ঘুষ লেনদেনের মামলায় ডিআইজি মিজানের জামিন নামঞ্জুর

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটেয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
ডিআইজি মিজান ও দুদক লোগো

ডিআইজি মিজান ও দুদক লোগো

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে বাঁচতে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের মামলায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশের ডিআইজি মিজানের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী এহসানুল হক সমাজী। জামিনের বিরোধিতা করেন দুদকের আইনজীবী মীর মো. আব্দুস সালাম।

শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক কে এম ইমরুল কায়েস জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের পরিচালক শেখ মো. ফানাফিল্যার আবেদনে গত ২১ জুলাই ডিআইজি মিজানকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অন্য একটি মামলায় গত ২ জুলাই থেকে কারাগারে আটক ছিলেন তিনি।

গ্রেফতারের আবেদনে বলা হয়, মিজানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে বাঁচতে তিনি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মামলার অপর আসামি দুদক পরিচালক (সাময়িক বরখাস্ত) এনামুল বাছিরকে ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি সরকারি কর্মকর্তা হয়ে নিজের বিরুদ্ধে আনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে অপর আসামি এনামুল বাছিরকে অবৈধভাবে প্রভাবিত করতে অবৈধ পন্থায় অর্জিত অপরাধলব্ধ আয় থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে পরস্পর অপরাধ করেছেন।

নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার হওয়ার পর ডিআইজি মিজানের অবৈধ সম্পদ তদন্ত শুরু করেন দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। তদন্ত শেষে মিজানের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন জমা দেন তিনি।

এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে ডিআইজি মিজান অভিযোগ করেন, মামলা থেকে বাঁচাতে বাছির তার কাছে থেকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রমাণ স্বরূপ বাছিরের সঙ্গে তার কথোপকথন ফাঁস করে দেন। তবে এনামুল বাছির তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

গত ২৪ জুন ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৩ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মিজান, তার স্ত্রী সোহেলিয়া আনা রত্না, ভাগ্নে এসআই মাহমুদুল হাসান ও ছোট ভাই মাহবুবুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

গত ১ জুলাই আত্মগোপনে থাকা এ পুলিশ কর্মকর্তা হাইকোর্টে আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন। ২ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে তার জামিনের আবেদন নাকচ করে জিআইজি মিজানকে কারাগারে পাঠান আদালত।

আপনার মতামত লিখুন :

এ সম্পর্কিত আরও খবর