সন্তান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মায়ের খালাস

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
আদালতের প্রতীকী ছবি

আদালতের প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে দেড় বছরের শিশু ডিপজল হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত শিশুটির মা লতিফা বেগমসহ তিনজনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী না থাকা এবং সাক্ষ্যে গড়মিল থাকায় তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত।

আসামিদের করা আপিল মঞ্জুর এবং ডেথ রেফারেন্স খারিজ করে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে আসামি পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক খান ফরিদ। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী সাইফুর রহমান রাহি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম এ মান্নান মোহন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আতিকুল হক সেলিম।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনা রেল এম এ মান্নান মোহন বলেন, ‘সাক্ষ্যে গড়মিল থাকাসহ বিভিন্ন কারণে আদালত ডেথ রেফারেন্স খারিজ করেছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।’

আইনজীবী এ কে এম ফজলুল হক খান ফরিদ বলেন, ‘মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষী ছিল না। এ কারণে খালাস পেয়েছেন আসামিরা।’

২০০৪ সালের ২১ এপ্রিল শিশু ডিপজল হত্যা মামলায় বাগেরহাটের জেলা ও দায়রা জজ আদালত ডিপজলের মা লতিফা বেগম, তার স্বামী ইকু বিশ্বাস, একই গ্রামের আয়েন উদ্দিন মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা ও লুৎফর রহমানের স্ত্রী নাজমা বেগমকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। মনির মোল্লা ও নাজমা বেগম সম্পর্কে ভাই-বোন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, লতিফা বেগম প্রতিবেশী মনির মোল্লার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে ঝগড়ার পর ইকু বিশ্বাস স্ত্রী লতিফা বেগমকে মারধর করেন। এ ঘটনায় আসামিরা ইকু বিশ্বাসের ওপর ক্ষিপ্ত হন। ২০০৫ সালের ১২ এপ্রিল ভোরে ডিপজল নিখোঁজ হন। পরদিন বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ওই দিনই মোল্লাহাট থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

ময়নাতদন্তের পর ২৯ অক্টোবর মনির মোল্লা ও নাজমা বেগমকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন ইকু বিশ্বাস।
বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স হিসেবে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে। আসামিরা জেল আপিল করেন। মঙ্গলবার আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে তারা খালাস পেলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর