রয়টার্সের ২ সাংবাদিকের আপিল খারিজ

মিয়ানমারে সাজাপ্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক/ ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম

রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আপিল খারিজ করেছেন মিয়ানমারের একটি আদালত। আন্তুর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে আপিল খারিজের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই রিপোর্টার ওয়া লোন (৩২) ও কিয়া সু (২৮)-কে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন মিয়ানমারের একটি আদালত।

রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার এই  বিচারে যথেষ্ট স্বচ্ছতা না থাকায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

কিন্তু এই মামলার রায় প্রদানকারী বিচারক অং নিয়াং কারাদণ্ডের সাজাকে যথাযথ উল্লেখ করেছেন। রায়ে তিনি বলেছেন, ‘দুই সাংবাদিককে নির্দোষ প্রমাণে আসামিপক্ষ যথেষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে পারেনি।’

দাফতরিক কিছু কাগজপত্র বহনের দায়ে দুই রিপোর্টারকে গ্রেফতার করা হয়, যা তাদেরকে পুলিশের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল।

ওয়া লোন ও কিয়া সু’কে এমন সময় গ্রেফতার করা হয় যখন উত্তর মিয়ানমারের রাখাইনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং নিপীড়নের মাধ্যমে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে দেশত্যাগে বাধ্য করা হচ্ছিল।

শুক্রবার আদালতের আপিল খারিজের আদেশের পর রয়টার্সের এডিটর ইন চিফ স্টিফেন জে এডলার এই আদেশকে আরেকটি অবিচার বলে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রিপোর্টিং কোনো অপরাধ নয়। যতক্ষণ মিয়ানমার এই ভুল না শোধরাবে ততক্ষণ মিয়ানমারের গণমাধ্যম মুক্ত হবে না।’

আদালতের এ আদেশের পর মিয়ানমারের আইন অনুযায়ী এই দুই সাংবাদিক এখন বিচারিক আদালতের বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারবেন। তবে এই আপিলও ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গ্রেফতারের পর থেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন ওয়া লোন ও কিয়া সু।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাখাইনের ইন দীন গ্রামে সেনাবাহিনী কর্তৃক ১০ রোহিঙ্গা নাগরিককে হত্যার ঘটনা তদন্ত করছিলেন রয়টার্সের এই দুই রিপোর্টার।

কিন্তু এ রিপোর্ট প্রকাশের আগেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। যে কাগজপত্র সাথে বহনের দায়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়, তা তাদেরকে সরবরাহ করেন পুলিশের একজন সদস্য। একটি রেস্তোঁরায় ডেকে নিয়ে তাদেরকে এই কাগজপত্র সরবরাহ করার আগে ঐ পুলিশ সদস্যকে তারা চিনতেন না।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর