Alexa

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, বাতিল করলেন দেশে ফেরা

গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি, বাতিল করলেন দেশে ফেরা

সাদাফ খাদেম, ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বপ্রথম নারী বক্সারের বিরুদ্ধে তার দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বক্সিং ম্যাচ শেষে ফ্রান্স থেকে নিজ দেশ ইরানে ফেরার কথা থাকলেও, এই সংবাদে তিনি দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি বাতিল করেছেন।

গেলো শনিবার (১৩ এপ্রিল) ফরাসি বক্সার অ্যানি শাউভিনকে বক্সিং ম্যাচে হারিয়েছেন ইরানি বক্সার সাদাফ খাদেম। ম্যাচ শেষে এই সপ্তাহেই তার ফরাসি-ইরানিয়ান প্রশিক্ষক মাহিয়ার মনশিপর এর সঙ্গে তেহরানে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

ক্রীড়া বিষয়ক একটি সংবাদপত্রে উল্লেখ করেছে সাদাফ বিশ্বাস করেন যে, ইরানের বাধ্যতামূলক পোশাক পরিধানের নিয়ম ভঙ্গ করে বক্সিং ম্যাচে ভেস্ট ও শর্টস পরার ফলে তার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদাফের পরিহিত ভেস্ট ছিল সবুজ ও শর্টস ছিল লাল রঙের। এই রঙের সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের পতাকার রঙ প্রকাশ পায়।

ইরানের কর্মকর্তা সাদাফের গ্রেফতারি পরোয়ানার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইরানের বক্সিং ফেডারেশনের প্রধান জানাচ্ছে, সাদাফ দেশে ফিরলে তাকে গ্রেফতার করা হবে না।

ইরানের নিউজ অ্যাজেন্সির বরাত দিয়ে হোসেন সুরি বলেন, ‘সাদাফ খাদেম ইরানের অর্গানাইজড অ্যাথলেটস বক্সিং এর সদস্য নন, এবং বক্সিং ফেডারেশনের মতে তার সকল ধরণের কার্যক্রম সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত’।

২৪ বছর বয়সী এই বক্সারকে দেশের বাইরে খেলতে হয়েছে নিজ দেশে ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ থাকার পরেও। যা থেকে স্পষ্টত বোঝা যায়, নারীদের পোশাকের বিষয়ে দেশটি কতটা কঠোর অবস্থান নেয়।

ম্যাচে জয়ী হয়ে দেশে ফেরার পর সাদাফ আশা করছিলেন তাকে সংবর্ধনা জানানো হবে। কিন্তু তার জন্যে অপেক্ষা করছিল একেবারেই বিপরীত সংবাদ। তার প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্যারিসের চার্লস দে গাল্লে বিমানবন্দরে  পৌঁছানোর পর ফরাসি ক্রীড়া মন্ত্রী তাকে জানান, ইরানে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

‘আমি ফ্রান্সে আইনত অনুমোদনপ্রাপ্ত ম্যাচে লড়াই করেছি। কিন্তু আমি শর্টস ও টি-শার্ট পরে ছিলাম। যা পুরো বিশ্বের চোখে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পোশাক। আমার দেশের আইনের অবস্থা দেখে আমি হতবাক হয়ে গেছি। আমি স্কার্ফ পরিনি এবং আমাকে প্রশিক্ষন দিয়েছেন একজন পুরুষ। অনেকের চোখে এটা খুবই খারাপ কাজ।’ এমনটাই বলেছেন সাদাফ খাদেম।

এদিকে প্যারিসে অবস্থিত ইরানিয়ান দূতাবাসের মুখপাত্র সাদাফের গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে কিংবা তার দেশে ফেরার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কিছু জানায়নি।

ইরানের আইন অনুযায়ী সকল বয়সী মেয়ে বা নারীর জনসম্মুখে স্কার্ফ পরা বাধ্যতামূলক। কাউকে স্কার্ফ ব্যতিত দেখলেই ১০ দিন থেকে দুই মাসের জেল অনাদায়ে জরিমানা প্রদান করা হয়। ইরানিয়ান নারী খেলোয়াড়দের চুল, ঘাড়, বাহু ও পা ঢেকে রাখা তাই বাধ্যতামূলক।

আপনার মতামত লিখুন :