Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিশ্বসেরা শিক্ষক কেনিয়ার পিটার তাবিচি

বিশ্বসেরা শিক্ষক কেনিয়ার পিটার তাবিচি
দুবাইতে বিশ্বসেরার পুরস্কার হাতে শিক্ষক পিটার তাবিচি/ ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্ব শিক্ষক পুরস্কার জিতে নিয়েছেন কেনিয়ার চিড় ধরা উপত্যকার প্রত্যন্ত গ্রামের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত ও পদার্থ বিদ্যার শিক্ষক পিটার তাবিচি। পুরস্কার হিসেবে আয়োজকরা তার হাতে তুলে দিয়েছেন ১০ লাখ মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির একটি প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

রোববার (২৪ মার্চ) দুবাইতে হলিউড তারকা হিউ জ্যাকম্যানের উপস্থাপনায় আনুষ্ঠানিকভাবে পিটার তাবিচির হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা বলছেন, পিটার তাবিচি তার মাসিক আয়ের ৮০ শতাংশই তার ছাত্রদের মধ্যে যারা গরিব তাদের মাঝে বিতরণ করেন।

পুরস্কার গ্রহণ করে পিটার তাবিচি বলেন, `আফ্রিকায় আমরা প্রতিদিন নতুন নতুন বিষয়ের সূচনা করি। এই পুরস্কার আমার ব্যক্তিগত স্বীকৃতি নয়, এটি আফ্রিকার তরুণদের স্বীকৃতি। আমি এখানে আসতে পেরেছি শুধু আমার ছাত্রদের অর্জনের জন্য।’

‘তারা (আফ্রিকার তরুণরা) যে কোনো কিছু করে দেখাতে পারে, এটি বলার একটি সুযোগ দিয়েছে এই পুরস্কার।’ চূড়ান্ত পর্যায়ে ৯ জনকে হারিয়ে পুরস্কার জেতার পর এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করেন পিটার তাবিচি।

এই বছরসহ পঞ্চমবারের বিশ্ব শিক্ষক পুরস্কারের আয়োজন করেছে দুবাই ভিত্তিক ভার্কি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি তাবিচির উৎসর্গ, কঠোর পরিশ্রম ও ছাত্রদের প্রতি তার একনিষ্ঠ বিশ্বাসের প্রশংসা করেছে।

ভার্কি ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানায়, পিটার তাবিচি একেবারেই স্বল্প যন্ত্রাংশ আছে কেনিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের এমন একটি বিদ্যালয়কে সেদেশের জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় প্রথম হতে নেতৃত্ব দিয়েছে।’

৩৬ বছর বয়সী পিটার তাবিচি কেনিয়ার খরা ও দুর্ভিক্ষে জর্জরিত প্রত্যন্ত পনি গ্রামের ‘কেরিকো মিক্সড ডে সেকেন্ডারি স্কুল’র শিক্ষক।

বিদ্যালয়টির প্রায় ৯৫ শতাংশ ছাত্রছাত্রী অতি দরিদ্র ঘরের সন্তান। এর মধ্যে তিন ভাগের এক ভাগই এতিম অথবা তাদের বাবা অথবা মা একজন নেই। এই ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই বাড়িতে খাদ্যের অভাবে উপোস থাকে।

বিদ্যালয়টি যে এলাকায় অবস্থিত সেখানে মাদকের অপব্যবহার, কৈশোরে গর্ববতী, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও আত্মহত্যা সাধারণ ঘটনা।

বিদ্যালয়ে পৌঁছতে অনেক ছাত্রছাত্রীর সাত কিলোমিটার দীর্ঘ্য রাস্তা হাঁটতে হয়। এই রাস্তা আবার বর্ষা মৌসুমে চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।

এই বিদ্যালয়ে ৫৮ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন একজন। বিদ্যালয়টিতে সকলের জন্য রয়েছে একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, যাতে ইন্টারনেট সংযোগ খুবই দুর্বল। তারপরও পিটার তাবিচি তার ৮০ শতাংশ পাঠে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকেন।

তাবিচির এই অর্জনকে স্বাগত জানিয়েছেন কেনিয়ার রাষ্ট্রপতি উহুরু কেনিয়াত্তা। এক ভিডিও বার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আপনার (পিটার তাবিচি) গল্প, আফ্রিকার গল্প। একজন তরুণ মিতাচারী, মেধায় পরিপূর্ণ।‘

আপনার মতামত লিখুন :

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চীন ও জাপানের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে শোধ করতে না পেরে এখন বিপাকে মিয়ানমার। এই দুই দেশ ছাড়াও আরও প্রায় ২০টি দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে দেশটি।

যৌথ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করেছে।

কমিটি বলেছে স্বরাষ্ট্র, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং সেচ; পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও শিল্প এসব খাতে ১০.২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়েছে মিয়ানমার।

এর আগের অর্থ বছরের চেয়ে এ বছর ঋণ নেওয়ার হার বেড়েছে ১১.৫ শতাংশ যা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্য অর্থ।

২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত চীন থেকে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে যা দেশটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিল্প, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং সেচখাতে ব্যয় হয়েছে।

এদিকে, মিয়ানমার জাপানের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে। অন্যান্য ঋণদাতাদের মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, ভারত, থাইল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থার যোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছে মিয়ানমার। এ সুদের হার ২.৫ থেকে ৪.৫ শতাংশ। উচ্চতর সুদের হার ও মিয়ানমারে নিম্নমূল্যের মুদ্রা দেশের উপর একটি ভারী বোঝা সৃষ্টি করেছে। এই জাতীয় ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত সাবধানতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে কমিটি সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে উচ্চতর সুদের হার, দুর্বল কায়াত এবং ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের কারণে সরকারী অর্থায়নে ক্ষতি হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, শিল্প মন্ত্রকের অধীনে বেশ কিছু ব্যর্থ প্রকল্প রয়েছে যারা ঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও সেচের জন্য বিতরণের পরে কর্পোরেট প্রশাসনকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এটি না করার ফলে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।

'ভারতের যুদ্ধ বিমান মিগ-এর মতো পুরনো গাড়িও চালানো হয় না'

'ভারতের যুদ্ধ বিমান মিগ-এর মতো পুরনো গাড়িও চালানো হয় না'
ভারতের এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া বলেন, 'ভারতীয় বিমানবাহিনী এখনও ৪৪ বছরের পুরনো মিগ-২১ (MiG-21 fighter jets) যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, যখন কেউ এমন পুরনো গাড়িও চালাচ্ছে না। যেখানে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানও উন্নত এফ-১৬ জেট ব্যবহার করছে, সেখানে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মূল হাতিয়ার হিসেবে চার দশকের পুরনো যুদ্ধবিমানগুলি এখনও ব্যবহার করে চলেছে ভারত।' 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানায়, মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ভারতীয় বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও দেশীয়করণ সম্পর্কিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পাশে বসেই এমন মন্তব্য করেন দেশটির এয়ার চিফ মার্শাল  বিএস ধানোয়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566308577608.jpg
 মিগ-২১ যুদ্ধ বিমান

 

তিনি আরও বলেন, 'এ বছরেই রাশিয়ান ফাইটার জেটের প্রাথমিক সংস্করণটি পর্যায়ক্রমে বাতিল করা শুরু হবে। আশা করি, আগামী সেপ্টেম্বরেই শেষবারের মতো ওড়ানো হবে এ রাশিয়ান যুদ্ধবিমান।' 

ভারতের তৈরি উপাদান ব্যবহার করে সংস্কারের কারণে বিমানটি গত কয়েক দশক ধরে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল। যেখানে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশেরও বেশি উপাদান ভারতে তৈরি হয়। রাশিয়ানরাও যেখানে মিগ ওড়াচ্ছে না, কিন্তু আমরা ওড়াতে পারছি কারণ আমাদের নিজেদের সংস্কারের সুবিধা রয়েছে।' 

এদিকে সম্প্রতি ভারতের সংসদে মিগ-২১ যুদ্ধবিমান গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার ভেঙে পড়ে বলে মন্তব্য করা হয়। ভারত তার সংগ্রহে থাকা ৮৭২টি মিগ বিমানের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হারিয়েছে বলেও সংসদে তথ্য দেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র