Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হাসপাতালে খালেদা, পিছিয়েছে নাইকো মামলার চার্জ শুনানি

হাসপাতালে খালেদা, পিছিয়েছে নাইকো মামলার চার্জ শুনানি
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে থাকায় নাইকো দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানির তারিখ পিছিয়ে আগামী ২৩ জুন ধার্য করেছেন আদালত।

কারান্তরীণ খালেদা জিয়া বর্তমানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন। এজন্য অনিয়মের মাধ্যমে পূর্ব ছাতক গ্যাসক্ষেত্র কানাডার কোম্পানি নাইকোর হাতে তুলে দেওয়া সংক্রান্ত এ দুর্নীতি মামলার চার্জ শুনানি পেছানোর আবেদন করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) শুনানি শেষে কেরানীগঞ্জের কারাভবনে নবনির্মিত ভবনের অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার বিশেষ জজ-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর শুনানির এ নতুন দিন ধার্য করেন।

খালেদা জিয়াকে গত ১ এপ্রিল কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।

খালেদা জিয়া ছাড়াও মামলার প্রধান আসামিরা হলেন-সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, ঢাকা ক্লাবের সাবেক সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন।

পলাতক অন্য তিন আসামি হলেন-সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, বাপেক্সের সাবেক মহা-ব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

২০১৮ সালের ৫ মে এ মামলায় অভিযুক্ত আরেক আসামি সাবেক সচিব শফিউর রহমান মারা যান।

কানাডার কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে অস্বচ্ছ চুক্তির মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি ও দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২০০৭ সালের ৯ ডিসেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সেই সময়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেন।

২০০৮ সালের ৫ মে এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন দুদকের সেই সময়ের সহকারী পরিচালক এস এম সাহেদুর রহমান।

অভিযোগপত্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

ওষুধের পাতায় মেয়াদ-মূল্য স্পষ্ট থাকতে হবে: হাইকোর্ট

ওষুধের পাতায় মেয়াদ-মূল্য স্পষ্ট থাকতে হবে: হাইকোর্ট
পুরনো ছবি

ওষুধের পাতায় স্পষ্টভাবে মেয়াদ, উৎপাদনের তারিখ ও মূল্য লেখার ব্যবস্থা করতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ ও ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করায় সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেছেন আদালত। আদালত বলেছেন, 'এটা প্রশংসনীয় কাজ। অভিযান শেষ করে থেমে থাকলে হবে না, তা চলমান রাখতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে'।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে করা রিটের শুনানিতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টেও দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অ্যাটর্নি জেনারেল দফতরে এ প্রতিবেদন দেন। যা বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ভোক্তা অধিকারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি।

আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি বলেন, 'অভিযান পরিচালনা করা চলমান প্রক্রিয়া। আইনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।'

তিনি জানান, ১৭টি ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশে করে আদালত বলেন, 'এখন প্রযুক্তির যুগ। সবখানে পত্রিকা না পৌঁছলেও টিভি আছে। দুর্গম কোনো চরেও টিভি আছে। তাই ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে সচেতনতার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া যায় কিনা দেখেন। যদিও এখানে অর্থনৈতিক বিষয় আছে। তারপরও এটা সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে।'

আদালত বলেন, 'ওষুধের পাতায় উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও মূল্য বড় করে দৃশ্যমান থাকতে হবে। অনেকে আবার ইংরেজি বুঝে না। কিন্তু আমাদের ওষুধ রফতানি হয়। তাই বাংলা ও ইংরেজিতে এগুলো থাকতে হবে।'

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, 'আদালতের নির্দেশনা অনুসারে অভিযান চালানো হয়েছে। পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।'

তখন আদালত বলেন, 'যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধুবাদ জানাচ্ছি। এ অভিযান প্রশংসনীয়।'

ওরস্যালাইন, কয়েকটি ইনজেকশন, হাঁপানিসহ কয়েকটি ওষুধ আদালতে উপস্থাপন করে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, 'ওষুধের মেয়াদ দৃশ্যমান করার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এগুলো দৃশ্যমান হওয়ার দরকার।'

পরে আদালত ওষুধের পাতায় স্পষ্ট করে মেয়াদ, উৎপাদনের তারিখ ও মূল্য লেখার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়ে ২২ আগস্ট শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

মঙ্গলবার ওষুধ প্রশাসনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে ৩৬ কোটি ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। দায়ের করা হয়েছে ১৫২টি মামলা। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে দেড় কোটি টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমানের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য রয়েছে।

গত ১৮ জুন সারা দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

গত ১০ মে এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, 'ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়।'

এরপর গত ১৭ জুন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করেন।

ধর্ষণ মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ধর্ষণ মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির নির্দেশ
হাইকোর্ট

 

দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর হত্যা মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনের বেঁধে দেওয়া সময়ে (১৮০দিন) দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ধর্ষণের পৃথক তিন মামলায় তিন আসামির জামিন আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

শুনানিতে আদালত বলেছেন, তিন বছরের শিশু ধর্ষিত হবে আর বিচার হবে না এটা দুঃখজনক।

আদেশে সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের আলোকে সাত দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাকি ছয় দফা হলো—

# নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ২০ ধারার বিধান অনুসারে ধর্ষণ মামলার শুনানি শুরু হলে শেষ পর্যন্ত একটানা শুনানি করতে হবে।

# সাক্ষী উপস্থিতের ধার্য দিনে তা নিশ্চিত করতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), সিভিল সার্জনের একজন প্রতিনিধি নিয়ে একটি তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটি প্রতিমাসে সুপ্রিম কোর্ট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেবে।

# প্রসিকিউশন ধার্য তারিখে সঙ্গতকারণ ছাড়া সাক্ষী উপস্থিত করতে ব্যর্থ হলে তদারকি কমিটিকে জানাবে।

# দ্রুত সময়ে সাক্ষী হাজির করতে কমিটি সমন জারি তদারকি করবে।

# ধার্য দিনে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞরা সন্তোষজনক কারণ ব্যতীত সাক্ষ্য প্রদানে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও বেতন বন্ধের আদেশ দেবেন।

# আদালত আশা করে সরকার অবিলম্বে সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করবে।

আদালতের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

আদালত আদেশে আসামি মো. রাহেল ওরফে রায়হান ও সেকেন্দার আলীর জামিন না মঞ্জুর করেন এবং আসামি মো. সারোয়ার রুবেলকে জামিন দিয়েছেন।

আদালতে আসামিদের জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মাহবুব ও মনিরুজ্জামান আসাদ, মো. গোলাম আকতার জাকির ও মার্জিয়া জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শাহানা পারভীন, হাসিনা মমতাজ ও মৌদুদা বেগম।

মো. রাহেল ওরফে রায়হানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারাধীন। ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বছর ২৮ জুন মামলাটি দায়ের করা হয় বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানায়। মামলার বাদী ওই শিশুর পিতা। গত ১ জুলাই বগুড়ার আদালতে তার জামিন না মঞ্জুর হলে রাহেল হাইকোর্টে আপিল আবেদন করেন।

অন্যদিকে ডেমরায় তৃতীয় শ্রেণির ৮ বছরের শিশুকে গত বছরের ১৭ মার্চ ধর্ষণ করেন ৫৪ বছরের সেকান্দার আলী। তিনদিন পর ডেমরা থানায় মামলা করেন শিশুটির মা।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানায় ১৮ বছরের তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. সারওয়ার রুবেল ও এমরানের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর মামলা করা হয়। এদের দুইজনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। চলতি বছর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে।

এ মামলায় সারওয়ার রুবেল এক বছরের জামিনে থাকা অবস্থায় গত ২৯ মে জামিনের মেয়াদ শেষ হয়। পাঁচদিন পর আবার জামিনের মেয়াদ বাড়াতে আদালতে গেলে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন এ আসামি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র