Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিচারাধীন মামলা নিয়ে রিপোর্টে বাধা নেই

বিচারাধীন মামলা নিয়ে রিপোর্টে বাধা নেই
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক/ ছবি: বার্তা২৪.কম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

আদালতে বিচারাধীন মামলা নিয়ে রিপোর্টে কোনো বাধা নেই বলে জানালেন আইনমন্ত্রী অ্যাড. আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘কোনো মামলার বিচার কাজ চলছে, সেই মামলার রিপোর্টিং করতে বাধা নেই। কিন্তু যদি বিচারাধীন না, কিন্তু কোর্টে মামলা আছে, সেই মামলা নিয়ে মিডিয়াকে মতামত দেওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।

রোববার (১৯ মে) দুপুরে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে রিপোর্ট করা যাবে না- বিষয়টি পরিষ্কার করতেই মন্ত্রীর এই মন্তব্য।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সাব জুডিশিয়াল বলতে একটা কথা আছে। আমি সাব জুডিস বলতে বুঝি এমন মামলা যেটা বিচারাধীন আছে। কিন্তু বিচার কার্যক্রম চলছে না, বিচারধীন আছে- এমন কোনো মামলার ব্যাপারে মতামত দিলে সেটার কথাই বলেছেন হাইকোর্ট। তার মানে এই না যে একটা মামলার বিচার কার্য চলছে সেটির ব্যাপারে রিপোর্টিং বন্ধ করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/19/1558254826678.jpg

সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিচারাধীন মামলার রিপোর্টিং করতে পারেন। কিন্তু যেই মামলাটা বিচারাধীন না, কিন্তু মামলা আছে সেই মামলার নিয়ে যদি মতামত দেন তাহলে মিডিয়াতেই একটা ট্রায়াল হয়ে যায়। তাতে বিজ্ঞ বিচারক বা বিচারপতির বিচার করতে একটু চাপ সৃষ্টি হয়। সেই জন্যই তারা এই কথা বলেছেন।’

তিনি বলেন, ‘রিপোর্টিং আর মতামত এ দুটো আলাদা করতে হবে, আলাদা ভাবতে হবে। মামলা চলছে সেই মামলার রিপোটিং করতে কোনো বাধা নাই। কিন্তু যে মামলার কার্যক্রম চলছে না, কিন্তু মামলা আছে সেই মামলার ব্যাপারে মতামত দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।’

আপনার মতামত লিখুন :

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ২ সিটির দক্ষতার অভাব দেখছেন হাইকোর্ট

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ২ সিটির দক্ষতার অভাব দেখছেন হাইকোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি) যথাসময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। এটা নিলে হয়তো পরিস্থিতি এমন হতো না। তাদের দক্ষতার অভাব রয়েছে। তারা (সিটি করপোরেশন) সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে জনগণের ওপর দায় চাপাচ্ছে। জনগণকে তাদের ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে বলা হচ্ছে। জনগণকে সচেতন হতে হবে-এটা ঠিক। কিন্তু সব দায় জনগণের এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
 
রোববার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের গৃহীত কার্যক্রম প্রতিবেদন আকারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অবহিত করলে এ মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। তবে এ বিষয়ে নতুন করে কোনো আদেশ দেননি আদালত। 

প্রতিবেদনে বলঅ হয়, সকল সরকারি হাসপাতালে সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বিদেশ থেকে ওষুধ আমদানিতে শুল্ক মুক্ত করা হয়েছে। ১০টি সার্ভিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এরইমধ্যে ৪০টি হাসপাতালে ভ্রাম্যম্যান আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। যেসব হাসপাতাল সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেছে তাদের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 


আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিষ্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুল আলম। 

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কতজন মারা গেছে তা নিয়ে পত্রপত্রিকায় দুইরকম তথ্য দেখছি। সরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে ৪৮ জন। কিন্তু বেসরকারি হিসাবে বলা হচ্ছে ৭২জন। এটা নিয়ে দুইরকম তথ্য কেন? জবাবে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার বলেন, সরকারি হিসেবে ৪৮ জন। যারা ডেঙ্গুতে মারা গেছেন তাদের কারো কারো অন্য রোগ থাকতে পারে। কারো হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। তাই এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়। 

এসময় আদালত বলেন, ধরে নিচ্ছি, ৪৮ জনই মারা গেছে। যারা মারা গেছে তাদের পরিবারের কি অবস্থা তা একবার ভেবে দেখুন। ডেঙ্গু এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। যথাসময়ে যদি প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে হয়তো এত লোককে মরতে হতো না। আদালত বলেন, শরীয়তপুর থেকে একজন ঢাকায় সেবা দিতে এসে মারা গেছে। 

আদালত বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে আমরা সতর্ক করেছিলাম। দুই সিটির সচিবকে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম। কিন্তু আমাদের আদেশের পর দুই সিটির কর্তা ব্যক্তিদের কাছ থেকে যে ধরণের কথাবার্তা শুনলাম তা কারো কাম্য নয়। 

আদালত বলেন, ডেঙ্গু মশার লার্ভা ও ডিম থাকে পানিতে। উনারা সেটা পরিস্কার না করে রাস্তায় ময়লা ফেলে পরিস্কার করলেন। এটা নেহায়েতই হাস্যকর। 

আদালত বলেন, কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বছরের পর বছর একই ঔষুধ ছিটানো হচ্ছে। অথচ ওই ওষুধে কাজ হচ্ছে না। একটি ঔষুধ বারবার ব্যবহার করলে তা সহনীয় হয়ে যায়। এটা বুঝতে হবে। দেখুন না, এখন এ্যারোসল আর ঠিকমতো কাজ করে না। এসময় একজন আইনজীবী বলেন, অ্যারোসলে মশা মরে না।

আদালত বলেন, নিজেরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করে জনগণের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। জনগণকে তাদের ঘরবাড়ি পরিস্কার করতে বলা হচ্ছে। আদালত বলেন, সত্যিকারে যেখানে এডিস মশা থাকে সেখানে ওষুধ ছিটালেইতো হয়। জনগণকে সচেতন হতে হবে-এটা ঠিক। কিন্তু সব দায় জনগণের- এমনটা ভাবার কোনো সুযোগ নেই।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করতে গেলে আদালত বলেন, আমরাতো কোনো রুল জারি করিনি। আরেকটি বেঞ্চ রুল জারি করেছে। সেখানে প্রতিবেদন জমা দিন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, এই আদালত মৌখিকভাবে এক আদেশে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ জানতে চেয়েছিলেন। তাই সরকার বিষয়টি জানিয়েছে। 

আদালত বলেন, এটা নিয়ে আমরা কোনো আদেশ দিচ্ছি না।  

আইন বহির্ভূত সাজা: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যা তলব

আইন বহির্ভূত সাজা: নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ব্যাখ্যা তলব
হাইকোর্ট, ছবি: সংগ্রহীত

ভ্রাম্যমাণ আদালতের তফসিলভুক্ত অপরাধ না হওয়ার পরেও এক ব্যক্তিকে দন্ডিত করায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউছুফের (বর্তমানে অন্যত্র বদলি) কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন হাইকোর্ট। কোন কর্তৃত্ববলে ওই ব্যক্তিকে সাজা দিয়েছেন তা ২৮ আগস্টের মধ্যে লিখিত আকারে জানাতে বলা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউছুফের বর্তমান কর্মস্থলে যোগাযোগ করে তাকে ২৫ আগস্টের মধ্যে বিষয়টি অবহিত করতে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সাজা বাতিল চেয়ে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার শ্যালমঙ্কা গ্রামের মো. আনোয়ারুল হক করা আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এম, ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। গত ৩১ জুলাই দেওয়া এ আদেশের অনুলিপি রোববার (১৮ আগস্ট) পাওয়া গেছে।

আদালতে আনোয়ারুল হকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল কাইয়ুম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসাইন বাপ্পী।

আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৯ এপ্রিল হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ভিজিট ভিসায় ৩ জন যাত্রীকে পারাপারে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) হাবিবকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার পরপরই গ্রেফতার করা হয় আনোয়ারুল হককে। এ সময় ইমগ্রেশন পুলিশের এএসআই হাবিব পালিয়ে যান। এ বিষয়ে অভিযোগ করেন বিমানবন্দর থানার এএসআই ইউসুফ উদ্দিন সিকদার। ওইদিনই বিমানবন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ইউছুফ ১ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আনোয়ারুল হককে।

সাজার বিরুদ্ধে আনোয়ারুল হক ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আপিল করলে ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল ওই সাজা বহাল থাকে। এ সাজার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় আপিল করা হলে একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকার বিশেষ জজ ও পরিবেশ আপিল আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী সাজা বহাল রাখেন। এরমধ্যে জরিমানার এক লাখ টাকা পরিশোধ করেন অভিযুক্ত। সাজার প্রেক্ষিতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের টার্মিনাল-২ এ হেল্পার পদ থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করে কর্তৃপক্ষ। এ সাজা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আনোয়ারুল হক।

আবেদনে বলা হয়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ এর ৩১ (ক) দফার অধীনে দেওয়া সাজা ভ্রমাত্মক ও অবৈধ। কারণ ২০০৯ সালের ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের তফসিলভূক্ত নয় ওই আইনের ৩১ (ক) দফা। ফলে তফসিলভুক্ত অপরাধ না হওয়ার পরেও অভিযোগ আমলে নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দেওয়া সাজা ক্ষমতা বহির্ভূত ও কর্তৃত্ব বহির্ভূত। আসামি ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযোগ স্বীকার করেননি। তার থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে বিধায় সাজার রায় বহাল থাকতে পারে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র