Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সাবেক এমপি রানার মুক্তিতে বাধা নেই

সাবেক এমপি রানার মুক্তিতে বাধা নেই
এমপি রানা, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানাকে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় স্থায়ী জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার মুক্তি পেতে বাধা নেই বলে জানিয়েছে আইনজীবী সূত্র।

এর আগে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বুধবার (১৯ জুন) বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তাকে জামিন দেন।

আদালতে রানার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় গত ১ এপ্রিল রানার জামিন বহাল থাকে আপিল বিভাগে। ১৪ মার্চ তিনি হাইকোর্টে ছয় মাসের জামিন পেলে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রাখেন। এ নিয়ে দুই মামলাতেই জামিনে আছেন তিনি।

গত ৬ মার্চ দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় রানাকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ২৩ এপ্রিল ওই জামিন স্থগিত করে রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। রানা আওয়ামী দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য।

দুই যুবলীগ নেতা শামীম ও মামুন ২০১২ সালের ১৬ জুলাই টাঙ্গাইল শহরে এসে নিখোঁজ হন। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নে। পরদিন শামীমের মা আছিয়া খাতুন সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এক বছর পর ২০১৩ সালের ৯ জুলাই নিখোঁজ মামুনের বাবা টাঙ্গাইল আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকার খন্দকার জাহিদ, শাহাদত হোসেন ও হিরণ মিয়াকে আটক করা হলে তারা হত্যায় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আপনার মতামত লিখুন :

অদক্ষ দুই কর্মকর্তার ওষুধ প্রশাসনের চাকরিতে নিষেধাজ্ঞা

অদক্ষ দুই কর্মকর্তার ওষুধ প্রশাসনের চাকরিতে নিষেধাজ্ঞা
হাইকোর্ট

ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অদক্ষতা ও অযোগ্যতার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা তৎকালীন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক শফিকুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেনের চাকরিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। ফলে তারা মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের চাকরিতে বহাল থাকতে পারবেন না। তবে স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক যথাযথ মনে করলে তাদের অন্য কোথাও পদায়ন করতে পারবেন।

তিরস্কার করে তাদের চাকরিতে পুর্নবহাল করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ রিটে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এ নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ।

২০১৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর শফিকুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদেরকে তিরস্কার করে চলতি বছরের ৩১ মার্চ বিভাগীয় মামলাসহ বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এরমধ্যে আলতাফ হোসেন উপ-পরিচালক ও শফিকুল ইসলাম সহকারী পরিচালক পদে কর্মরত ছিলেন।

একইসঙ্গে ৩১ মার্চের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জারি করা আদেশ কেন অবৈধ এবং আইনগত কর্তৃত্ব বর্হিভূত ঘোষণা করা হবে তা ২ সপ্তাহের মধ্যে জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। দুই কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রবিউল আলম বুদু।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, ২০০৯ সালে রিড ফার্মার ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে সারা দেশে ২৮ শিশু মারা যায়। এ ঘটনায় ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলার বিচার শেষে ২০১৬ সালের ২৮ নভেম্বর পাঁচজনকে খালাস দেন বিচারিক আদালত।

ওই রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারিক আদালত বলেছিলেন, ড্রাগ আইনের ২৩, ২৫ ধারা প্রতিপালন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের তৎকালীন ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক শফিকুল ইসলাম ও আলতাফ হোসেনের চরম অবহেলা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতার রয়েছে।

এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ২০১৭ সালের ৯ মার্চ হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।

ওই সময় আইনজীবী মনজিল মোরসেদ আবেদন করলে অদক্ষতা ও অযোগ্যতা সত্বেও এ দুইজনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেন।

এরপর একটি প্রতিবেদনে স্বাস্থ্য সচিব জানান দুই কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হয়েছে। ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে ২০১৭ সালের ২৩ আগস্ট স্বাস্থ্য সচিবকে তলব করেন হাইকোর্ট। পরদিন স্বাস্থ্য সচিব জানান দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া এই দুই কর্মকর্তার বিষয়ে চলতি বছরের ৩১ মার্চ পৃথক আদেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো.আসাদুল ইসলাম তাদেরকে ‘তিরস্কার’ করে বিভাগীয় মামলাসহ সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে নেন। এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করা হলে হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

ওষুধের পাতায় মেয়াদ-মূল্য স্পষ্ট থাকতে হবে: হাইকোর্ট

ওষুধের পাতায় মেয়াদ-মূল্য স্পষ্ট থাকতে হবে: হাইকোর্ট
পুরনো ছবি

ওষুধের পাতায় স্পষ্টভাবে মেয়াদ, উৎপাদনের তারিখ ও মূল্য লেখার ব্যবস্থা করতে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ ও ধ্বংসে অভিযান পরিচালনা করায় সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেছেন আদালত। আদালত বলেছেন, 'এটা প্রশংসনীয় কাজ। অভিযান শেষ করে থেমে থাকলে হবে না, তা চলমান রাখতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে'।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ নিয়ে করা রিটের শুনানিতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টেও দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গত মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অ্যাটর্নি জেনারেল দফতরে এ প্রতিবেদন দেন। যা বৃহস্পতিবার শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ বি এম আলতাফ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ভোক্তা অধিকারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি।

আইনজীবী কামরুজ্জামান কচি বলেন, 'অভিযান পরিচালনা করা চলমান প্রক্রিয়া। আইনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে।'

তিনি জানান, ১৭টি ফার্মেসিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আটটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশে করে আদালত বলেন, 'এখন প্রযুক্তির যুগ। সবখানে পত্রিকা না পৌঁছলেও টিভি আছে। দুর্গম কোনো চরেও টিভি আছে। তাই ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে সচেতনতার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া যায় কিনা দেখেন। যদিও এখানে অর্থনৈতিক বিষয় আছে। তারপরও এটা সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে।'

আদালত বলেন, 'ওষুধের পাতায় উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ও মূল্য বড় করে দৃশ্যমান থাকতে হবে। অনেকে আবার ইংরেজি বুঝে না। কিন্তু আমাদের ওষুধ রফতানি হয়। তাই বাংলা ও ইংরেজিতে এগুলো থাকতে হবে।'

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, 'আদালতের নির্দেশনা অনুসারে অভিযান চালানো হয়েছে। পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।'

তখন আদালত বলেন, 'যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধুবাদ জানাচ্ছি। এ অভিযান প্রশংসনীয়।'

ওরস্যালাইন, কয়েকটি ইনজেকশন, হাঁপানিসহ কয়েকটি ওষুধ আদালতে উপস্থাপন করে রিট আবেদনকারীর আইনজীবী বলেন, 'ওষুধের মেয়াদ দৃশ্যমান করার বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এগুলো দৃশ্যমান হওয়ার দরকার।'

পরে আদালত ওষুধের পাতায় স্পষ্ট করে মেয়াদ, উৎপাদনের তারিখ ও মূল্য লেখার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দিয়ে ২২ আগস্ট শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

মঙ্গলবার ওষুধ প্রশাসনের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাদেশে ৩৬ কোটি ৪১ লাখ ৯৫ হাজার টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। দায়ের করা হয়েছে ১৫২টি মামলা। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে দেড় কোটি টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমানের জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য রয়েছে।

গত ১৮ জুন সারা দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

গত ১০ মে এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, 'ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়।'

এরপর গত ১৭ জুন জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে রিট করেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র