ট্রাম্পের সঙ্গে মতভেদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
জিম ম্যাটিস, ছবি: সংগৃহীত

জিম ম্যাটিস, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কমছেই না ট্রাম্প প্রশাসনের অস্থিরতা। নানা কারণে শুরু থেকেই ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ অনেকেই তার সঙ্গ ছেড়েছেন। পদত্যাগ করে এবার সেই দলে যোগ দিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিস। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অবসরে যাবেন তিনি।

দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক টুইট বার্তার বরাত দিয়ে শুক্রবার (২১ ডিসেম্বর) বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ম্যাটিস ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে অবসরে যাচ্ছেন। তিনি আমার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তাকারী ছিলেন।

ট্রাম্পের অবিরাম পরিবর্তিত মন্ত্রিসভার শক্তিশালী সদস্য ছিলেন চার তারকার অধিকারী এই জেনারেল। তিনি এক সময় নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। গত পাঁচ মার্কিন প্রেসিডেন্টের তুলনায় ট্রাম্পের শাসনামলে মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বেশি রদবদল হয়েছে।

ম্যাটিস ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধে তার কট্টর ভূমিকার জন্য সমালোচিত। ‘ম্যাড ডগ ম্যাটিস’ নামে পরিচিত। তিনি ‘মানুষকে গুলি করা আনন্দের’ মন্তব্য করে সমালোচিত হয়েছিলেন। ৪৪ বছর মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন।

২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০১৩ সালে ম্যাটিস অবসরে যান।

ম্যাটিসের পদত্যাগের কারণ সিরিয়া ও আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার প্রশ্নে ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতভেদ। দুই দিন আগে টুইটারে এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, সিরিয়ায় আইএসের পরাজয় হয়েছে, অতএব সেখান থেকে সব মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার করা হবে। পরের দিন জানা গেল, আফগানিস্তান থেকেও ৭ হাজার মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রাম্প।

ম্যাটিস তার পদত্যাগপত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সম্মানের কথা জানিয়েছেন। ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে তিনি লিখেছেন, বিভিন্ন বিষয়ে আপনার সঙ্গে যার দৃষ্টিভঙ্গির সাদৃশ্য রয়েছে তাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ করার অধিকার আছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, গর্বিত মন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্ট এবং জাতির জন্য অনেক কিছু করেছেন।

ম্যাটিসকে ট্রাম্প প্রশাসনে ‘স্থায়িত্বের দ্বীপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ডেমোক্রেটিক সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার। মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ম্যাটিসের পদত্যাগের মূলে রয়েছে ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতভেদ।

ম্যাটিসের স্থলে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তা এখনও জানাননি ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প বলেছেন, খুব শিগগিরই কাউকে ম্যাটিসের স্থলে নিয়োগ দেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :