মিন্নির কারামুক্তি ঠেকাতে এবার আপিলে যাবে রাষ্ট্রপক্ষ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, ছবি: সংগৃহীত

আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আটকাতে এবার লিভ টু আপিল করবে রাষ্ট্রপক্ষ। হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালতে বহাল থাকায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল বলেন, ‘হাইকোর্টের জামিনের বিরুদ্ধে আমরা লিভ টু আপিল দায়ের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি হাতে না পাওয়ায় স্থগিতের আবেদন করেছিলাম। চেম্বার জজ আদালত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) ‘নো অর্ডার’ দিয়েছেন। হাইকোর্টের দেওয়া মিন্নির জামিনের রায় রোববার (১ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত হওয়ায় আমরা এখন নিয়মিত আপিলের (লিভ টু আপিল) সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ সিদ্ধান্তের বিষয় জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে একটি নোট জমা দিয়েছি।’

মিন্নিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর নো অর্ডার (কোন আদেশ নয়) দেন চেম্বার জজ বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

গত ২৯ আগস্ট মিন্নির জামিন প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, মিন্নিকে বরগুনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে জামিননামা সম্পাদনের শর্তে জামিন দেওয়া হলো। জামিনে থাকা অবস্থায় আসামি মিন্নি তার বাবার হেফাজতে থাকবেন এবং তিনি গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন। আসামি কর্তৃক অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের সুবিধা অপব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আদালত আইনের নির্ধারিত নিয়মে জামিন বাতিল করতে পারবে।

গত ২৮ আগস্ট মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না এ রুলের ওপর শুনানি শেষে পর দিন আদেশের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

এর আগে ২০ আগস্ট মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে সিডি (কেস ডকেট) নিয়ে হাইকোর্টে হাজির হতে বলা হয়। এছাড়া মিন্নির দোষ স্বীকার নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে পুলিশ সুপারকে (এসপি) লিখিত ব্যাখ্যা দিতেও বলা হয়।

গত ৮ আগস্ট বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ মিন্নির জামিন না দিয়ে রুল জারি করতে চাইলে আইনজীবীরা আবেদন ফেরত নেন। এরপর গত ১৮ আগস্ট হাইকোর্টের রায় প্রদানকারী বেঞ্চে এটি দাখিল করা হয়।

২৬ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে রিফাত শরীফকে কোপাতে থাকেন সন্ত্রাসীরা। স্ত্রী মিন্নি রিফাতকে রক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ২ জুলাই ভোরে প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।

১৬ জুলাই সকালে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রিফাত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ওই দিন রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :