Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘ভারতীয় আগ্রাসনের জবাব দেবে পাকিস্তান’

‘ভারতীয় আগ্রাসনের জবাব দেবে পাকিস্তান’
এনএসসির বৈঠক শেষে ইসলামাবাদে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি (মাঝখানে), ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ‘জঙ্গি ঘাঁটি’তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হামলার ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির (এনএসসি) জরুরি বৈঠক করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভারতের দাবি করা কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটি ও সেখানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক হতাহত হওয়ার বিষয়টি ওই বৈঠকে জোরালোভাবে প্রত্যাখান করা হয়।

মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের সরকার আবারো স্বঘোষিত, অবিবেচিত এবং কল্পনাপ্রসূত দাবি করেছে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা নিতেই তারা এই হামলা চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিল ভারত।

বিবৃতিতে জানানো হয়, সত্য ঘটনা জানতে হামলার শিকার ওই স্থান বিশ্ববাসীর জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। দেশি ও বিদেশি সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে নেওয়া হবে। ভারতের এই আগ্রাসনের জবাব পাকিস্তান নির্ধারিত সময় ও স্থানে দেবে।

ওই বৈঠকে, পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী ও জনগণকে সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রস্তুতি গ্রহণে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারতের দায়িত্বহীন নীতি প্রকাশ করতে বিশ্বনেতাদের সাথে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। ভারতীয় প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীকে যথাসময়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটিরও (এনসিএ) বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরে পুলওয়ামায় ভারতের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যদের উপর জঙ্গি হামলায় ৪৯ জন সেনা নিহত হন। এর বদলা নিতে মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের ‘জঙ্গি ঘাঁটি’তে হামলা চালায় ভারত। এতে স্থানীয় মুজফফরাবাদ সেক্টরের সকল ‘জঙ্গি ঘাঁটি’ ভারতীয় বায়ুসেনা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়। খবরগুলোতে বলা হয়, হামলায় এক হাজার কেজি বোমা বর্ষণ করে ২০০ থেকে ৩০০ জঙ্গিকে হত্যা করেছে ভারতীয় বায়ুসেনা।

সূত্র: ডন

আপনার মতামত লিখুন :

'ভারতের যুদ্ধ বিমানের মতো পুরনো গাড়িও চালানো হয় না'

'ভারতের যুদ্ধ বিমানের মতো পুরনো গাড়িও চালানো হয় না'
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া বলেন, 'ভারতীয় বিমানবাহিনী এখনও ৪৪ বছরের পুরনো মিগ-২১ (MiG-21 fighter jets) যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, যখন কেউ এমন পুরনো গাড়িও চালাচ্ছে না। যেখানে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানও উন্নত এফ-১৬ জেট ব্যবহার করছে, সেখানে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মূল হাতিয়ার হিসেবে চার দশকের পুরনো যুদ্ধবিমানগুলি এখনও ব্যবহার করে চলেছে ভারত।' 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানায়, মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ভারতীয় বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও দেশীয়করণ সম্পর্কিত এ সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পাশে বসেই এমন মন্তব্য করেন দেশটির এয়ার চিফ মার্শাল  বিএস ধানোয়া।

তিনি আরও বলেন, 'এ বছরেই রাশিয়ান ফাইটার জেটের প্রাথমিক সংস্করণটি পর্যায়ক্রমে বাতিল করা শুরু হবে। আশা করি, আগামী সেপ্টেম্বরেই শেষবারের মতো ওড়ানো হবে এ রাশিয়ান যুদ্ধবিমান।' 

ভারতের তৈরি উপাদান ব্যবহার করে সংস্কারের কারণে বিমানটি গত কয়েক দশক ধরে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল। যেখানে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশেরও বেশি উপাদান ভারতে তৈরি হয়। রাশিয়ানরাও যেখানে মিগ ওড়াচ্ছে না, কিন্তু আমরা ওড়াতে পারছি কারণ আমাদের নিজেদের সংস্কারের সুবিধা রয়েছে।' 

এদিকে সম্প্রতি ভারতের সংসদে মিগ-২১ যুদ্ধবিমান গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার ভেঙে পড়ে বলে মন্তব্য করা হয়। ভারত তার সংগ্রহে থাকা ৮৭২টি মিগ বিমানের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হারিয়েছে বলেও তথ্য দেওয়া হয়।

গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান নেই: অমর্ত্য সেন

গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান নেই: অমর্ত্য সেন
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন

কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের সমালোচনা করে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর জোর দিয়ে মানুষের অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। আমার মনে হয় না গণতন্ত্রের চর্চা ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সোমবার (১৯ আগস্ট) ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

৮৫ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী বলেন, ভারত গণতন্ত্রের আর্দশ মানছে না। আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এখন আর আমি গর্ব করি না। একটা সময় ছিলো পাশ্চাত্যের দেশগুলোর বাইরে একমাত্র ভারতে গণতন্ত্রের চর্চা হতো। ভারত এখন গণতন্ত্রের সেই পথ হারিয়েছে।

সম্প্রতি ভারত সরকার সংবিধানে কাশ্মীরকে দেওয়া মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে জম্মু কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে জম্মু কাশ্মীরের জমি ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষও কিনতে পারবেন। এই অধিকার কেবল কাশ্মীরের জনগণেরই ছিলো। 

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও জমি ক্রয় প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, কাশ্মীরের জনগণের উপরই এই সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার দেওয়া উচিত। তারাই ঠিক করবে জমি ক্রয় বিক্রয় বিষয়ে, এই জমি তাদের অধিকার। 

কাশ্মীরের নেতাদের গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি মনে করি না, মানুষকে ভয় দেখিয়ে কণ্ঠস্বর রোধ করে ভালো কিছু পাওয়া যায়। নেতাদের গ্রেফতার করে, আটকে রেখে গণতন্ত্র দমন করে অতীতেও ভালো ফল পাওয়া যায়নি। 

কড়া নিরাপত্তায় মোড়ানো কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে জম্মু কাশ্মীরের উপর উপনিবেশিক অত্যাচার। ঠিক এভাবেই ২০০ বছর বিট্রিশরা আমাদের শাসন করেছিলো।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র