Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পশ্চিমবাংলায় তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোটের সম্ভাবনা প্রবল

পশ্চিমবাংলায় তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোটের সম্ভাবনা প্রবল
ছবি: প্রতীকী
কলকাতা ডেস্ক


  • Font increase
  • Font Decrease
পশ্চিমবাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মধ্যে মহাজোটের সম্ভাবনা প্রবল ভাবে দানা বাঁধছে। দিল্লিতে বিরোধীদের এক বৈঠক শেষে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে সরাসরি বলেন, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের উচিত পশ্চিমবাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এবং দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে জোটে যাওয়া। এরপরই তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতিরও একান্তে কিছুক্ষণ আলাপ হয়েছে।
 
তবে জোটের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গে, প্রদেশ কংগ্রেসের প্রবল আপত্তি আছে। এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু বলেছেন, রাজ্য কংগ্রেস নেতাদের আপত্তিকে যেন খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়া না হয়। দেশের স্বার্থ এবং বিরোধী ঐক্যের কথা ভেবে রাহুলের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। রাহুল যেন জোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্বদের জানিয়ে দেন, এখনই সময় বিজেপি রোখার।  এছাড়াও অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী রাহুলকে অনুরোধ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে আসন ভাগাভাগিতে চাহিদামতো আসন না হলেও কংগ্রেসের উচিত পশ্চিমবাংলা ও দিল্লিতে মহাজোট করা। যদি এভাবে মহাজোট হয় তাহলে বিজেপি বিপাকে পড়তে বাধ্য। চন্দ্রবাবুর এই অনুরোধের পরই মমতার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ একান্তে কথা বলেন রাহুল গান্ধী। 
 
খবর মারফত সেই আলাপ যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রথম থেকেই মহাজোটের পক্ষেই আছেন। মমতার নীতি অনুযায়ী যে রাজ্যে যে দল শক্তিশালী তারাই বিজেপির মোকাবিলা করবে। অন্য দলগুলির উচিত তাদের সহায়তা করা। এই কারণে মমতা গত ১৯ জানুয়ারি কলকাতার ব্রিগেডে প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৩ দলকে নিয়ে মহাজোটের এক মহাসমাবেশ করেছিলেন। 
 
যেখানে উল্লেখযোগ্য ভাবে নেতাদের মধ্যে ছিলেন কর্ণাটকের জনতা দল (সেক্যুলার) নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী, ওই দলেরই ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়া, জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের নেতা ফারুক আবদুল্লাহ, ওমর আবদুল্লাহ, কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে ও সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি, উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সমাজবাদী দলের নেতা অখিলেশ যাদব, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও তেলেগু দেশম দলের নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল, বিহারের রাষ্ট্রীয় জনতা দলের অন্যতম নেতা তেজস্বী যাদব, তামিলনাড়ুর ডিএমকে দলের নেতা এমকে স্টালিন, বিহারের লোকতান্ত্রিক জনতা দলের নেতা শারদ যাদব, জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির নেতা শারদ পাওয়ার, ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির বিদ্রোহী নেতা যশোবন্ত সিনহা, শত্রুঘ্ন সিনহা ও অরুণ শৌরি, ঝাড়খন্ডের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খন্ড বিকাশ মোর্চার নেতা বাবুলাল মারান্ডি, অরুণাচলের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী গেগং আপাং, শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউত, বহুজন সমাজপার্টির নেতা সতীশ মিশ্র, আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল মহন্ত, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিনয় তামাং।
আপনার মতামত লিখুন :

জঙ্গলে বিদ্রোহী, বাঘ গুণতে পারে না মিয়ানমার

জঙ্গলে বিদ্রোহী, বাঘ গুণতে পারে না মিয়ানমার
মিয়ানমারের জঙ্গলে বেঙ্গল টাইগার | ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র সংহাতের ফলে দেশটিতে থাকা বাঘের সংখ্যা গুণে বের করা যাচ্ছে না। দেশটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সমিতির মতে, সবশেষ বাঘের জরিপে মাত্র ১০ শতাংশ অঞ্চলে বাঘের সংখ্যা গোণা গেছে।

সমিতি বলছে, বাঘের সংখ্যা সঠিকভাবে জানা কঠিন। সংঘাতের কারণে কিছু এলাকায় তারা জরিপ চালাতে পারেনি। মিয়ানমার সেনার সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাতের কারণে এসব অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহ করা খুব বিপজ্জনক।

পৃথিবীতে বাঘের ৯টি প্রজাতির মাত্র ছয়টি প্রজাতি এখন আর অবশিষ্ট আছে। বাঘের বাসস্থানগুলির মধ্যে মিয়ানমারে দুটি প্রজাতি রয়েছে। বেঙ্গল টাইগার ও ইন্দো-চায়না বাঘ দুটি দেশটির বিভিন্ন জঙ্গলে দেখতে পাওয়া যায়।

বাঘের বাসস্থান জরিপ করায় অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাদের আবাসগুলো দূরবর্তী এবং সশস্ত্র সংঘাতের কারণে তা ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ।

মিয়ানমারের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সমিতির সুপারিশ—বর্তমান বাঘের বাসস্থান সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ে আসা, যাতে বংশবিস্তার নিশ্চিত করা যায়।

মিয়ানমার সরকারের দাবি সারাদেশে ৮০টি বাঘ এখনো অবশিষ্ট আছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংখ্যা আরো কম। সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাঘেরা প্রচণ্ড খাদ্য সংকটে পড়েছে।

বাঘেরা যে প্রাণীগুলো শিকার করে খায় বনগুলোতে অবৈধ শিকারিরা সেই সব প্রাণী ধরে নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। বাঘের পছন্দের খাবারের মধ্যে গৌড়, হরিণ ও সাম্বার হরিণের সংখ্যা হুমকির মুখে। এসব বন্যপ্রাণী পাচারকারীদেরও খুব প্রিয়!

মিয়ানমারে জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল আইন দ্বারা সুরক্ষিত থাকলেও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে প্রাণীগুলো অচিরেই হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের সামরিক প্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

মিয়ানমারের সামরিক প্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
মিয়ানমারের কমান্ডার ইন চিফ মিন আং হলিং, ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সামরিক প্রধানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) মিয়ানমারের কমান্ডার ইন চিফ মিন আং হলিং এবং আরো কিছু সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যার অভিযোগ থাকায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের গণ হারে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞা তারই প্রমাণ।

মিয়ানমার কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন আং হলিং ছাড়াও তার ডেপুটি সো উইন, সিনিয়র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থান ও এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। তাদের পরিবারও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পে এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলার পরও মিয়ানমার সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপব্যবহারের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে আমরা উদ্বিগ্ন।’


পম্পে বলেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে, মিন অং হলিং ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ইন দিদিন গ্রামে নির্বিচারে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সৈনিকদের মুক্তির আদেশ দেন। এটিই ছিল সামরিক বাহিনীর সিনিয়র নেতৃত্বের জবাবদিহিতা এবং দায়বদ্ধতার অভাবের একটি গুরুতর উদাহরণ।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের কম্যান্ডার ইন চিফ রোহিঙ্গা হত্যায় অভিযুক্তকে মাত্র এক মাস জেল খাটিয়ে মুক্ত করে দিয়েছেন। অন্যদিকে এ হত্যার বিষয়ে বিশ্বকে যেসব সাংবাদিক জানিয়েছেন, তাদের ৫০০ দিনের বেশি জেল খাটানো হয়েছে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পে আয়োজিত 'ধর্মীয় স্বাধীনতা' বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রথম দিন নির্যাতিত রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি হলো।

পম্পে বলেন, ‘এ ঘোষণার মাধ্যমে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে সিনিয়র নেতৃত্বেকেও জনসম্মুখে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হলো।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র