Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যে ইস্যুগুলো ভারতের নির্বাচনে বড় ভূমিকা নেবে

যে ইস্যুগুলো ভারতের নির্বাচনে বড় ভূমিকা নেবে
যে ইস্যুগুলো ভারতের নির্বাচনে বড় ভূমিকা নেবে। ছবি: প্রতীকী
কলকাতা ডেস্ক


  • Font increase
  • Font Decrease

এ বছর ভারতে সাত দফায় নির্বাচন হবে। ইতোমধ্যে দিন ঘোষণা হয়ে গেছে। ভোটগ্রহণ শুরু ১১ এপ্রিল, আর তা শেষ হবে ১৯ মে। একদিকে যেমন রয়েছে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ জোট, তেমনই রয়েছে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইউপিএ জোট এবং রয়েছে মমতার নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলিও। যে যার মতো শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে।

এই নির্বাচনে যে বিষয়গুলি বড় ইস্যু হতে চলেছে তা হল:

নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ: একমাস আগেও এই বিষয়টি নিয়ে এতো আলোচনা ছিল না। তবে পুলওয়ামা হামলার পরে জাতীয় নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। এবারের নির্বাচনে এটি বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে মোদি সরকার, অন্যদিকে রয়েছে বিরোধী শিবির। দেশের সেনাকে মাঝখানে রেখে দুই শিবির দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সব কিছু আগে থেকে জেনেও নজর দেয়নি কেন্দ্র। অর্থাৎ জাতীয় নিরাপত্তাকে জলাঞ্জলি দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। অন্যদিকে কেন্দ্রের দাবি, এই আমলে শত্রুর চোখে চোখ রেখে জবাব দিয়েছে সরকার।

মুদ্রাস্ফীতি: এই নির্বাচনে মোদি সরকারের বড় হাতিয়ার হতে চলেছে বিষয়টি। মুদ্রাস্ফীতির হার কমিয়ে আনতে মোদী সরকার সফল। কংগ্রেসের সরকারের আমলে মুদ্রাস্ফীতির হার অনেক বেশি ছিল।

কর্মসংস্থান: বিরোধীদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে চলেছে কর্মসংস্থান। মোদি সরকার এই ইস্যুতে ব্যাকফুটে থাকবেই। ২০১৪ সালে এই কর্মসংস্থানকেই অন্যতম হাতিয়ার করে বিজেপি সরকারে এসেছিল। তারপরে জিএসটি, নোট বাতিলের মতো ঘটনায় কর্মসংস্থান কমেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক সরকারি রিপোর্টেও কর্মসংস্থানের হার গত কয়েক দশকে সর্বনিম্ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সামাজিক অস্থিরতা: গ্রামীণ ভারতে অস্থিরতা আগেও ছিল এবং তা এই সরকারের আমলেও রয়ে গেছে। কৃষক আত্মহত্যা এবারে অন্যতম ইস্যু। গ্রামীণ মানুষদের মধ্যে তা নিয়ে ক্ষোভও রয়েছে। বিজেপির দাবি, কংগ্রেস সাত দশক কিছু করেনি। কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি পাঁচ বছরে অবস্থার আরও অবনতি ঘটিয়েছে। ফলে নির্বাচনে এটি অন্যতম ইস্যু সন্দেহ নেই।

মেরুকরণ: দেশে যেন ধর্মের ভিত্তিতে আড়াআড়ি মেরুকরণ হয়ে গেছে। বিষয়টা বিজেপির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যালঘু মুসলিমদের (প্রায় ২০ কোটি) ভোট বিজেপির বিরুদ্ধে রয়েছে বলে অভিযোগ। আবার হিন্দু (১০৭.৭ কোটি) ভোটব্যাংক গতবারের মতো এবারো অটুট থাকলে তবেই তাদের কোর্টে বল থাকতে পারে।

জাতপাত: এ বিষয় নিয়ে রাজনীতি এর আগেও হয়েছে। ইস্যুটি বিশেষ কয়েকটি অঞ্চলে বড় ভূমিকা নেবে। আঞ্চলিক দলগুলো এ নিয়ে এবারো ফায়দা নেবে। বিশেষ করে অখিলেশ যাদব এবং মায়াবতী। তবে উত্তরপ্রদেশে বিজেপিকে আটকানোর পথে নামবে বলেই জানা যাচ্ছে। আবার অন্য রাজ্যগুলিতে (বিহার, ওড়িশা ইত্যাদি) জাতপাতের রাজনীতি বিজেপিকে সুবিধা দেবে। সবমিলিয়ে বিষয়টা নিয়ে লড়াই জমে উঠতে চলেছে।

দুর্নীতি: ২০১৪ সালে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বিজেপির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার ছিল দুর্নীতি। এবার বিজেপির বিরুদ্ধে নোট বাতিল থেকে রাফাল যুদ্ধ বিমানের ইস্যুতে বিরোধীরা সরব হবে। 

উন্নয়নমূলক প্রকল্প: মোদির আমলে উজ্জ্বলা যোজনা, স্বচ্ছ ভারত, কিষাণ যোজনা, আয়ুষ্মান ভারতের মতো নানা প্রকল্প শুরু হয়েছে এবং বিজেপির বেলায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি অনেকটা প্রকাশ পেয়েছে। যা ভারতের কাছে লাভজনক। মোদি সরকার এগুলিকে হাতিয়ার করে প্রচারে নামবে। কংগ্রেসও বিরুদ্ধে প্রচার করছে।

নরেন্দ্র দামোদর মোদি: এই নামটাই বিজেপির বড় ফ্যাক্টর। এবারের নির্বাচনে বিজেপির ফিরে আসা একমাত্র নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা কতটা বেড়েছে বা কতটা প্রভাব এখনো রয়েছে তার ওপরে। যদি মোদির প্রতি জনগণের আস্থা অটুট থাকে তাহলে ফের সরকার হবে বিজেপি থেকেই।

গোমাংস: বিজেপি অবৈধ গোহত্যা বন্ধ করা ইস্যু নিয়ে উত্তরপ্রদেশে বিশাল জয় পেয়েছিল। তবে বিষয়টা নিয়ে রোষেও পড়তে হয়েছে। এই গোরক্ষার নামে নানা জায়গায় হামলা হয়েছে। এমনকি মৃত্যুও ঘটেছে, উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শুধু সংখ্যালঘু নয়, সংখ্যাগুরুরাও বিষয়টা ভালো ভাবে নেয়নি। বিষয়টা ভোটে বড় ইস্যু হতে চলেছে।

নবীন ভোটার: এ বছর দেড় কোটির বেশি নতুন ভোটার প্রথমবার ভোট দেবে এবং প্রায় সাড়ে ৮ কোটি নতুন ভোটার ২০১৪ সালের তুলনায় বেড়েছে। এই নবীন ভোটাররাই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।

নারী ভোটার: লক্ষ্যণীয় ভাবে নারী ভোটারা এবারে একটা ফ্যাক্টর হতে চলেছে। যা আগে সেভাবে প্রকাশ্যে আসেনি। এবারের ভোটে নারীরা কাদের দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেয় তার ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করবে। গ্রামীণ ভারতে শৌচালয় বানানো থেকে শুরু করে উজ্জ্বলা যোজনা চালু, তিন তালাক নিয়ে নারীদের পাশে দাঁড়ানোর কাজ বিজেপি করেছে। বিরোধীরা এগুলিকে কীভাবে সামাল দেয় সেটাই দেখার।

এছাড়া অঞ্চল ভিত্তিক আরও ইস্যু আছে। কারণ কাশ্মীরে যা ইস্যু, তা কন্যাকুমারীতে নয়। আবার পশ্চিমবাংলায় যে সমস্যাগুলো আছে তার থেকে মনিপুর মিজোরামে ভিন্ন। বিশাল ভারতে ১৩৫ কোটি জনগণই শেষ কথা বলবে। ২৩ মে ফল ঘোষণার দিন বোঝা যাবে আগামী ৫ বছরের জন্য কোন শক্তি দিল্লীর মসনদে বলতে চলেছে।

 

আপনার মতামত লিখুন :

চীনা ছাত্রী হত্যাকারী মার্কিন যুবকের যাবজ্জীবন

চীনা ছাত্রী হত্যাকারী মার্কিন যুবকের যাবজ্জীবন
চীনা ছাত্রী জাং জিনজিয়াং/ ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক চীনা ছাত্রীকে অপহরণ ও হত্যার অপরাধে এক মার্কিন পিএইচডি শিক্ষার্থীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত।

আসামি ব্রেন্ডট ক্রিস্টেনসেনকে মৃতুদণ্ড দেওয়া হবে কিনা এই সিদ্ধান্তে একমত হতে পারেনি বিচারকদের জুরি বোর্ড। পরে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ২০১৭ সালের জুনে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চীনা শিক্ষার্থী জাং জিনজিয়াংকে অপহরণ করে ক্রিস্টেনসেন। পরে জাং জিনজিয়াংকে বেসবলের ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে ক্রিস্টেনসেন এবং জাং জিনজিয়াংয়ের মাথা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলে। শরীরের আলাদা করা অংশ আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শিকাগোর দক্ষিণ-পশ্চিমের পিউরিয়ায় অনুষ্ঠিত পাঁচ সপ্তাহব্যাপী বিচার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন জাং জিনজিয়াংয়ের বাবা-মা ও বাগদত্তা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563537807568.gif
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মার্কিন যুবক ক্রিস্টেনসেন/ ছবি: সংগৃহীত

 

চীনা কর্মকর্তাদের সামনেই এই বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। রায়ে ক্রিস্টেনসেনকে মৃতুদণ্ড না দেওয়ায় চীনজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।

ক্রিস্টেনসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জেমস শহিদ বলেন, ‘ক্রিস্টেনসেনের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করার মতো না।’ রায় অনুযায়ী ক্রিস্টেনসেনের কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

বিচারক আরও বলেন যে, জাংয়ের শরীরের অবশিষ্ট অংশ কোথায় আছে তা হয়তো তার পরিবার আর নাও জানতে পারে।

রায় ঘোষণার সময় ক্রিস্টেনসেন কোনো কথা বলেনি। এদিকে জাংয়ের বাবা বঙ্গাও জাং গণমাধ্যমকে বলেন যে, জাংয়ের দেহাবশেষ ফিরে না পাওয়া পর্যন্ত তার পরিবার শান্তি পাবে না।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক
নেতাকর্মীদের নিয়ে রাস্তায় বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তরপ্রদেশে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ১০ জন খুন হওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়ার পথে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্রা গ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে ১০ জন নিহত হয়। তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে সেখানে যাচ্ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। কিন্তু মাঝপথে তাকে আটক করা হয়। উত্তরপ্রদেশে অপরাধ বৃদ্ধি ও আইনের শাসন নেই বলে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা।

আটকের পর মির্জাপুরে এসে রাস্তায় বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। তার সঙ্গে থাকা অন্য কংগ্রেসের কর্মীরাও বসে পড়েন। তাদের ঘিরে থাকেন প্রিয়াঙ্কার নিরাপত্তারক্ষীরা। সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আটক করে সরকারি গাড়িতে তোলা হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'যাদেরকে নির্মমভাবে মেরে ফেলা হয়েছে আমি শুধু তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। আমার ছেলের বয়সী একটি ছেলেকেও গুলি করা হয়েছে এবং সে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। আমাকে বলুন, কোন আইনে আমাকে এভাবে আটকে দেয়া হল।'

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রিয়াঙ্কা সেখানে যাওয়ার সোনভদ্রায় যেকোনো ধরনের সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

প্রিয়াঙ্কার দাবি, তাকে বলা হয়েছে তিনি গাড়ি করে বারানসি থেকে সোনভদ্রা যেতে পারবেন না। সরকারি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, 'আমি জানি না তারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেকোনো জায়গায় যেতে রাজি।'

শুক্রবার সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির লোকসভা আসন বারানসিতে পৌঁছান প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। সেখান থেকে তিনি সোনভদ্রা কাণ্ডে আহতদের দেখতে স্থানীয় হাসপাতালে যান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র