস্টের মধ্যে লিখিত আকারে জানাতে বলা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউছুফের বর্তমান কর্মস্থলে যোগাযোগ করে তাকে ২৫ আগস্টের মধ্যে বিষয়টি অবহিত করতে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সাজা বাতিল চেয়ে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার শ্যালমঙ্কা গ্রামের মো. আনোয়ারুল হক করা আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ৩১ জুলাই দেওয়া এ আদেশের অনুলিপি রোববার (১৮ আগস্ট) পাওয়া গেছে।

আদালতে আনোয়ারুল হকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসাইন বাপ্পী।

আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিজিট ভিসায় ৩ জন যাত্রীকে পারাপারে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হাবিবকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পরপরই গ্রেফতার করা হয় আনোয়ারুল হককে। এ সময় ইমগ্রেশন পুলিশের এএসআই হাবিব পালিয়ে যান। এ বিষয়ে অভিযোগ করেন বিমানবন্দর থানার এএসআই ইউসুফ উদ্দিন সিকদার। ওইদিনই বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউছুফ ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আনোয়ারুল হককে।

সাজার বিরুদ্ধে আনোয়ারুল হক ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিল করলে ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল ওই সাজা বহাল থাকে। এ সাজার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় আপিল করা হলে একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ ও পরিবেশ আপিল আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী সাজা বহাল রাখেন। এরমধ্যে জরিমানার এক লাখ টাকা পরিশোধ করেন অভিযুক্ত। সাজার প্রেক্ষিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের টার্মিনাল-২ এ হেল্পার পদ থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করে কর্তৃপক্ষ। এ সাজা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আনোয়ারুল হক।

আবেদনে বলা হয়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ এর ৩১ (ক) দফার অধীনে দেওয়া সাজা ভ্রমাত্মক ও অবৈধ। কারণ ২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের তফসিলভূক্ত নয় ওই আইনের ৩১ (ক) দফা। ফলে তফসিলভুক্ত অপরাধ না হওয়ার পরেও অভিযোগ আমলে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া সাজা ক্ষমতা বহির্ভূত ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত। আসামি ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযোগ স্বীকার করেননি। তার থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে বিধায় সাজার রায় বহাল থাকতে পারে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র