Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ভোক্তা অধিকারকে হটলাইন চালুর নির্দেশ

ভোক্তা অধিকারকে হটলাইন চালুর নির্দেশ
ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পণ্য কিনে প্রতারিত ভোক্তাদের অভিযোগ জানাতে ২ মাসের মধ্যে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরকে ২৪ ঘণ্টার হটলাইন চালুর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এ হটলাইন চালু রাখার আদেশ দিয়েছেন আদালত। অন্যদিকে আদালতের আদেশ বাস্তায়ন না করায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হককে শর্ত সাপেক্ষে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৬ জুন) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ  ও রাজিব আল জলিলের সম্বনয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।  

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, ভোক্তারা অধিদফতরের ০১৭৭৭৭৫৩৬৬৮ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন। পাশাপাশি ৯৯৯ এবং ৩৩৩ নম্বরে কল করেও অভিযোগ করা যাবে।

একইসঙ্গে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় ওঠে আসা নিম্নমানের পণ্য বাজার থেকে সরিয়ে নেয়ার আদেশ প্রতিপালন না করায় আদালতে হাজির হওয়া নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুল হককে আদালত অবমাননার হাজিরা থেকে শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

সকালে আদালতে হাজির হয়ে নি:শর্ত ক্ষমা চেয়ে আবেদনে মাহফুজুল হকের পক্ষে জানানো হয় নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চিত করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

অব্যাহতির শর্তে বলা হয়েছে ‘বিশেষ কোন উপলক্ষ্য ও মাস ঘিরে নয়, সারাবছরই ভেজাল ও মানহীন পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রাখতে হবে, ভবিষ্যতে আদালতের আদেশ ভঙ্গ করবেন না এবং জনবল কম থাকলে তা বৃদ্ধি করে অভিযান চালাতে হবে।’

এরআগে গত ২৩ মে ভেজাল ও নিন্মমানের পন্য বাজার থেকে সরানোর আদেশ প্রতিপালন না করায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হককে তলব করে ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। আদেশে তাকে ১৬ জুন হাজির হতে বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে আদালতে হাজির হন তিনি।

আদালত বলেছেন, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনকে (বিএসটিআই) সারাবছরই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া মানহীন ৫২ পণ্যের মধ্যে পুন:পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ ১৬টি পণ্যের পাশাপাশি বাজারে থাকা সকল পণ্য র‌্যান্ডম টেস্ট ও রিটেস্ট করতে হবে। আগামী ১৯ আগস্ট এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদালতের আদেশ প্রতিপালনের বিষয়টি অবহিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম ও বিএসটিআই এর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এম আর হাসান মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেসুর রহমান।

শুনানিতে বিএসটিআই আইনজীবী এম আর হাসান মামুন বলেন, মানহীন ৫২ পণ্যের মধ্যে ৪২টি পণ্যের মান যাচাইর প্রতিবেদন দিয়েছে বিএসটিআই। এর মধ্যে ২৬টি পণ্য উত্তীর্ণ হলেও ১৬টি ব্যর্থ হয়েছে। আইন অনুযায়ী পুন:পরীক্ষায় তাদের উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, ৯৬টি পণ্যের মধ্যে ৫৩টি মানসম্মত। ২২ টির মান ভাল না হওয়ায় তাদেও কারণ দর্শতে বলা হলে ২ টি পণ্যেও পক্ষে জবাব দেয়া হয়নি। ৮ টি পন্য বিএসটিআইর অনুমোদন নেয়নি। তারা পুনপরীক্ষার সুযোগ পাবে না। আজ থেকে আমাদের সার্ভিলেন্স টিম কাজ শুরু করেছে।

আদালত বলেন, আপনাদের কাজ চলমান রাখতে হবে। আমরা বারবার আদেশ দিতে চাই না।

এ পর্যায়ে রিট আবেদনের আইনজীবী শিহাব উদ্দিন খান বলেন, বিএসটিআইর নমুনা পরীক্ষার কোনো সময়সীমা নেই। পরীক্ষার জন্য এক মাস সময় নিলে এ সময়তো পণ্য বিক্রি বন্ধ থাকবে না। এখানে বিএসটিআইর ঘাটতি রয়েছে।

তখন আদালত বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি পণ্যের মান পরীক্ষার আগে লেনদেন হয়। এ অভিযোগ যদি সত্য হয় তাহলে দুদকে পাঠাবো না, সোজা কারাগারে পাঠাবো।

আইনজীবী বলেন, নমুনা পরীক্ষা ন্যূনতম স্বচ্ছতা থাকা দরকার।

আদালত বলেন, পণ্যের মান পুনপরীক্ষায় দুর্নীতিবাজদের রেট আরও বেড়ে যাচ্ছে।

শুনানি শেষে আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের আগের প্রতিবেদনে ভুল ছিল। এবার সম্পুরক আবেদন দিয়ে বলেছি সারা দেশে ভেজাল পণ্যেও বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। আদালত অবমাননার অভিযোগ মার্জনা করেছেন।

এর আগে গত ১২ মে বিএসটিআইর পরীক্ষায় প্রমাণিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি ভেজাল ও নিম্নমাণের পণ্য বাজার থেকে যত দ্রুত প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে এ নির্দেশ পালন করে ১০দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন আদালত।

পাশাপাশি পণ্যগুলোর বিষয়ে যথাযথ আইন অনুসারে তা নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট ভেজাল পণ্যের মান উন্নয়ন না হওয়া পর্যন্ত তা উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন আদালত। আদালতের ওই আদেশ প্রতিপালন না করায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে তলব করেন হাইকোর্ট।

আপনার মতামত লিখুন :

তারেকের এপিএস-এর মনোনীত পরিচালকদের ফার্স্ট ফাইন্যান্স থেকে বাদ দিতে রুল

তারেকের এপিএস-এর মনোনীত পরিচালকদের ফার্স্ট ফাইন্যান্স থেকে বাদ দিতে রুল
ফার্স্ট ফাইনান্সে ৫ পরিচালক নিয়োগ দেন এপিএস মিয়া নুর উদ্দিন অপু/ ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস) মিয়া নুর উদ্দিন অপুর অর্থায়নে বেনামি চারটি কোম্পানির মনোনীত পাঁচ পরিচালককে তদন্ত করে ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেড থেকে কেন অব্যাহতি দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিবাদীদের এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) মো. মনিরুজ্জামান নামের একজন শেয়ার হোল্ডারের আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শফিক আহমেদ, এম কে রহমান ও এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান খান।

পৃথক রুলে মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোম্পানির পরিচালক থেকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে করা আবেদন নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

আইনজীবী সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘এ আদেশের কারণে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পরিচালকের ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের বোর্ড মিটিংয়ে অংশ নেওয়া উচিত হবে না।’

চারটি কোম্পানি হলো- আলফাবেট এসোসিয়েট লিমিটেড, অপারচর ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, রাকাস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও কাসরাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।

গত ২ জুলাই মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কোম্পানির পরিচালক থেকে অপসারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি আবেদন করেছিলেন ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের শেয়ার হোল্ডার মো. মনিরুজ্জামান। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

এপিএস মিয়া নুর উদ্দিন অপুর মনোনীত পরিচালকরা হলেন- রাশেদুজ্জামান মিল্লাত, আমিনুল ইসলাম, জালাল উদ্দিন, মহিন ও মইনুল হাসান।

রমনায় বোমা হামলায় ইটিভি কর্মকর্তার সাক্ষ্য

রমনায় বোমা হামলায় ইটিভি কর্মকর্তার সাক্ষ্য
রমনায় বোমা হামলা, পুরনো ছবি

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মামলায় বেসরকারি টেলিভিশন ইটিভির তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ দুই জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত।

সাক্ষীরা হলেন- ইটিভির তৎকালীন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নির্মল কান্তি বড়ুয়া ও ইটিভির সাংবাদিক রাসেল হাওলাদার।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) তারা ঢাকার প্রথম দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদান করেন। আগামী ১ আগস্ট পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

এ নিয়ে চার্জশিটভুক্ত ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হলো।

একই ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন মুফতি হান্নানসহ ৮ জনের ফাঁসি ও ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমিন। তবে বোমা হামলাটির বিচার এখনো চলছে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান চলাকালে জঙ্গিদের বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলে ৯ জন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। আহত হন অনেকে।

ঘটনার প্রায় ৮ বছর পর ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

মামলাটিতে ২০০৯ সালের ১৬ এপ্রিল ১৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন আদালত।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র