ওসি মোয়াজ্জেমের জামিনের বিরোধিতা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফেনীর সোনাগাজী থানার মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তাকে আপত্তিকর প্রশ্ন ও ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের মামলায় ওসি মোয়াজ্জেমের জামিনের বিরোধিতা করবেন মামলার বাদি ব্যারিস্টার সুমন।

রোববার (১৬ জুন) দুপুরে তাকে গ্রেফতার করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারে ফেনীর সোনাগাজী থানায় পরোয়ানা পাঠানো হয়েছিল। তাকে ঢাকার গ্রেফতারের খবরে সোনাগাজী থেকে একটি টিম ঢাকায় রওয়ানা হয়েছে। ওসি মোয়াজ্জেমকে তাদের হাতে হস্তান্তর করা হবে।

মামলার বাদি ব্যারিস্টার সুমন বার্তা২৪.কমকে জানান, সোনাগাজী থানার ওয়ারেন্ট তামিল কর্মকর্তা ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রহণ করার পর তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করবেন। সেখানে তার জামিন চাওয়া হলে জামনের বিরোধিতা করবেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে এ গ্রেফতার অত্যন্ত জরুরি ছিল। গ্রেফতার একটু দেরীতে হলেও পুলিশ প্রশাসন প্রশংসার দাবি রাখে।

নুসরাতের বিষয়টি প্রথম থেকেই তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রীকেও ধন্যবাদ জানান তিনি।

গত ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থানার প্রত্যাহার করা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

ওইদিন সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস শামস জগলুল হোসেন বাদির জবানবন্দী রেকর্ড করে ঘটনাটি তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দেন।

পিআইবি ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২৭ মে ট্রাইব্যুনাল প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

জবানবন্দি দেওয়ার সময় বাদি সুমন বলেছিলেন, যৌন হয়রানির বিষয়ে নুসরাত থানায় অভিযোগ করতে গেলে আসামিসহ তাকে থানায় নেওয়া হয়। সেই সময় ওসি মোয়াজ্জেম  তাকে আপত্তিকর জেরা করেন ও জেরার ভিডিও তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।

নুসরাতের মৃত্যুর পরেরদিন ১১ এপ্রিল বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া তিনি তা ছেড়ে দেন। থানার ভেতরে এমন ভিডিও ধারণ করা ও সোশ্যাল মিডিয়ার ছেড়ে দেওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ।

গত ১০ এপ্রিল অগ্নিদগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আপনার মতামত লিখুন :