Alexa

বিশ্বসেরা শিক্ষক কেনিয়ার পিটার তাবিচি

বিশ্বসেরা শিক্ষক কেনিয়ার পিটার তাবিচি

দুবাইতে বিশ্বসেরার পুরস্কার হাতে শিক্ষক পিটার তাবিচি/ ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম

বিশ্ব শিক্ষক পুরস্কার জিতে নিয়েছেন কেনিয়ার চিড় ধরা উপত্যকার প্রত্যন্ত গ্রামের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত ও পদার্থ বিদ্যার শিক্ষক পিটার তাবিচি। পুরস্কার হিসেবে আয়োজকরা তার হাতে তুলে দিয়েছেন ১০ লাখ মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

রোববার (২৪ মার্চ) দুবাইতে হলিউড তারকা হিউ জ্যাকম্যানের উপস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকভাবে পিটার তাবিচির হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা বলছেন, পিটার তাবিচি তার মাসিক আয়ের ৮০ শতাংশই তার ছাত্রদের মধ্যে যারা গরিব তাদের মাঝে বিতরণ করেন।

পুরস্কার গ্রহণ করে পিটার তাবিচি বলেন, `আফ্রিকায় আমরা প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়ের সূচনা করি। এই পুরস্কার আমার ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, এটি আফ্রিকার তরুণদের স্বীকৃতি। আমি এখানে আসতে পেরেছি শুধু আমার ছাত্রদের অর্জনের জন্য।’

‘তারা (আফ্রিকার তরুণরা) যে কোনো কিছু করে দেখাতে পারে, এটি বলার একটি সুযোগ দিয়েছে এই পুরস্কার।’ চূড়ান্ত পর্যায়ে ৯ জনকে হারিয়ে পুরস্কার জেতার পর এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করেন পিটার তাবিচি।

এই বছরসহ পঞ্চমবারের বিশ্ব শিক্ষক পুরস্কারের আয়োজন করেছে দুবাই ভিত্তিক ভার্কি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি তাবিচির উৎসর্গ, কঠোর পরিশ্রম ও ছাত্রদের প্রতি তার একনিষ্ঠ বিশ্বাসের প্রশংসা করেছে।

ভার্কি ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, পিটার তাবিচি একেবারেই স্বল্প যন্ত্রাংশ আছে কেনিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের এমন একটি বিদ্যালয়কে সেদেশের জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় প্রথম হতে নেতৃত্ব দিয়েছে।’

৩৬ বছর বয়সী পিটার তাবিচি কেনিয়ার খরা ও দুর্ভিক্ষে জর্জরিত প্রত্যন্ত পনি গ্রামের ‘কেরিকো মিক্সড ডে সেকেন্ডারি স্কুল’র শিক্ষক।

বিদ্যালয়টির প্রায় ৯৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী অতি দরিদ্র ঘরের সন্তান। এর মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগই এতিম অথবা তাদের বাবা অথবা মা একজন নেই। এই ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই বাড়িতে খাদ্যের অভাবে উপোস থাকে।

বিদ্যালয়টি যে এলাকায় অবস্থিত সেখানে মাদকের অপব্যবহার, কৈশোরে গর্ববতী, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যা সাধারণ ঘটনা।

বিদ্যালয়ে পৌঁছতে অনেক ছাত্রছাত্রীর সাত কিলোমিটার দীর্ঘ্য রাস্তা হাঁটতে হয়। এই রাস্তা আবার বর্ষা মৌসুমে চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।

এই বিদ্যালয়ে ৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন একজন। বিদ্যালয়টিতে সকলের জন্য রয়েছে একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, যাতে ইন্টারনেট সংযোগ খুবই দুর্বল। তারপরও পিটার তাবিচি তার ৮০ শতাংশ পাঠে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকেন।

তাবিচির এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়েছেন কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি উহুরু কেনিয়াত্তা। এক ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনার (পিটার তাবিচি) গল্প, আফ্রিকার গল্প। একজন তরুণ মিতাচারী, মেধায় পরিপূর্ণ।‘

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

লোক নেই, ভরসা গাধা

লোক নেই, ভরসা গাধা

ভারতের মেরেকেটে ভোটারের সংখ্যা মাত্র ৭০০। আর এই ৭০০ লোকের ভোট দেয়া নির্ভর করে ৪টি গাধার উপর। পেন্নাগারামের ধর্মপ...