দুধ-দই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা চাইলেন হাইকোর্ট



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
হাইকোর্ট/ছবি: সংগৃহীত

হাইকোর্ট/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও লাইসেন্স ছাড়া পাস্তুরিত দুধ এবং দই উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা দুই সপ্তাহের মধ্যে দাখিল করতে বিএসটিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোবাবার (২৩ জুন) বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন।

আগামী ১৫ জুলাই এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে।

পৃথক আদেশে পাস্তুরিত দুধের ওপর গবেষণা করা অধ্যাপক ড. শাহ নীলা ফেরদৌসীকে তার গবেষণা প্রতিবেদনের জন্য চাপ না দিতে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেন আদালত। গবেষণার নিয়ম অনুসারে তিনি প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রকাশে বাধ্য নন। আদালতের নির্দেশে তিনি প্রতিষ্ঠানের নাম দাখিল করেছেন।

আদালত বিএসটিআইয়ের আইনজীবী সরকার এম আর হাসান ও কর্মকর্তা নুরুল ইসলামের বক্তব্য শোনেন। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

বিএসটিআই দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ৩০৫ টি নমুনা সংগ্রহের প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এতে বলা হয়, দুইটি নমুনায় (ঢাকা-সিলেট) নিম্নমাণের পণ্য পাওয়া গেছে। বাকীগুলোতে কোন সমস্যা পাওয়া যায়নি।

বিএসটিআইর আইনজীবী জানান, তারা পাস্তুরিত দুধ ও দই বাজারজাত করণে ১৮ টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছেন। এর বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব তাদের নয়। জবাবে আদালত বলেন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকি করা যেমন আপনাদের দায়িত্ব তেমনি লাইন্সেস ছাড়া দুধ ও দই বাজারজাত করছে তাদের দেখার দায়িত্বও আপনাদের। আপনাদের এই বক্তব্য হলফনামা আকারে আদালতে দাখিল করে জানান।

আদালত বলেন, ড. শাহনীলার প্রতিবেদনে গুলশানের অভিজাত দোকানগুলোতে লাইসেন্স ছাড়া কোম্পানির দুধ বিক্রির বিষয় উল্লেখ রয়েছে। আপনাদের (বিএসটিআই‘র আইনজীবী) বক্তব্য সঠিক নয়।

আদালত বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে ? লাইসেন্স নেই অথচ দুধ বাজারজাত করছে। এটা দেখার দায়িত্ব কার ?

জবাবে বিএসটিআইর আইনজীবী বলেন, এটা দেখা দেখবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের।

এ সময় দুদকের আইনজীবী মামুন মাহবুব ও রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি  জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন বলেন, আইনে বিএসটিআইকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দায় এড়াতে চাচ্ছে।

বিএসটিআইয়ের আইনজীবী আদালতকে বলেন, বেআইনিভাবে যারা দুধ ও দই বাজারজাত করছে তাদের পণ্য ধ্বংস করার আদেশ দিন।

তখন আদালত বলেন, আপনারা স্ববিরোধী কথা বলছেন। একটু আগে বললেন, দেখার দায়িত্ব আপনাদের না। এখন আবার ধ্বংস করার আদেশ চাচ্ছেন। আগে আপনারা তালিকা দাখিল করুন। তারপর দেখা যাবে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি তিনটি জাতীয় দৈনিকে দুধ-দইয়ে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার অনুজীব,কীটনাশক, সিসা, থাকার প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। তিন মাসের মধ্যে কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। ওইদিন ন্যাশানাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির প্রধান অধ্যপক ড. শাহনীলা ফেরদৌসীকে ১৫ দিনের মধ্যে তার গবেষণা প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে বলা হয়।

গত ৮ মে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, তারা ১৬ সদস্যের কমিটি গঠন করে কার্যক্রম শুরু করেছেন। কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দিতে বলেন আদালত।