ওসি মোয়াজ্জেমের বিচার শুরু

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন/ ছবি: সংগৃহীত

সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন/ ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৬, ২৯ ও ৩১ ধারায় চার্জ গঠন করেন। চার্জ গঠনের মধ্য দিয়ে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হলো।

ওসি মোয়াজ্জেমকে চার্জ পড়ে শোনানোর পর তিনি দোষী কি-না জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। আগামী ৩১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়েছে।

ওসি মোয়াজ্জেমকে মামলা হতে অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী আবু সাঈদ সাগর ও ফারুক আহমেদ। বিচারক তা নাকচ করে দেন।

মামলার বাদী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ ‍জুন বিকালে হাইকোর্ট এলাকা থেকে তাকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ। পরদিন তাকে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ১৫ এপ্রিল ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন।

ঐদিন সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস শামস জগলুল হোসেন বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে ঘটনাটি তদন্ত করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দেন।

পিআইবি ঘটনা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করলে গত ২৭ মে ট্রাইব্যুনাল প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ওসি মোয়াজ্জেমকে গ্রেফতারের পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

জবানবন্দি দেওয়ার সময় বাদী সুমন বলেছিলেন, ‘যৌন হয়রানির বিষয়ে নুসরাত থানায় অভিযোগ করতে গেলে আসামিসহ তাকে থানায় নেওয়া হয়। সেই সময় ওসি মোয়াজ্জেম তাকে আপত্তিকর জেরা করেন ও জেরার ভিডিও তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন।

নুসরাতের মৃত্যুর পরদিন ১১ এপ্রিল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি তা ছেড়ে দেন। থানার ভেতরে এমন ভিডিও ধারণ করা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছেড়ে দেওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপরাধ।

উল্লেখ্য, গত ১০ এপ্রিল অগ্নিদগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর