Alexa

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যে ইতিহাস লেখা হয়নি

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যে ইতিহাস লেখা হয়নি

তানজানিয়ায় ব্রিটিশ সৈন্যদের কবর /ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ হয়েছে ইউরোপে কিন্তু আফ্রিকায় মানুষ কেন হত্যা হবে? তবে এটা যে বিশ্বযুদ্ধ, এখানে বিশ্বের সব দেশের মানুষ না মারা গেলে কিংবা সব দেশের ক্ষতি সাধন না হলে এটাতো সেভাবে বিশ্বযুদ্ধ বলা যায় না।

এ জন্যই হয়ত সারা পৃথিবীতে এক দেশ অন্য দেশের প্রতি এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে অবলীলায়। বলছি প্রথম বিশ্ব যুদ্ধের কথা। যে যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীরা ছাড়াও লাখো মানুষ নির্বিকার প্রাণ হারিয়েছে অগোচরে।

অনেক দেশ আছে যারা শুধু সীমান্তবর্তী হওয়ায় বিশ্বের জঘন্য তাণ্ডবলীলার নির্মম সাক্ষী হয়েছে। আবার এমনও অনেক দেশ ও অনেক মানুষ শুধু যুদ্ধের সাক্ষী হয়েছে কিন্তু ইতিহাস হতে পারেনি।

তেমনি একটি দেশ তাঞ্জানিয়া। পূর্ব আফ্রিকার এ দেশটিতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নির্মম হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার। ১০০ বছর পূর্বের এই যুদ্ধে মাত্র কয়েকজন জার্মান সৈন্যকে কেন্দ্র করে দেশটিতে হত্যাযজ্ঞ চালায় ব্রিটিশ সৈন্যরা।

১৯১৪ সালে যুদ্ধ শুরুর দিন থেকে ১৯১৮ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ পরে ব্রিটিশরা এই অঞ্চল থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করে। চার বছরের এ সময়টাতে এক লাখেরও বেশি তাঞ্জানিয়ান নাগরিক প্রাণ হারায়। অথচ তাঞ্জানিয়ার এই অঞ্চলটিতে মাত্র ২৫ হাজার জার্মান সৈন্য ছিল বিধায় দেশটির লক্ষাধিক প্রাণ বলিদান দিতে হয়েছে।

কী দোষ ছিল এই অঞ্চলের মানুষদের? প্রথম বিশবযুদ্ধ চলাকালীন আফ্রিকার দেশটি জার্মানদের উপনিবেশে ছিল। জার্মানদের দখলে থাকা দেশটিতে নিজেদের সামরিক মহড়া ও এর আশেপাশের দেশকে ঘায়েল করার জন্য সেখানে সেনা মোতায়েন করে। এজন্য ব্রিটিশ সরকার তাঞ্জানিয়ায় অবস্থিত জার্মান সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের অজুহাতে দেশটিতে এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়।

সম্প্রতি, বিশ্বযুদ্ধ বিশেষজ্ঞ দেশটির  ইতিহাসবিদ ক্যাথলিন বোনামি বলেন, ‘আমি এই হত্যাযজ্ঞের ভেতর বাহির সব জানি। ইউরোপের মত এখানেও প্রথম বিশবযুদ্ধের শহীদদের স্মরণ করা হয়।’

অথচ তাঞ্জানিয়ার এই ইতিহাস লেখা হয়নি কোন বৈশ্বিক ইতিহাসের বইয়ের পাতায়। কখনো কোনো বিশ্বনেতার মুখে উচ্চারিত হয় না এই হত্যাযজ্ঞের কথা। এ যেন এক অলিখিত ইতিহাস, যা কেউ কোনো দিন জানবে না, পড়বে না।

শুধু তাঞ্জানিয়ার মানুষজন এ হত্যাযজ্ঞকে স্মরণ করে যাবে। এমনকি দেশটিতে নিহত ব্রিটিশ সেনাদের জন্য ইটের কবরস্থান তৈরি করা হলেও স্বদেশেই নিখোঁজ রয়েছে তাঞ্জানিয়ার মৃতদের কবর।

আপনার মতামত লিখুন :