Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, বাতিল করলেন দেশে ফেরা

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, বাতিল করলেন দেশে ফেরা
সাদাফ খাদেম, ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ইরানের সর্বপ্রথম নারী বক্সারের বিরুদ্ধে তার দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বক্সিং ম্যাচ শেষে ফ্রান্স থেকে নিজ দেশ ইরানে ফেরার কথা থাকলেও, এই সংবাদে তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বাতিল করেছেন।

গেলো শনিবার (১৩ এপ্রিল) ফরাসি বক্সার অ্যানি শাউভিনকে বক্সিং ম্যাচে হারিয়েছেন ইরানি বক্সার সাদাফ খাদেম। ম্যাচ শেষে এই সপ্তাহেই তার ফরাসি-ইরানিয়ান প্রশিক্ষক মাহিয়ার মনশিপর এর সঙ্গে তেহরানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

ক্রীড়া বিষয়ক একটি সংবাদপত্রে উল্লেখ করেছে সাদাফ বিশ্বাস করেন যে, ইরানের বাধ্যতামূলক পোশাক পরিধানের নিয়ম ভঙ্গ করে বক্সিং ম্যাচে ভেস্ট ও শর্টস পরার ফলে তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদাফের পরিহিত ভেস্ট ছিল সবুজ ও শর্টস ছিল লাল রঙের। এই রঙের সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের পতাকার রঙ প্রকাশ পায়।

ইরানের কর্মকর্তা সাদাফের গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইরানের বক্সিং ফেডারেশনের প্রধান জানাচ্ছে, সাদাফ দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না।

ইরানের নিউজ অ্যাজেন্সির বরাত দিয়ে হোসেন সুরি বলেন, ‘সাদাফ খাদেম ইরানের অর্গানাইজড অ্যাথলেটস বক্সিং এর সদস্য নন, এবং বক্সিং ফেডারেশনের মতে তার সকল ধরণের কার্যক্রম সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত’।

২৪ বছর বয়সী এই বক্সারকে দেশের বাইরে খেলতে হয়েছে নিজ দেশে ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ থাকার পরেও। যা থেকে স্পষ্টত বোঝা যায়, নারীদের পোশাকের বিষয়ে দেশটি কতটা কঠোর অবস্থান নেয়।

ম্যাচে জয়ী হয়ে দেশে ফেরার পর সাদাফ আশা করছিলেন তাকে সংবর্ধনা জানানো হবে। কিন্তু তার জন্যে অপেক্ষা করছিল একেবারেই বিপরীত সংবাদ। তার প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্যারিসের চার্লস দে গাল্লে বিমানবন্দরে  পৌঁছানোর পর ফরাসি ক্রীড়া মন্ত্রী তাকে জানান, ইরানে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

‘আমি ফ্রান্সে আইনত অনুমোদনপ্রাপ্ত ম্যাচে লড়াই করেছি। কিন্তু আমি শর্টস ও টি-শার্ট পরে ছিলাম। যা পুরো বিশ্বের চোখে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পোশাক। আমার দেশের আইনের অবস্থা দেখে আমি হতবাক হয়ে গেছি। আমি স্কার্ফ পরিনি এবং আমাকে প্রশিক্ষন দিয়েছেন একজন পুরুষ। অনেকের চোখে এটা খুবই খারাপ কাজ।’ এমনটাই বলেছেন সাদাফ খাদেম।

এদিকে প্যারিসে অবস্থিত ইরানিয়ান দূতাবাসের মুখপাত্র সাদাফের গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে কিংবা তার দেশে ফেরার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কিছু জানায়নি।

ইরানের আইন অনুযায়ী সকল বয়সী মেয়ে বা নারীর জনসম্মুখে স্কার্ফ পরা বাধ্যতামূলক। কাউকে স্কার্ফ ব্যতিত দেখলেই ১০ দিন থেকে দুই মাসের জেল অনাদায়ে জরিমানা প্রদান করা হয়। ইরানিয়ান নারী খেলোয়াড়দের চুল, ঘাড়, বাহু ও পা ঢেকে রাখা তাই বাধ্যতামূলক।

আপনার মতামত লিখুন :

জঙ্গলে বিদ্রোহী, বাঘ গুণতে পারে না মিয়ানমার

জঙ্গলে বিদ্রোহী, বাঘ গুণতে পারে না মিয়ানমার
মিয়ানমারের জঙ্গলে বেঙ্গল টাইগার | ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র সংহাতের ফলে দেশটিতে থাকা বাঘের সংখ্যা গুণে বের করা যাচ্ছে না। দেশটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সমিতির মতে, সবশেষ বাঘের জরিপে মাত্র ১০ শতাংশ অঞ্চলে বাঘের সংখ্যা গোণা গেছে।

সমিতি বলছে, বাঘের সংখ্যা সঠিকভাবে জানা কঠিন। সংঘাতের কারণে কিছু এলাকায় তারা জরিপ চালাতে পারেনি। মিয়ানমার সেনার সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাতের কারণে এসব অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহ করা খুব বিপজ্জনক।

পৃথিবীতে বাঘের ৯টি প্রজাতির মাত্র ছয়টি প্রজাতি এখন আর অবশিষ্ট আছে। বাঘের বাসস্থানগুলির মধ্যে মিয়ানমারে দুটি প্রজাতি রয়েছে। বেঙ্গল টাইগার ও ইন্দো-চায়না বাঘ দুটি দেশটির বিভিন্ন জঙ্গলে দেখতে পাওয়া যায়।

বাঘের বাসস্থান জরিপ করায় অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাদের আবাসগুলো দূরবর্তী এবং সশস্ত্র সংঘাতের কারণে তা ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ।

মিয়ানমারের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সমিতির সুপারিশ—বর্তমান বাঘের বাসস্থান সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ে আসা, যাতে বংশবিস্তার নিশ্চিত করা যায়।

মিয়ানমার সরকারের দাবি সারাদেশে ৮০টি বাঘ এখনো অবশিষ্ট আছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংখ্যা আরো কম। সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাঘেরা প্রচণ্ড খাদ্য সংকটে পড়েছে।

বাঘেরা যে প্রাণীগুলো শিকার করে খায় বনগুলোতে অবৈধ শিকারিরা সেই সব প্রাণী ধরে নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। বাঘের পছন্দের খাবারের মধ্যে গৌড়, হরিণ ও সাম্বার হরিণের সংখ্যা হুমকির মুখে। এসব বন্যপ্রাণী পাচারকারীদেরও খুব প্রিয়!

মিয়ানমারে জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল আইন দ্বারা সুরক্ষিত থাকলেও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে প্রাণীগুলো অচিরেই হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের সামরিক প্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

মিয়ানমারের সামরিক প্রধানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
মিয়ানমারের কমান্ডার ইন চিফ মিন আং হলিং, ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সামরিক প্রধানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) মিয়ানমারের কমান্ডার ইন চিফ মিন আং হলিং এবং আরো কিছু সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যার অভিযোগ থাকায় এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের গণ হারে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞা তারই প্রমাণ।

মিয়ানমার কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন আং হলিং ছাড়াও তার ডেপুটি সো উইন, সিনিয়র কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থান ও এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অং অং এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন। তাদের পরিবারও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পে এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'যুক্তরাষ্ট্র বারবার বলার পরও মিয়ানমার সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপব্যবহারের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহির বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এতে আমরা উদ্বিগ্ন।’


পম্পে বলেন, ‘সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে, মিন অং হলিং ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ইন দিদিন গ্রামে নির্বিচারে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সৈনিকদের মুক্তির আদেশ দেন। এটিই ছিল সামরিক বাহিনীর সিনিয়র নেতৃত্বের জবাবদিহিতা এবং দায়বদ্ধতার অভাবের একটি গুরুতর উদাহরণ।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মিয়ানমারের কম্যান্ডার ইন চিফ রোহিঙ্গা হত্যায় অভিযুক্তকে মাত্র এক মাস জেল খাটিয়ে মুক্ত করে দিয়েছেন। অন্যদিকে এ হত্যার বিষয়ে বিশ্বকে যেসব সাংবাদিক জানিয়েছেন, তাদের ৫০০ দিনের বেশি জেল খাটানো হয়েছে।’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পে আয়োজিত 'ধর্মীয় স্বাধীনতা' বিষয়ে মন্ত্রী পর্যায়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রথম দিন নির্যাতিত রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি হলো।

পম্পে বলেন, ‘এ ঘোষণার মাধ্যমে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে সিনিয়র নেতৃত্বেকেও জনসম্মুখে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হলো।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র