শিশু ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, শেরপুর, বার্তা২৪.কম
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কান্তি মারাক, ছবি: বার্তা২৪

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কান্তি মারাক, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

শেরপুরে আদিবাসী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় কান্তি মারাক (৪১) নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারকে আরও এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতেও আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান একমাত্র আসামির উপস্থিতিতে এই রায় দেন। দণ্ডিত কান্তি মারাক নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পানিহাতা ফেকামারী এলাকার নীতিশ মান্দার ছেলে।
ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু জানান, ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় নালিতাবাড়ী উপজেলায় সীমান্তবর্তী পানিহাতা ফেকামারী এলাকায় প্রজিন্দ্র মারাক ও তার স্ত্রী তাদের নাতি বিথি দিওয়াকে (৮) বাড়িতে রেখে বাইরে যান।

বাড়িতে একা পেয়ে শিশু বিথি দিওয়াকে ফুসলিয়ে নিজের বসতঘরে নিয়ে ধর্ষণ শেষে গলা টিপে হত্যা করে একই এলাকায় বসবাসকারী শিশুটির আত্মীয় কান্তি মারাক। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বসতবাড়ির পাশের পানি সেচের ড্রেনে বিথি দিওয়ার লাশ ফেলে রাখেন। বিথির নানা প্রজিন্দ্র মারাকসহ পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে কান্তি মারাকের বসতঘরে বিথি দিওয়ার রক্তাক্ত হাফ প্যান্টসহ পাশের সেচের ড্রেনে তার লাশ পায়।

পরদিন প্রজিন্দ্র মারাক বাদী হয়ে কান্তি মারাককে আসামি করে নালিতাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরদিনই কান্তি মারাককে পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরে তিনি আদালতে ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় কান্তি মারাক। তদন্ত শেষে একই বছরের ৪ জুন কান্তি মারাকের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজ আল আসাদ।

বাদী, জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ট্রাইব্যুনাল একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল

আপনার মতামত লিখুন :