Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

অলিম্পিকে খেলছেন খ্রিষ্টান ধর্ম যাজকরা!

অলিম্পিকে খেলছেন খ্রিষ্টান ধর্ম যাজকরা!
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কেমন হবে অলিম্পিকের খেলার মাঠে একজন ধর্ম যাজক দৌড়াচ্ছেন কিংবা একজন নারী ধর্ম যাজক শারীরিক কসরত দেখিয়ে পুরষ্কার জিতে নিচ্ছে? নিশ্চয়ই আলোচনা সমালোচনা শেষে সকলেই মাঠের খেলাটা উপভোগ করতে পারবে।

আর ঠিক এমনটা করতে এবং মাঠের খেলার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে চুক্তি করছে খৃষ্ট ধর্মের তীর্থস্থান ভ্যাটিকান সিটির ধর্ম যাজকরা। অলিম্পিকের মতো খেলায় অংশ নিতে টিম গঠন করার জন্য ইতালির সাথে এক দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) ইতালির সাথে চুক্তিটি সম্পন্ন করে। ফ্রান্সভিত্তিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র এক প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

ভ্যাটিকান অ্যাথলেটিকস নামে এই টিমে ৬০ জন সদস্য রয়েছে। যেখানে ধর্ম যাজক (প্রিস্ট, নান) নিরাপত্তা কর্মীরা রয়েছেন।

তবে ভ্যাটিকান এই টিম অলিম্পিকে যেতে পারবে কিনা এমন এক প্রশ্নে ভ্যাটিকান অ্যাথলেটিকসের প্রধান বলেন, ‘এটা একটা স্বপ্ন। তবে আমরা আশা হারাচ্ছি না। আমরা লম্বা সময় ধরে কাজ করে যাব নিজেদের প্রমান করতে।‘

এই দলটির সর্ব কনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের বয়স ১৯ বছর, সবচেয়ে বেশি বয়সী খেলোয়াড়ের বয়স ৬২।

তবে কে কি মনে করবে সেটা নিয়ে আপাতত ভাবছে না ক্ষুদ্র এই দেশটির মানুষরা। আপাতত খেলার মাধ্যমে মানুষের সাথে মিশতে পারাটাকেই বড় করে দেখছেন।

আপনার মতামত লিখুন :

ইস্তাম্বুলের জয় এক নতুন সূচনা

ইস্তাম্বুলের জয় এক নতুন সূচনা
ইস্তাম্বুলের জয়, এক নতুন সূচনা, ছবি: সংগৃহীত

ইস্তাম্বুলের জয়, এক নতুন সূচনা; এটাই ছিলো ইস্তাম্বুলের নবাগত মেয়র ইকরাম ইমামোগলুর প্রতিশ্রুতি। নবনির্বাচিত মেয়র ইমামোগলুর স্লোগান 'এভরিথিং উইল বি গ্রেট' -এখন তুরস্কের ইস্তাম্বুলের  প্রত্যেক মানুষের মুখে মুখে।

গত ৩১ মে'র নির্বাচনে ইকরাম ইমামোগলুর জয়ের জন্য ক্ষমতাসীন একে পার্টি মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। সেই নির্বাচনকে প্রত্যাহার করে, পুনরায় নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া ছিলো চূড়ান্ত বোকামি।
গত রোববার (২৩ জুন) পুনরায় মেয়র নির্বাচনের ফলাফল এমনটাই প্রমাণ করে। যেখানে সাত লাখেরও বেশি ভোটের বিরাট ব্যবধানের ইমামোগলুর জয় ইস্তাম্বুলের সাধারণ মানুষের জন্য ছিল এক নতুন দিগন্তের সূচনা।

ইমামোগলুর জয়ের পুনরাবৃত্তিতে বিরোধীদল শুধু আশাহত নয়, নিজেদের অবস্থানও নড়বড় হয়েছে। ইস্তাম্বুলের নির্বাচন তুরস্কের গণতন্ত্রের জন্য ছিলো প্রাণবন্ত এক নিঃশ্বাসের মতো, যেখানে ব্যালট বাক্সের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলো। পুনরায় দেওয়া নির্বাচনে ব্যালট বক্সের স্বাধীনতা বেঁচে থাকবে কিনা সেটা নিয়ে সবাই ছিল উদ্বেগ। গণতন্ত্র রক্ষার্থে মানুষের প্রার্থনা করা ব্যতিত আর কিছুই করার ছিলো না। কিন্তু এই নির্বাচন শুধুমাত্র ব্যালট বাক্সের স্বচ্ছতা প্রকাশ করেনি, একই সঙ্গে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে  ইস্তাম্বুলের স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধার করে।

এরদোয়ান তার ১৬ বছরের ক্ষমতায় তুরস্কের রাজনীতিতে একটি ছায়া এঁকে দিয়েছেন। তার করা অগণিত ভুলকে যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। যা আর জন্ম দিয়েছে ব্যাপক সমালোচনার।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্নীতিকে ইস্তাম্বুলের সাধারণ  মানুষ প্রশয় দিতে নারাজ সেটার অকট্য প্রমাণ এই নির্বাচন। একই সঙ্গে এরদোয়ানের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো এই জয় প্রতিরোধ করা অসম্ভব। শুধু তাই নয় এরদোয়ানের দলের জন্যও এ ভোট পূর্ব সতর্কবার্তা।   

এরদোয়ান নিজে এই নির্বাচনে প্রতিযোগী না হলেও, তার প্রার্থীর এই পরাজয় পক্ষান্তরে তার দলকেই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্থ গণতন্ত্র ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকেই ইঙ্গিত করেছে ইস্তাম্বুলের মানুষ।

ইস্তাম্বুল এরদোয়ানের জন্ম শহর। ইস্তাম্বুলেই তার রাজনৈতিক এবং কর্মজীবন শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতাই তার করা এক মন্তব্যে নিজেই ফেঁসে গিয়েছেন। তার মন্তব্যেটি ছিলো 'যে ইস্তাম্বুল জয়ী হবেন, সেই তুর্কি জয়ী হবেন'। এরদোয়ান শুধুমাত্র তুরস্কের প্রতিনিধিত্ব করে না, নিজের জন্মস্থান ইস্তাম্বুলেরেও প্রতিনিধিত্ব করেন। সেখানে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারানো অর্থাৎ তুরস্কের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানকেই হারিয়ে ফেলার ইঙ্গিত দেয়।

ইমামোগলুর জন্যও ছিল এটি একটি অনেক বড় সুযোগ যেখানে সে তার প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে তার জবাব দিয়েছেন। এই নির্বাচনে ছিলো তার নিরব প্রচারণা আর আশাবাদী  মনোভাব। যা বিকল্প ধারার নির্বাচনের জন্ম দিয়েছে।

ইস্তাম্বুল জুড়ে চলছে বিরোধীদলের জয়ের উৎসব উদযাপন। ইমামোগলু তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, অবশ্যই আমরা অনেক খুশি হয়েছি কিন্তু খুশি হওয়ার মানে এই নয় যে কারো মন ভেঙে আমরা খুশি হয়েছি। এটা কোন জয় নয়। এটা কেবল একটা নতুন শুরুর সূচনা।

হাড়ের বিরল রোগ নিয়েও হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত মেকআপ আর্টিস্ট

হাড়ের বিরল রোগ নিয়েও হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত মেকআপ আর্টিস্ট
মেকআপ করে দিচ্ছেন ক্যারি ভেলাজকুয়েজ, ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাশন সচেতনতার এ সময়ে মেকআপ আর্টিস্টের অভাব নেই। একেকজন মেকআপ আর্টিস্ট একেকজনের চাইতে দক্ষ, অভিজ্ঞ। আজকের গল্পটাও একজন মেকআপ আর্টিস্টের, তবে তিনি খুব সাধারণ কেউ নন। বিশেষ একজন, ব্যতিক্রম একজন।

গল্পটা পুয়ের্ত রিকোর পনসে জন্ম নেওয়া ক্যারি ভেলাজকুয়েজের। আর দশজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ মতো ছিল না তার বেড়ে ওঠা, তার জীবনের প্রবাহ। ছোট্ট ফুটফুটে ক্যারির মাত্র তিন দিন বয়সে ধরা পরে অস্টিওজেনেসিস ইমপারফেক্টা (Osteogenesis Imperfecta). বিরল এই রোগটি সাধারণত ‘হাড়ের ভঙ্গুর রোগ’ নামেই লোকমুখে বেশি পরিচিত। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাড় এতো বেশি হালকা-পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে থাকে যে, শুধুমাত্র দমকা বাতাসের তোড়েও হাড় ভেঙে যেতে পারে!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561378048333.jpg

বুঝতেই পারছেন, একদম ছোট থেকে ক্যারির জন্য জীবনটা সুখকর ছিল না মোটেও। হাড়ের এহেন দশায় শরীরে উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়নি। স্বাভাবিকভাবে হাঁটা, চলাফেরা করাও ক্যারির জন্য অসম্ভব। হুইল চেয়ারে বন্দী ক্যারির সময় কেটেছে, তার জীবনের অর্থ খুঁজে পেতেই। হ্যাঁ, একটা সময়ে এসে ক্যারি ঠিকই তার জীবনের অর্থ খুঁজে পেয়েছে। খুঁজে পেয়েছে তার প্যাশন।

ক্যারি সবসময়ই ইউটিউবে মেকআপ ভিডিওগুলো দেখতে ভালোবাসতেন। প্রথম প্রথম তার মাথা আসেনি, এই মেকআপ নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন তিনি। কিন্তু একটা সময় পর এই ভিডিওগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে মেকআপ পণ্যের দিকে হাত বাড়ান তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561378165477.JPG

ভিডিও থেকে শেখা পদ্ধতিগুলো প্রথমে নিজের উপরে প্রয়োগ করা শুরু করলেন। মেকআপ করার হাত যখন কিছুটা ভালো হলো তখন মা ও বোনদের সাজানো শুরু করলেন।

মা ও বোনরাও খেয়াল করলো একজন মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে ক্যারি বেশ সাবলীল। ভঙ্গুর হাড় ও আঁকা বাঁকা হাতে ব্রাশ ধরে স্বাচ্ছন্দে মেকআপ করে দিতে পারেন তিনি। সময় গড়ালে এভাবেই একজন প্রফেশনাল মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে নিজের পরিচিত গড়ে তোলেন ক্যারি। ইন্সটাগ্রামে নিজের আইডিতেও অহরহ শেয়ার করেন নিজের ছবি, তার হাতে সাজানো মডেলদের ছবি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561378184996.JPG

২৯ বছর বয়সী ক্যারি নিজের কাজ নিয়ে ভীষণ খুশি। যারা তার কাছ থেকে মেকআপ করিয়েছেন, তারাও দারুণ সন্তুষ্ট ক্যারির মেকআপ সার্ভিস নিয়ে। একজন দক্ষ মেকআপ আর্টিস্টের সাথে ক্যারির কাজের মাঝে কোন পার্থক্যই নেই।

নিজের দক্ষতা, চমৎকার আত্মবিশ্বাস, পরিবারের সমর্থন, বন্ধুদের সহযোগিতা থাকা সত্বেও প্রায়শ মন খারাপ করতে হয় ক্যারিকে। স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যারি বলেন, ‘এখনও আমি প্রচুর নেতিবাচক কমেন্ট পাই আমার বাহ্যিক গঠনের জন্য। আমি দেখতে খারাপ, আমার মাথা অনেক বড় কিংবা আমাকে দেখতে সঙয়ের মতো লাগে। এমন সব কথা। কিন্তু প্রতিবারই আমি এইসব কথাকে ভুল প্রমাণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561378197889.JPG

বিগত তিন বছর ধরে মেকআপ নিয়ে কাজ করে চলা ক্যারি ইতোমধ্যে তার কাজের জন্য কুড়িয়েছে সুখ্যাতি। নিজের শারীরিক অবস্থা, মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য কোনকিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আর সে কারণেই, ক্যারি হয়ে উঠেছেন অনেকের অনুপ্রেরণার উৎস।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র