Alexa

শতভাগ ভোট পেয়ে ফের নির্বাচিত কিম জং উন

শতভাগ ভোট পেয়ে ফের নির্বাচিত কিম জং উন

ভোট দিচ্ছেন কিম জং উন, ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১০০ ভাগ ভোট পেয়ে আবারো সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। এই নির্বাচন কিম জং উনের শাসনামলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নির্বাচন। ভোট প্রাপ্তি সংখ্যা ৯৯.৭৫% উল্লেখ করে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ জানায় এইবার অনেকে চায়না এবং জাহাজে ছিলেন তাই তারা অংশগ্রহণ করতে পারেননি। তারা যদি যোগ দিতে পারতেন তবে ১০০% ভোটে জয়যুক্ত হতেন কিম।

সোমবার (১১ মার্চ) জয়লাভের পর তার শপথ নেয়ার কথা রয়েছে। জাতীয় দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় দেশটির সংসদ ‘সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলি’র (এসপিএ) এই নির্বাচনে প্রার্থী মোট ৭০০ জন হলেও প্রতিটি আসনেই প্রার্থী মাত্র ১জন। কোনও আসনেই বিকল্প কোন প্রার্থী নেই। দেশটির প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেখানকার ভোটারদের কোন সিল কিংবা ব্যালট পেপার পূরণ করা লাগেনা। ভোটের দিন ভোটারদের শুধু প্রতিটি আসনের জন্য নির্ধারিত প্রার্থীর নাম লেখা ব্যালট পেপার ব্যালট বাক্সে ফেলতে হয়। তবে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের কেউ পছন্দ না করলে বুথে রাখা পেন্সিল দিয়ে তা কেটে দেয়া যায়। তবে এখন পর্যন্ত এর নজির দেখা যায়নি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/11/1552258416774.jpg

তবে কোন ভোটার এই পদ্ধতি অবলম্বন করলেও তার উপর শুরু হয় উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা বাহিনীর নজরদারি। উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোতে যেসব ভোটার এই নিয়মের ব্যতিক্রম করেছেন তাদেরকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল দেশটির সরকার।

ইন্ডিপেনডেন্ট'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ বছর পর পর উত্তর কোরিয়ার এসপিএ নির্বাচনে ৭০০ জন প্রার্থী ‘জনগণের ভালোবাসায়’ নির্বাচিত হয়ে থাকেন। প্রতিবারই দেশটির নির্বাচনে বর্তমান শাসক পরিবার শতভাগ ভোট পেয়ে জয়লাভ করে থাকে।

উত্তর কোরিয়ার পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ ফিওদোর টেরটিটস্কি দেশটির নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘ভোটের দিন শাসক পরিবারের প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসা ‘দেখাতে’ নাগরিকরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন।'

শুরু থেকেই কেন্দ্রগুলোতে থাকে দীর্ঘ লাইন। সেখানে প্রত্যেক ভোটারের হাতে একটি করে ব্যালট পেপার দিয়ে দেওয়া হয় যাতে একজন প্রার্থীরই নাম থাকে।’ 

ভোট দেওয়াই শেষ নয়। ভোটকেন্দ্র থেকে হাসিমুখে বেরিয়ে আসতে হয় ভোটারদের। উত্তর কোরিয়ার নিয়মানুযায়ী ১৭ বছরের বেশি বয়সী সবাইকেই বাধ্যতামূলক ভোট প্রদান করতে হয়। যারা ভোট দিতে যায় না, ধরে নেওয়া হয় তারা চীনে পালিয়ে গেছেন,অথবা সাগরে আছেন।

ভোটের পূর্বে কিম তার ‘সিঙ্গেল মাইন ইউনিটি’ স্লোগান দিয়ে পিয়ংইয়ং বাসীর কাছে ভোট চেয়েছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :