Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পরই কৃষি ঋণ মাফের ঘোষণা

মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পরই কৃষি ঋণ মাফের ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রীর শপথের পর কমল নাথ, ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিধানসভার নির্বাচনের পূর্বেই ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হলেই কৃষি ঋণ মাফ করে দিবেন। যেমন কথা তেমন কাজ। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর শপথ নিয়েই কৃষি ঋণ মাফ করে দিয়েছেন রাজ্যটির নবনিযুক্ত মুখ্য মন্ত্রী কমল নাথ।

সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কমল নাথ। শপথ নেয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি এ ঘোষণা দেন।

এখন পর্যন্ত ভারতের পাঁচটি রাজ্যে বিধানসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঁচ রাজ্যের তিনটিতেই জয় পেয়েছে ক্ষমতার বাইরে থাকা কংগ্রেস। রাজ্যগুলো হচ্ছে, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিসগড় ও রাজস্থান।

বাকি দুই রাজ্যে তেলেঙ্গা ও মিজোরামে যথাক্রমে জয় পেয়েছে টিআরএস ও এমএনএফ। ইতোমধ্যেই কংগ্রেসের জয় পাওয়া তিনটি রাজ্যেই কংগ্রেস নির্ধারিত মুখ্যমন্ত্রীরা শপথ বাক্য পাঠ করেছেন।

এর মধ্যে মধ্যপ্রদেশে কমল নাথকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে। ছত্তিসগড়ে ভুপেশ বাঘেল মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ পাঠ করেন। রাজস্থানে অশোক গেহলট মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করেন। রাজস্থানে শচীন পাইলটকে তার সহকারী করা হয়েছে। শপথ বাক্য পাঠের সময় দলের সভাপতি রাহুল গান্ধীসহ অন্যান্য দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মধ্যপ্রদেশের নব্য মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথকে নিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচনা হয়েছে। শিক নিধনে ইন্ধন দেয়ায় আগে থেকেই বিতর্কিত ছিল কংগ্রেসের এই নেতা। কংগ্রেস জয় পেলে তাকে মুখ্যমন্ত্রী করতে পারে এমন সম্ভাবনার পরই বিজেপি নেতারা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচার চালিয়েছে। তবে শপথের মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে কৃষি ঋণ মাফ করে দেয়ায় জ্বলন্ত আগুনে ভালোই পানি ঢেলেছেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

আইসিসি প্রতিনিধিদল ঢাকায়

আইসিসি প্রতিনিধিদল ঢাকায়
ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের ঘটনা তদন্তে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) ঢাকায় এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতিনিধিদল।

তিন দিনের এ সফরে তারা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে জানতে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠক করবে।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) আইসিসি থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিনিধি দলের প্রধান ডেপুটি প্রোসিকিউটর জেমস স্টুয়ার্ট বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৪টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানাবেন।

এর আগে তারা পররাষ্ট্র, আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে। তিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের সঙ্গে আইসিসির একটি চুক্তি হতে পারে।

এর আগে গত মার্চ মাসে ঢাকায় এসেছিল আইসিসির প্রতিনিধিদল। সে সময় প্রতিনিধিদল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী এলাকা পরিদর্শন করে।

থাইল্যান্ডে মুসলিমদের হাই উৎসব

থাইল্যান্ডে মুসলিমদের হাই উৎসব
ছবি. বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

থাইল্যান্ডে দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মাবলম্বী মুসলিম জনগোষ্ঠী মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশেরও বেশি। যা সংখ্যায় ৬০ লক্ষের উপরে। থাইল্যান্ডে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতিকে বড় বিষয় হিসেবে ধরা হয়। নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি নির্বিঘ্ন পালনে দেশটি সহায়ক।

দক্ষিণ থাইল্যান্ড অর্থাৎ মালয়েশিয়া সীমান্তেই বেশিরভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাস। মোট মুসলিমদের অর্ধেকই বাস করে—নারাথিওয়াত, ইয়ালা, সাথুন, পাত্তানি এবং সোংখালা প্রদেশের কিছু জেলায়। এছাড়া উত্তর থাইল্যান্ডেও রয়েছে মুসলিম জনগোষ্ঠী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563293611565.jpg
হাই উৎসবে হামদ-নাত প্রতিযোগিতা ◢

 

গত শুক্রবার (১২ জুলাই) ব্যাংককের স্পোর্টস একাডেমি মাঠে থাই মুসলিমদের নিজস্ব মিলনমেলা ‘হাই উৎসব’-এর আয়োজন করা হয়। এ মেলায় স্থানীয় মুসলিম জনগোষ্ঠী নিজেদের সংস্কৃতি, ফ্যাশন ও খাদ্যাভ্যাসের রীতি তুলে ধরে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী থাইরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসলিমদের এই উৎসবে অংশ নেয়।হাই উৎসবে বড় প্যান্ডেলের নিচে মূল মঞ্চে বিকেল থেকেই স্কুল পর্যায়ের হামদ-নাত প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এই পর্যায়ে দর্শক শ্রোতা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক পর্বে হয়তো মানুষের ভিড় হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294341183.jpg
রাজামানগালা এলাকাতেই বেশিরভাগ মুসলিমদের বাস ◢

 

এখানে যে কোনো নাইট মার্কেট বা উৎসবস্থলের নির্দিষ্ট একটি অংশে থাকে খাবারের দোকান। হাই উৎসবেও ব্যতিক্রম নয়৷ ছোট বড় প্রায় ৬০টির মতো খাবারের দোকান রয়েছে মেলায়। দোকানগুলোতে গরুর কাবাব থেকে শুরু করে রয়েছে ছাগলের মাংস বা দুধ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294469719.jpg
উৎসবস্থলের নির্দিষ্ট একটি অংশে থাকে খাবারের দোকান ◢

 

এখানকার হালাল খাবার খেতে মুসলিমরা তো বটেই, ভিড় করে অন্য ধর্মাবলম্বীরাও। দক্ষিণ থাইল্যান্ডের মুসলিম জনগোষ্ঠীর খাবার আইটেমগুলোতে স্বাভাবিকভাবেই মালয় খাবারের স্বাদ ও রঙের প্রভাব লক্ষ করা যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563293755759.jpg
ব্যাংককে অবস্থানরত মুসলিমদের মিলনস্থল এই উৎসব ◢

 

জনসংখ্যার ৫ শতাংশ হলেও ইসলামী ব্যাংকিং এখানকার ব্যাংকিং ব্যবস্থার অন্যতম একটি দিক। হাই উৎসবেও রয়েছে ইসলামিক ইন্সুরেন্স, হালাল ফুড ইন্ড্রাস্টিজসহ আরো অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্টল৷ থাইল্যান্ডের মুসলিমরাও অন্য শহরগুলোর সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মতো একত্রে বসবাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এখানে রাজামানগালা এলাকাতেই বেশিরভাগ মুসলিমদের বাস। ব্যাংককের সবচেয়ে বড় মসজিদটিও রয়েছে এখানেই। এই মেলা শুধু কেনা বেচার জায়গাই নয়, ব্যাংককে অবস্থানরত মুসলিমদের সবচেয়ে বড় মিলনস্থলও এটি।

থাইল্যান্ডের বেশিরভাগ মুসলিমরা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। তবে ধর্মীয় গোঁড়ামিও রয়েছে অনেকের মধ্যে। যেমন সরকারি বাধার পরেও বাল্য বিবাহ সম্পর্কে সচেতন হতে ইচ্ছুক নয় এখানকার অনেক মুসলিম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563293856809.jpg

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294108139.jpg
বোরকার ফ্যাশনে পরিবর্তন এনেছে থাই মুসলিমরা ◢

 

মেলায় দুটি প্যান্ডেলের নিচে রয়েছে মুসলিমদের পরিধেয় কাপড়ের দোকান। মুসলিমদের মধ্যে শার্ট প্যান্টের পাশাপাশি জোব্বা পরিধানের রেওয়াজ রয়েছে৷ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মুসলিমদের মতো বড় কুর্তার বদলে ধর্মীয় পোশাক বলতে জোব্বারই আধিক্য। আমাদের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ান ঘরানার পাঞ্জাবি এই উৎসবে খুঁজে পাওয়া যাবে না৷ রয়েছে মেয়েদের বোরকার দোকান। বোরকার ফ্যাশনে যে কত ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব সেটা থাইল্যান্ডের এই বোরকার দোকানগুলো না দেখলে বোঝা যাবে না। আবার একরঙা সাদা বা কালো বোরকার দামও অনেক। কারণ এগুলোতে বসানো রয়েছে ঝকঝকে পাথর। দাম ৫০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563294262086.jpg
মুসলিমদের উৎসবে বক্তব্য রাখছেন একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু ◢

 

আরেকটি স্টলে চলছে একটি কর্মশালা। যেখানে একজন মুসলিম পুরুষ কয়েকজন নারীকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন কিভাবে একটি ওড়নাকে ব্যাগ এবং হরেক রকমের পাগড়ি বা স্কার্ফের মতো ব্যবহার করা যায়।

সন্ধ্যা হলে মূল মঞ্চে অতিথিরা আসতে থাকেন। সেখানে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুও বক্তব্য রাখছিলেন। থাই ভাষায় বললেও তার উপস্থাপনায় একটি ভিডিওতে ছিল ইংরেজি সাবটাইটেল। আর উপস্থাপনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল, ‘প্রদান করাই মানুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র