থাই লায়নে ভ্রমণে নানান অভিযোগ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

থাইল্যান্ডের এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্নাম রয়েছে থাই লায়নের। ২০০৫ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে বিলম্ব ফ্লাইট, বাজে সেবা ও যাত্রী হয়রানিসহ বিভিন্ন কারণে বার বার আলোচনায় এসেছে থাই লায়ন।

সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় লায়ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট দুর্ঘটনাকবলিত হয়ে ১৮৯ জন ব্যক্তির প্রাণ গেলে আবারো আলোচনায় আসে ইন্দোনেশিয়া ভিত্তিক লায়ন এয়ার গ্রুপ।

গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে ঢাকা-ব্যাংকক রুটে যাত্রা শুরু করেছে থাই লায়ন। তবে এরই মধ্যে যাত্রী হয়রানিতে নিজেদের পরিচিত করে তুলেছে এই এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ।

গত ১২ অক্টোবর থাই লায়নে পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ব্যাংককে ভ্রমণ করেন সোহেল মামুন। তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে এই এয়ারলাইন্সের সেবা নতুন চালু হওয়ায় ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেই। আশা করেছিলাম, নতুন সেবা হয়তো ভাল হবে। কিন্তু এখন বলছি, এটাই প্রথম ও শেষ ভ্রমণ এই এয়ারলাইন্সে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/02/1541159589859.jpg

কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘বিমানের আসনগুলো খুবই আঁটোসাঁটো। সিটের সামনে পা রাখার জায়গা মাত্র ১৭ সেন্টিমিটারের মতো। একজন সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার লোকের জন্যে এই ধরণের আসনে বসা খুবই কষ্টকর।’

এছাড়াও প্রায় আড়াই ঘণ্টার ফ্লাইটে কখনোই বাতি নেভানো হয় না। প্রায় পুরো সময়টাতেই ক্রুরা বিভিন্ন পণ্য বিক্রিতে ব্যস্ত থাকেন বলে জানান তিনি।

এছাড়াও এই বিমানটি ব্যাংককের ডন মুয়াং এয়ারপোর্টে ল্যান্ডিং করে। যেখানে সাধারণত থাইল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ল্যান্ড করে। আর আর্ন্তজাতিক রুটের যাত্রী বলতে বেশিরভাগই চায়নিজ। ইমিগ্রেশনে যাওয়ার পূর্বেই ভারতীয় আর বাংলাদেশি যাত্রীদের পাসপোর্ট ও ভিসা চেক করা হয়। এই এয়ারপোর্টে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের অনেককেই ইমিগ্রেশনের আগেই সিকিউরিটি কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

সোহেল বলেন, ‘পরিবারসহ মাঝ রাতে এই ধরনের পরিস্থিতিতে পড়লে সেটা সত্যিই বিব্রতকর।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2018/Nov/02/1541159602961.jpg

ঢাকা থেকে থাই লায়নের ফ্লাইটটি ছেড়ে যায় গভীর রাতে। আর ব্যাংককে ল্যান্ড করে ভোর ৫ টা ১৫ মিনিটে। এই সময় ইমিগ্রেশন বা এয়ারপোর্টে বিড়ম্বনার শিকার হলে সেটি সত্যিই বিরক্তিকর।

থাইল্যান্ডের যাত্রীরাও এই এয়ারলাইন্সের ওপর বেশ বিরক্ত। এয়ারলাইনস কোয়ালিটিতে রিভিউ দিতে গিয়ে এলফ্রেড তার ব্যাংকক থেকে ক্রাবিতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে লিখেছেন, ‘এটা দুনিয়ার সবচেয়ে বাজে এয়ারলাইন্সগুলোর একটি। পা রাখার জন্যে মাত্র ১৭ সেন্টিমিটার বা ৮. ৬ ইঞ্চি জায়গা রাখা হয়। একজন ইউরোপীয়ান বা লম্বা ব্যক্তির জন্যে ঠিকমতো বসা অসম্ভব। এখানে বসে নিজের মোবাইলটাও ব্যবহার করা যায় না।’

ডি চেলাই তার রিভিউতে লিখেছেন, ‘ফুকেট থেকে ব্যাংককের ফ্লাইটের নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১১টা ৫০ মিনিট। ফ্লাইট ধরার জন্য সকাল ৮টার মধ্যে হোটেলে চেক আউট করে এয়ারপোর্টে চলে যাই। তবে সেখানে গিয়ে দেখতে পাই ফ্লাইট ৩ ঘণ্টারও বেশি সময়ের জন্যে দেরি হবে।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘থাই লায়ন কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার জন্য কোন রকম দুঃখ প্রকাশ করেনি বা কোন ধরণের ক্ষতিপূরণ অফার করেনি। এটা সত্যিই দুঃখজনক।’

আপনার মতামত লিখুন :