Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিন আবেদন, ২ আসামিকে জরিমানা

মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিন আবেদন, ২ আসামিকে জরিমানা
প্রতীকী/ ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে জামিন আবেদন করায় দুই আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন হাইকোর্ট।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে এই জরিমানার আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না। আর আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল পারভেজ।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে মতিঝিল সিটি সেন্টার থেকে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ গ্রেফতার হন আমেনা এন্টারপ্রাইজের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. জয়নাল আবেদীন ও তার অফিস সহকারী আলমগীর হোসেন।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, আমেনা এন্টারপ্রাইজ ও ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ এন্ড করপোরেশনে বসে দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় টাকা প্রেরণের পরিকল্পনা করছিলেন তারা। 

গত ৫ মে তাদের জন্য হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়। হলফনামায় স্বাক্ষর করেন জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী তানিয়া শারমীন। আইনজীবী ছিলেন আঞ্জুমান আরা বেগম। সেই আবেদনটি ৭ মে না-মঞ্জুর হয়।

জামিন না-মঞ্জুরের বিষয়টি বিচারিক আদালতের একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে ২২ মে পুনরায় হলফনামা করে আসামিদের জামিন আবেদন করা হয়। এবার হলফনামায় স্বাক্ষর করেন জনৈক মো. জাকির হোসেন মিন্টু। এবার আইনজীবী ছিলেন কামাল পারভেজ। ২৩ মে বৃহস্পতিবার আবেদনের উপর শুনানি হয়।

ডিএজি মানিক জানান, বিচারিক আদালতের একই আদেশে একবার জামিন না-মঞ্জুর হলে একই আদেশে দ্বিতীয়বার হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা যায় না। কিন্তু তারা বিষয়টি গোপন করেন। হাইকোর্ট বিষয়টি জানার পর দুই আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন।

তিনি আরও জানান, জরিমানার এক লাখ টাকা ৩০ দিনের মধ্যে আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামকে ও এক লাখ টাকা জাতীয় অন্ধ কল্যাণ ট্রাস্টকে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ টাকা জমা দেওয়ার ১০ দিনের মধ্যে তা আদালতকে অবহিত করারও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। একই সাথে আসামিদের জামিন আবেদনও সরাসরি না-মঞ্জুর করেন আদালত।

আপনার মতামত লিখুন :

১১ জুলাইয়ের মধ্যে দুদকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

১১ জুলাইয়ের মধ্যে দুদকের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ
হাইকোর্ট

জাহালম-কাণ্ডে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন আগামী ১১ জুলাইয়ের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই দিন এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে আবু সালেক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক।

মামলা ও পরবর্তী সময়ে ২৬টি মামলার চার্জশিটে সালেকের নাম ব্যবহার করা হলেও জাহালমকে সালেক নামে গ্রেফতার করা হয়।

জাহালম টাঙ্গাইলের নাগরপুর থানার ধুবড়িয়া এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে। তি‌নি পাটকল শ্র‌মিক ছিলেন। সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির ৩৩টি মামলার মূল আসামি আবু সালেক। কিন্তু তার বদলে এ মামলার আসামি হয়ে বিনা অপরা‌ধে প্রায় ৩ বছর কারাগারে ব‌ন্দি ছিলেন পাটকল শ্রমিক জাহালম।

২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়া‌রি জাহালমকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকে তি‌নি কারাগারে ব‌ন্দি ছিলেন।




মঞ্জুর হত্যা তদন্তে আরও সময় চায় সিআইডি

মঞ্জুর হত্যা তদন্তে আরও সময় চায় সিআইডি
মেজর জেনারেল মঞ্জুর, ছবি: সংগৃহীত

মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের অধিকতর তদন্তে আরও সময় চায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার কুতুবুর রহমান আদালতে আরও ৩০ দিন সময় চান।

শুনানি শেষে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শরীফ এএম রেজা জাকের সময় মঞ্জুর করে আগামী ২৬ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।

মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের বড় ভাই ব্যারিস্টার আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মঞ্জুর হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওই বছরের ১৫ জুলাই আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দ। এর আগে ১ মার্চ আসামি এমদাদুল হক, ১২ মার্চ মোহাম্মদ আবদুল লতিফ ও শামসুর রহমান এবং ১৮ জুন মোস্তফা কামালকে গ্রেফতার করা হয়।

ওই বছরেরই ১১ জুন কারাগারে থাকা এরশাদকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। মামলাটিতে মোট ২৩ জন বিচারক দায়িত্বপ্রাপ্ত হন ও বদলি হন। বিচারক হিসাবে সর্বশেষ দায়িত্বে ছিলেন প্রদীপ কুমার রায়।

মেজর জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু রায় ঘোষণা কদিন আগেই ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক হোসনে আরাকে বদলি করা হয়। আদালতের নতুন দায়িত্ব নেন বিচারক খন্দকার হাসান মো. ফিরোজকে।

নতুন জজ দায়িত্ব পাওয়ায় নতুন করে ফের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। ১০ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা না করে ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি ফের যুক্তিতর্ক গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়।

নতুন বিচারকের ওই দিন যুক্তিতর্ক শোনা হয়নি। যুক্তিতর্ক শুনানির দিন আদালতে মামলাটির অধিকতর তদন্তের আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পিপি আসাদুজ্জামান খান রচি।

এ মামলায় সঠিকভাবে তদন্ত হয়নি। ফলে আরো অনেককে সাক্ষী হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। মঞ্জুরকে ওইদিন তার স্ত্রী ও মেয়ের সামনে থেকেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় কারা তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল এ সমন্ধে তার স্ত্রী ও মেয়েই ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু মূল চার্জশিটে তার স্ত্রী ও মেয়েকে স্বাক্ষী করা হয়নি। মামলাটির ন্যায় বিচারে তাদের সাক্ষী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এমন যুক্তিতে মামলাটি অধিকতর তদন্তে পাঠানোর আবেদন করেন সরকারি কৌঁসুলিরা (পিপি) পিপি আসাদুজ্জামান খান রচি।

বিচারক খন্দকার হাসান মো. ফিরোজ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

মামলার ৫ আসামির সবাই জামিনে আছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ১৯৮১ সালের ১ জুন মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেখানেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

মঞ্জুর হত্যা মামলায় মোট ৪৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালের ২ অক্টোবর আত্মপক্ষ সমর্থন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এরশাদ। এর সমর্থনে আদালতে লিখিত বক্তব্যও দাখিল করেন তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র