Barta24

রোববার, ১৬ জুন ২০১৯, ২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বিশ্বসেরা শিক্ষক কেনিয়ার পিটার তাবিচি

বিশ্বসেরা শিক্ষক কেনিয়ার পিটার তাবিচি
দুবাইতে বিশ্বসেরার পুরস্কার হাতে শিক্ষক পিটার তাবিচি/ ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব শিক্ষক পুরস্কার জিতে নিয়েছেন কেনিয়ার চিড় ধরা উপত্যকার প্রত্যন্ত গ্রামের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত ও পদার্থ বিদ্যার শিক্ষক পিটার তাবিচি। পুরস্কার হিসেবে আয়োজকরা তার হাতে তুলে দিয়েছেন ১০ লাখ মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

রোববার (২৪ মার্চ) দুবাইতে হলিউড তারকা হিউ জ্যাকম্যানের উপস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকভাবে পিটার তাবিচির হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা বলছেন, পিটার তাবিচি তার মাসিক আয়ের ৮০ শতাংশই তার ছাত্রদের মধ্যে যারা গরিব তাদের মাঝে বিতরণ করেন।

পুরস্কার গ্রহণ করে পিটার তাবিচি বলেন, `আফ্রিকায় আমরা প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়ের সূচনা করি। এই পুরস্কার আমার ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, এটি আফ্রিকার তরুণদের স্বীকৃতি। আমি এখানে আসতে পেরেছি শুধু আমার ছাত্রদের অর্জনের জন্য।’

‘তারা (আফ্রিকার তরুণরা) যে কোনো কিছু করে দেখাতে পারে, এটি বলার একটি সুযোগ দিয়েছে এই পুরস্কার।’ চূড়ান্ত পর্যায়ে ৯ জনকে হারিয়ে পুরস্কার জেতার পর এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করেন পিটার তাবিচি।

এই বছরসহ পঞ্চমবারের বিশ্ব শিক্ষক পুরস্কারের আয়োজন করেছে দুবাই ভিত্তিক ভার্কি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি তাবিচির উৎসর্গ, কঠোর পরিশ্রম ও ছাত্রদের প্রতি তার একনিষ্ঠ বিশ্বাসের প্রশংসা করেছে।

ভার্কি ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, পিটার তাবিচি একেবারেই স্বল্প যন্ত্রাংশ আছে কেনিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের এমন একটি বিদ্যালয়কে সেদেশের জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় প্রথম হতে নেতৃত্ব দিয়েছে।’

৩৬ বছর বয়সী পিটার তাবিচি কেনিয়ার খরা ও দুর্ভিক্ষে জর্জরিত প্রত্যন্ত পনি গ্রামের ‘কেরিকো মিক্সড ডে সেকেন্ডারি স্কুল’র শিক্ষক।

বিদ্যালয়টির প্রায় ৯৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী অতি দরিদ্র ঘরের সন্তান। এর মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগই এতিম অথবা তাদের বাবা অথবা মা একজন নেই। এই ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই বাড়িতে খাদ্যের অভাবে উপোস থাকে।

বিদ্যালয়টি যে এলাকায় অবস্থিত সেখানে মাদকের অপব্যবহার, কৈশোরে গর্ববতী, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যা সাধারণ ঘটনা।

বিদ্যালয়ে পৌঁছতে অনেক ছাত্রছাত্রীর সাত কিলোমিটার দীর্ঘ্য রাস্তা হাঁটতে হয়। এই রাস্তা আবার বর্ষা মৌসুমে চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।

এই বিদ্যালয়ে ৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন একজন। বিদ্যালয়টিতে সকলের জন্য রয়েছে একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, যাতে ইন্টারনেট সংযোগ খুবই দুর্বল। তারপরও পিটার তাবিচি তার ৮০ শতাংশ পাঠে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকেন।

তাবিচির এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়েছেন কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি উহুরু কেনিয়াত্তা। এক ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনার (পিটার তাবিচি) গল্প, আফ্রিকার গল্প। একজন তরুণ মিতাচারী, মেধায় পরিপূর্ণ।‘

আপনার মতামত লিখুন :

ইস্তাম্বুলের জয় এক নতুন সূচনা

ইস্তাম্বুলের জয় এক নতুন সূচনা
ইস্তাম্বুলের জয়, এক নতুন সূচনা, ছবি: সংগৃহীত

ইস্তাম্বুলের জয়, এক নতুন সূচনা; এটাই ছিলো ইস্তাম্বুলের নবাগত মেয়র ইকরাম ইমামোগলুর প্রতিশ্রুতি। নবনির্বাচিত মেয়র ইমামোগলুর স্লোগান 'এভরিথিং উইল বি গ্রেট' -এখন তুরস্কের ইস্তাম্বুলের  প্রত্যেক মানুষের মুখে মুখে।

গত ৩১ মে'র নির্বাচনে ইকরাম ইমামোগলুর জয়ের জন্য ক্ষমতাসীন একে পার্টি মোটেও প্রস্তুত ছিলো না। সেই নির্বাচনকে প্রত্যাহার করে, পুনরায় নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়া ছিলো চূড়ান্ত বোকামি।
গত রোববার (২৩ জুন) পুনরায় মেয়র নির্বাচনের ফলাফল এমনটাই প্রমাণ করে। যেখানে সাত লাখেরও বেশি ভোটের বিরাট ব্যবধানের ইমামোগলুর জয় ইস্তাম্বুলের সাধারণ মানুষের জন্য ছিল এক নতুন দিগন্তের সূচনা।

ইমামোগলুর জয়ের পুনরাবৃত্তিতে বিরোধীদল শুধু আশাহত নয়, নিজেদের অবস্থানও নড়বড় হয়েছে। ইস্তাম্বুলের নির্বাচন তুরস্কের গণতন্ত্রের জন্য ছিলো প্রাণবন্ত এক নিঃশ্বাসের মতো, যেখানে ব্যালট বাক্সের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিলো। পুনরায় দেওয়া নির্বাচনে ব্যালট বক্সের স্বাধীনতা বেঁচে থাকবে কিনা সেটা নিয়ে সবাই ছিল উদ্বেগ। গণতন্ত্র রক্ষার্থে মানুষের প্রার্থনা করা ব্যতিত আর কিছুই করার ছিলো না। কিন্তু এই নির্বাচন শুধুমাত্র ব্যালট বাক্সের স্বচ্ছতা প্রকাশ করেনি, একই সঙ্গে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছে  ইস্তাম্বুলের স্বাধীনতাকে পুনরুদ্ধার করে।

এরদোয়ান তার ১৬ বছরের ক্ষমতায় তুরস্কের রাজনীতিতে একটি ছায়া এঁকে দিয়েছেন। তার করা অগণিত ভুলকে যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। যা আর জন্ম দিয়েছে ব্যাপক সমালোচনার।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক ব্যক্তির শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুর্নীতিকে ইস্তাম্বুলের সাধারণ  মানুষ প্রশয় দিতে নারাজ সেটার অকট্য প্রমাণ এই নির্বাচন। একই সঙ্গে এরদোয়ানের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো এই জয় প্রতিরোধ করা অসম্ভব। শুধু তাই নয় এরদোয়ানের দলের জন্যও এ ভোট পূর্ব সতর্কবার্তা।   

এরদোয়ান নিজে এই নির্বাচনে প্রতিযোগী না হলেও, তার প্রার্থীর এই পরাজয় পক্ষান্তরে তার দলকেই বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। তুরস্কের ক্ষতিগ্রস্থ গণতন্ত্র ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকেই ইঙ্গিত করেছে ইস্তাম্বুলের মানুষ।

ইস্তাম্বুল এরদোয়ানের জন্ম শহর। ইস্তাম্বুলেই তার রাজনৈতিক এবং কর্মজীবন শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতাই তার করা এক মন্তব্যে নিজেই ফেঁসে গিয়েছেন। তার মন্তব্যেটি ছিলো 'যে ইস্তাম্বুল জয়ী হবেন, সেই তুর্কি জয়ী হবেন'। এরদোয়ান শুধুমাত্র তুরস্কের প্রতিনিধিত্ব করে না, নিজের জন্মস্থান ইস্তাম্বুলেরেও প্রতিনিধিত্ব করেন। সেখানে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারানো অর্থাৎ তুরস্কের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠানকেই হারিয়ে ফেলার ইঙ্গিত দেয়।

ইমামোগলুর জন্যও ছিল এটি একটি অনেক বড় সুযোগ যেখানে সে তার প্রতিদ্বন্দ্বী দলের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে তার জবাব দিয়েছেন। এই নির্বাচনে ছিলো তার নিরব প্রচারণা আর আশাবাদী  মনোভাব। যা বিকল্প ধারার নির্বাচনের জন্ম দিয়েছে।

ইস্তাম্বুল জুড়ে চলছে বিরোধীদলের জয়ের উৎসব উদযাপন। ইমামোগলু তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, অবশ্যই আমরা অনেক খুশি হয়েছি কিন্তু খুশি হওয়ার মানে এই নয় যে কারো মন ভেঙে আমরা খুশি হয়েছি। এটা কোন জয় নয়। এটা কেবল একটা নতুন শুরুর সূচনা।

হাড়ের বিরল রোগ নিয়েও হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত মেকআপ আর্টিস্ট

হাড়ের বিরল রোগ নিয়েও হয়েছেন প্রতিষ্ঠিত মেকআপ আর্টিস্ট
মেকআপ করে দিচ্ছেন ক্যারি ভেলাজকুয়েজ, ছবি: সংগৃহীত

ফ্যাশন সচেতনতার এ সময়ে মেকআপ আর্টিস্টের অভাব নেই। একেকজন মেকআপ আর্টিস্ট একেকজনের চাইতে দক্ষ, অভিজ্ঞ। আজকের গল্পটাও একজন মেকআপ আর্টিস্টের, তবে তিনি খুব সাধারণ কেউ নন। বিশেষ একজন, ব্যতিক্রম একজন।

গল্পটা পুয়ের্ত রিকোর পনসে জন্ম নেওয়া ক্যারি ভেলাজকুয়েজের। আর দশজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ মতো ছিল না তার বেড়ে ওঠা, তার জীবনের প্রবাহ। ছোট্ট ফুটফুটে ক্যারির মাত্র তিন দিন বয়সে ধরা পরে অস্টিওজেনেসিস ইমপারফেক্টা (Osteogenesis Imperfecta). বিরল এই রোগটি সাধারণত ‘হাড়ের ভঙ্গুর রোগ’ নামেই লোকমুখে বেশি পরিচিত। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাড় এতো বেশি হালকা-পাতলা ও ভঙ্গুর হয়ে থাকে যে, শুধুমাত্র দমকা বাতাসের তোড়েও হাড় ভেঙে যেতে পারে!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561378048333.jpg

বুঝতেই পারছেন, একদম ছোট থেকে ক্যারির জন্য জীবনটা সুখকর ছিল না মোটেও। হাড়ের এহেন দশায় শরীরে উচ্চতাও বৃদ্ধি পায়নি। স্বাভাবিকভাবে হাঁটা, চলাফেরা করাও ক্যারির জন্য অসম্ভব। হুইল চেয়ারে বন্দী ক্যারির সময় কেটেছে, তার জীবনের অর্থ খুঁজে পেতেই। হ্যাঁ, একটা সময়ে এসে ক্যারি ঠিকই তার জীবনের অর্থ খুঁজে পেয়েছে। খুঁজে পেয়েছে তার প্যাশন।

ক্যারি সবসময়ই ইউটিউবে মেকআপ ভিডিওগুলো দেখতে ভালোবাসতেন। প্রথম প্রথম তার মাথা আসেনি, এই মেকআপ নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন তিনি। কিন্তু একটা সময় পর এই ভিডিওগুলো থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে মেকআপ পণ্যের দিকে হাত বাড়ান তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561378165477.JPG

ভিডিও থেকে শেখা পদ্ধতিগুলো প্রথমে নিজের উপরে প্রয়োগ করা শুরু করলেন। মেকআপ করার হাত যখন কিছুটা ভালো হলো তখন মা ও বোনদের সাজানো শুরু করলেন।

মা ও বোনরাও খেয়াল করলো একজন মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে ক্যারি বেশ সাবলীল। ভঙ্গুর হাড় ও আঁকা বাঁকা হাতে ব্রাশ ধরে স্বাচ্ছন্দে মেকআপ করে দিতে পারেন তিনি। সময় গড়ালে এভাবেই একজন প্রফেশনাল মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে নিজের পরিচিত গড়ে তোলেন ক্যারি। ইন্সটাগ্রামে নিজের আইডিতেও অহরহ শেয়ার করেন নিজের ছবি, তার হাতে সাজানো মডেলদের ছবি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561378184996.JPG

২৯ বছর বয়সী ক্যারি নিজের কাজ নিয়ে ভীষণ খুশি। যারা তার কাছ থেকে মেকআপ করিয়েছেন, তারাও দারুণ সন্তুষ্ট ক্যারির মেকআপ সার্ভিস নিয়ে। একজন দক্ষ মেকআপ আর্টিস্টের সাথে ক্যারির কাজের মাঝে কোন পার্থক্যই নেই।

নিজের দক্ষতা, চমৎকার আত্মবিশ্বাস, পরিবারের সমর্থন, বন্ধুদের সহযোগিতা থাকা সত্বেও প্রায়শ মন খারাপ করতে হয় ক্যারিকে। স্থানীয় একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্যারি বলেন, ‘এখনও আমি প্রচুর নেতিবাচক কমেন্ট পাই আমার বাহ্যিক গঠনের জন্য। আমি দেখতে খারাপ, আমার মাথা অনেক বড় কিংবা আমাকে দেখতে সঙয়ের মতো লাগে। এমন সব কথা। কিন্তু প্রতিবারই আমি এইসব কথাকে ভুল প্রমাণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাই।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/24/1561378197889.JPG

বিগত তিন বছর ধরে মেকআপ নিয়ে কাজ করে চলা ক্যারি ইতোমধ্যে তার কাজের জন্য কুড়িয়েছে সুখ্যাতি। নিজের শারীরিক অবস্থা, মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য কোনকিছুই তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আর সে কারণেই, ক্যারি হয়ে উঠেছেন অনেকের অনুপ্রেরণার উৎস।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র