Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

পরস্পর বিরোধী প্রতিবেদনে ভোলার এসপিকে তলব

পরস্পর বিরোধী প্রতিবেদনে ভোলার এসপিকে তলব
অশীতিপর বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুন (বাঁয়ে), ডানে হাইকোর্ট, ছবি: সংগৃহীত
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

অস্ত্র মামলার আসামি জুলহাস জীবিত না মৃত এ বিষয়ে যথাযথ প্রতিবেদন না পাঠানোয় ভোলার পুলিশ সুপারকে (এসপি) তলব করে আগামী ২০ আগস্ট সশরীরে হাজির হতে বলেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। অশীতিপর বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুনের মামলার শুনানিতে এ আদেশ দেন আদালত।

আদালতে রাবেয়া খাতুনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল।

গত ৩ জুলাই অস্ত্র মামলার আসামি জুলহাস জীবিত না মৃত সে বিষয়ে ভোলার এসপির কাছে প্রতিবেদন চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দেওয়া প্রতিবেদনে জানানো হয়, জুলহাস ১০ থেকে ১২ বছর আগে থেকে পরিবার নিয়ে ভোলায় বসবাস করছেন। অন্যদিকে, ভোলার এসপির দাখিল করা প্রতিবেদন বলা হয়, ভোলায় জুলহাস নামের কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রাবেয়া খাতুনের আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল আদালতকে জানান, ২০০৪ সালের ১ নভেম্বর ফার্মগেটের তেজতুরি বাজারে জুলহাসকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করেছে। তার মা নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশের পরস্পর বিরোধী প্রতিবেদনে অসন্তোষ জানিয়ে তলবের এ আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গত ২৫ এপ্রিল একটি দৈনিকে ‘অশীতিপর রাবেয়া: আদালতের বারান্দায় আর কত ঘুরবেন তিনি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা সংযুক্ত করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল।

প্রতিবেদনে বৃদ্ধার বরাত দিয়ে বলা হয়, ‘১৮ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দেই। মামলা শেষ হয় না। কবে শেষ হবে, তাও জানি না। পুলিশরে শরবত, মোরব্বা বানাই খাওয়াইছি। তারপরেও মামলায় আমারে আসামি বানাইছে। আমি আর বাঁচতে চাই না। মরতে চাই। আদালত আমারে মামলা থেকে খালাসও দেয় না, শাস্তিও দেয় না।'

রিটের প্রেক্ষিতে বিচারিক আদালতে বৃদ্ধার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। বিচারক ও সরকারি কৌসুলিকেও তলব করেন আদালত।

আপনার মতামত লিখুন :

নোয়াখালীর আদালতের পেশকারসহ ৩ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

নোয়াখালীর আদালতের পেশকারসহ ৩ জনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
হাইকোর্ট

নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার নাজমুন নাহারসহ তিনজনকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচার মামলায় চার সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। অপর দুজন হলেন বিজন ভৌমিক ও আফরোজা আক্তার।

সোমবার (১৯ আগস্ট) বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী হাসিনা জাহান হাজারী। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো.আসিফ হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, আদালত তাদের জামিন না দিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। 

গত ৫ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের নোয়াখালীর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুবেল আহমেদ নোয়াখালী জেলা জজ আদালতের নাজির আলমগীর হোসেনসহ চার জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলা করেন। এরমধ্যে স্ত্রী নাজমুন নাহার এবং বোন আফরোজা আক্তার রয়েছেন।

মামলার পর ওইদিনই আলমগীরকে গ্রেফতার করে দুদক । গ্রেফতারের ৭ ঘণ্টা পর নোয়াখালীর আদালত তাকে জামিন দেন।

এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত মোট ৭ কোটি ১৭ লাখ ৩৫ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পত্তি অর্জন করেন।  ওই সম্পদ ভোগদখল রেখে প্রতারণামূলকভাবে মানি লন্ডারিং-সম্পৃক্ত অপরাধ, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে লব্ধ অর্থের উৎস গোপনের লক্ষ্যে হেবা দলিল সম্পাদন, দলিলে জাল জালিয়াতি এবং বেনামে সম্পদ অর্জন এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠান মেসার্স ঐশী ট্রেডার্সের ব্যবসার আড়ালে মোট ২৭ কোটি ৮২ লাখ ৭২ হাজার ৯৬৬ টাকা অবৈধভাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন।

এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতি: রাজউক কর্মকর্তার আগাম জামিন

এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতি: রাজউক কর্মকর্তার আগাম জামিন
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

বনানীর ফারুক রুপায়ণ (এফআর) টাওয়ারের নকশা জালিয়াতির মামলায় রাজউকের সাবেক এস্টেট কর্মকর্তা রেজাউল করিম তরফদারকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সময়ের পর তাকে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান রহিম ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আরও পড়ুন: এফআর টাওয়ার ‍দুর্নীতির মামলায় তাসভিরের জামিন

আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জানিয়েছেন, জামিন স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করা হবে।

গত ২৬ জুন নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধভাবে এফআর টাওয়ার ১৬ থেকে ২৩ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে টাওয়ারের মালিক, রাজউকের সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলায় ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারের ১৯ তলা থেকে ২৩ তলা নির্মাণ, বন্ধক প্রদান ও বিক্রি করার অভিযোগে দণ্ডবিধির সাতটি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

গত ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। এতে ২৭ জন মারা যান। একই মামলায় গত ১৬ জুলাই রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান কেএএম হারুনকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সাবেক ইমারত পরিদর্শক মো. আওরঙ্গজেব সিদ্দিকী ও সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. নজরুল ইসলামকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন আদালত।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র