খালেদার পরিবারের লিজ নেওয়া জমির আপিল শুনানির আবেদন

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
হাইকোর্ট (বাঁয়ে), (ডানে) খালেদা জিয়া

হাইকোর্ট (বাঁয়ে), (ডানে) খালেদা জিয়া

  • Font increase
  • Font Decrease

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পরিবারের নামে বরাদ্দ দেওয়া (লিজ) দিনাজপুরের মাতাসাগরের প্রায় ৪৫ একর খাস জমি সংক্রান্ত মামলায় দ্রুত আপিল শুনানির আবেদন জানিয়েছেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জেলা প্রশাসকের পক্ষে সহকারী কমিশনার (এসিল্যান্ড) মো. আরিফুল ইসলাম এ আবেদন করেন।

সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী বশির আহমেদ আবেদন দায়েরের পর সাংবাদিকদের জানান, ৪৫ একর জমি সরকারের সম্পত্তি। সাবেক আইন সচিব (আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক দুলাল) দিনাজপুরের যুগ্ম জেলা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দ্রুততম সময়ে রায় দিয়ে জমিটি তাদের দখলে হস্তান্তর করেন। ২০০৪ সালে এ সম্পত্তি নিয়ে মামলা হয় এবং ২০০৫ সালে রায় হয়। এত অল্প সময়ে রায় ঘোষণাটি ছিল অনভিপ্রেত। এ রায়ের পর হাইকোর্টে আপিল হলে মামলার এক্সিবিট (প্রদর্শিত নথিপত্র) নিয়ে গেছে, যার কারণে মামলাটি প্রস্তুত হচ্ছে না। দ্রুত আপিলটি শুনানি করার জন্য রোববার দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে সেখানকার এসিল্যান্ড হলফনামা করেছেন।

জানা যায়, মাতাসাগরের প্রায় ৪৫ একর খাস জমি বরাদ্দ হয় খালেদা জিয়ার বাবার মালিকানাধীন দিনাজপুর লাইভস্টক অ্যান্ড পোলট্রি ফার্মের নামে। জিয়াউর রহমানের আমলে বন্দোবস্তের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়। খালেদা জিয়ার বাবার মৃত্যুর পর তার ভাই, বোন এবং একপর্যায়ে তার মা পোলট্রি ফার্মের ব্যবসায়িক শেয়ার বিক্রি করে দেন। সর্বশেষ ওই পোলট্রি ফার্মের শেয়ারের মালিকানা দাঁড়ায় বিএনপি নেতা চারদলীয় জোট সরকারের মন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান ও তার ভাই মিজানুর রহমানের নামে।

২০০৪ সালে খাস জমিটি সরকারের নামে রেকর্ড হয়েছে জানতে পেরে নিজেদের নামে সত্ত্ব ঘোষণার দাবিতে দিনাজপুরের আদালতে মামলা করেন মিজানুর রহমান ও ফজলুর রহমান। বিএনপি শাসনামলে ২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল ওই জমির সত্ত্ব তাদের দু’জনের নামে ঘোষণা করে রায় দেন দিনাজপুরের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের তৎকালীন বিচারক সদ্য বিদায়ী আবু সালেহ শেখ মোহাম্মদ জহিরুল হক দুলাল।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি আপিল করে সরকার। কিন্তু মামলায় প্রদর্শিত নথি না থাকায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর আপিলটি শুনানি করা সম্ভব হয়নি। আপিলটি দ্রুত শুনানির জন্য দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের পক্ষে একটি আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বিবাদীপক্ষ (জেলা প্রশাসন) আপিলটি দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নিলেও তা সম্ভব হয়নি, কারণ বাদীপক্ষ রায় ঘোষণার পর পরই প্রদর্শিত নথিপত্র নিম্ন আদালত থেকে উঠিয়ে নেয়। বাদীপক্ষ একাধিক নোটিশ গ্রহণ করলেও তারা ওই নথিপত্র দাখিল করেনি। বাদীপক্ষ জেনেশুনেই এ আপিল নিষ্পত্তি করতে বিলম্ব করছে। এ কারণে ওই সব প্রদর্শিত নথি ছাড়াই দ্রুত আপিলটি নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।

মাতাসাগর দীঘি দিনাজপুরের মহারাজার সম্পত্তি। ৪৫.৯৪ একর আয়তনের খাস জমি ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে খালেদা জিয়ার বাবার মালিকানাধীন দিনাজপুর লাইভস্টক অ্যান্ড পোলট্রি ফার্মের নামে বন্দোবস্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর এক সপ্তাহের মধ্যে ১৯৮১ সালের ৪ জুন বন্দোবস্তের আদেশ পান। বন্দোবস্ত নিয়ে খালেদা জিয়ার বাবা এমই মজুমদার ওই ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তার মা তৈয়বা মজুমদার পরিচালক হিসেবে ভোগদখল করতে থাকেন। পরে এমই মজুমদার ১৯৮৪ সালে মারা গেলে ওয়ারিশ হিসেবে ছেলে সাঈদ ইস্কান্দার, শামীম ইস্কান্দার, মেয়ে খুরশীদ জাহান হক, খালেদা জিয়া এবং শালিনা ইসলামকে রেখে যান। তারা পরে তাদের ব্যবসায়িক শেয়ার তাদের মা তৈয়বা মজুমদারের কাছে বিক্রি করেন।

আপনার মতামত লিখুন :