Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

ভারতের লোকসভা নির্বাচন

বারানসিতে ‘মোদি মোদি’ রব

বারানসিতে ‘মোদি মোদি’ রব
ভারতের উত্তর প্রদেশের বারানসি/ ছবি: বার্তা২৪.কম
খুররম জামান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের উত্তর প্রদেশ (বারানসি) থেকে: ভারতে চলমান লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদি বারানসিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী। বারানসি মোদি তথা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে মনে করেন ভারতীয় রাজনীতিকরা। ২০১৪ সালেও এখানে মোদি বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বারানসিতে নরেন্দ্র মোদি ছাড়া কোনো আলোচনায় হচ্ছে না। মানুষ কথায় কথায় মোদির কথাই বলছেন। নিলয় বিশ্বাস বারানসির ভোটার। তিনি বলেন, ‘মোদিজী আমাদের বাহুবলী। তাকে এখানে হারানো অসম্ভব। এ নির্বাচনে তাঁর কারো দরকার নেই। তিনি একাই একশ।’

সুবির ঘোষ অনেকদিন ধরে বারানসিতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘এখানে মোদি মোদি রব উঠেছে। মোদিকে এখান থেকে এবারে হটানো কঠিন।’

মানস যাদব জানান, বারানসি কংগ্রেসের স্থান নয়। যে কেউ এখানে কংগ্রেসকে হারাবে। সে প্রিয়াংকা গান্ধীই হোক না কেন।

এদিকে প্রিয়াংকার স্বামী রবার্ট ওয়াদরা বুধবার (১৭ এপ্রিল) সাংবাদিকদের বলেন, ‘বারানসি আসনে প্রিয়াংকা গান্ধী নরেন্দ্র মোদির জন্য অবশ্যই একজন শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী।’

রবার্ট ওয়াদরা বলেন, ‘প্রিয়াংকা গান্ধী একজন কঠোর পরিশ্রমী ব্যক্তি। তার ও রাহুল গান্ধীর মধ্যে মানুষ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেখছে।’

মোদির বিপক্ষে প্রিয়াংকা দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই।’

বারানসির ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এখানে কাউকে নরেন্দ্র মোদির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন না তারা। বড়সড় এক শহর বারানসি। নোংরা, বিশৃঙ্খলা, ফুটপাত জুড়ে হকার, নিয়ম না মানার প্রতিযোগিতা- সবই আছে। ঘাটে পূণ্যার্থীদের আনাগোনা, সবই চলছে স্বাভাবিক।

লোকসভা নির্বাচনে সাত পর্বের ভোটগ্রহণ গত ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে এবং ১৯ মে শেষ হবে। বারানসিতে ভোট হবে ১৯ মে। পুরো নির্বাচনের ভোট গণনা হবে ২৩ মে এবং চূড়ান্ত ফলাফল সেদিন সন্ধ্যায় ঘোষণা করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যে আসনে প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা উত্তর প্রদেশের পূর্ব অংশে বারানসিতে পড়েছে। গঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বারানসি ঐতিহ্যগতভাবে একটি বিজেপি দুর্গ। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ছাড়া বিজেপি ১৯৯১ সাল থেকে সব সংসদীয় নির্বাচনে জিতেছে।

২০১৪ সালে মোদি প্রথমবারের মতো লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তিনি তিন লাখ ৭০ হাজারও বেশি ভোটের ব্যবধানে আম আদমি পার্টির (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে পরাজিত করে বারানসিতে নির্বাচিত হন। কংগ্রেসের অজয় রায় ৭৫ হাজার ভোট নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিলেন।

এবার বারানসির জন্য পৃথক ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করেছে বিজেপি এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে মোদির পক্ষে ভোট চাইতে প্রচারকেন্দ্র স্থাপন করেছে।

মোদি ২০১৪ সালে গুজরাটের বডোদা থেকেও সফলভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, কিন্তু পরে সেটাকে ছেড়ে দিয়েছিলেন, কারণ তিনি বারানসিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

বারানসি সংসদীয় আসনে পাঁচটি বিধানসভা আসন রয়েছে- রোহানিয়া, বারানসি উত্তর, বারানসি দক্ষিণ, বারানসি ক্যান্টনমেন্ট ও সেভাপুরি। ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই পাঁচ আসনে বিজেপি চারটিতে জিতে, সেভাপুরিতে বিজেপির জোট সঙ্গি আপনা দল জিতে।

আপনার মতামত লিখুন :

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চীন ও জাপানের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে শোধ করতে না পেরে এখন বিপাকে মিয়ানমার। এই দুই দেশ ছাড়াও আরও প্রায় ২০টি দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে দেশটি।

যৌথ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করেছে।

কমিটি বলেছে স্বরাষ্ট্র, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং সেচ; পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও শিল্প এসব খাতে ১০.২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়েছে মিয়ানমার।

এর আগের অর্থ বছরের চেয়ে এ বছর ঋণ নেওয়ার হার বেড়েছে ১১.৫ শতাংশ যা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্য অর্থ।

২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত চীন থেকে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে যা দেশটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিল্প, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং সেচখাতে ব্যয় হয়েছে।

এদিকে, মিয়ানমার জাপানের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে। অন্যান্য ঋণদাতাদের মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, ভারত, থাইল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থার যোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছে মিয়ানমার। এ সুদের হার ২.৫ থেকে ৪.৫ শতাংশ। উচ্চতর সুদের হার ও মিয়ানমারে নিম্নমূল্যের মুদ্রা দেশের উপর একটি ভারী বোঝা সৃষ্টি করেছে। এই জাতীয় ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত সাবধানতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে কমিটি সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে উচ্চতর সুদের হার, দুর্বল কায়াত এবং ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের কারণে সরকারী অর্থায়নে ক্ষতি হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, শিল্প মন্ত্রকের অধীনে বেশ কিছু ব্যর্থ প্রকল্প রয়েছে যারা ঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও সেচের জন্য বিতরণের পরে কর্পোরেট প্রশাসনকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এটি না করার ফলে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।

'ভারতের যুদ্ধ বিমান মিগ-এর মতো পুরনো গাড়িও চালানো হয় না'

'ভারতের যুদ্ধ বিমান মিগ-এর মতো পুরনো গাড়িও চালানো হয় না'
ভারতের এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া বলেন, 'ভারতীয় বিমানবাহিনী এখনও ৪৪ বছরের পুরনো মিগ-২১ (MiG-21 fighter jets) যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, যখন কেউ এমন পুরনো গাড়িও চালাচ্ছে না। যেখানে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানও উন্নত এফ-১৬ জেট ব্যবহার করছে, সেখানে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মূল হাতিয়ার হিসেবে চার দশকের পুরনো যুদ্ধবিমানগুলি এখনও ব্যবহার করে চলেছে ভারত।' 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানায়, মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ভারতীয় বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও দেশীয়করণ সম্পর্কিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পাশে বসেই এমন মন্তব্য করেন দেশটির এয়ার চিফ মার্শাল  বিএস ধানোয়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566308577608.jpg
 মিগ-২১ যুদ্ধ বিমান

 

তিনি আরও বলেন, 'এ বছরেই রাশিয়ান ফাইটার জেটের প্রাথমিক সংস্করণটি পর্যায়ক্রমে বাতিল করা শুরু হবে। আশা করি, আগামী সেপ্টেম্বরেই শেষবারের মতো ওড়ানো হবে এ রাশিয়ান যুদ্ধবিমান।' 

ভারতের তৈরি উপাদান ব্যবহার করে সংস্কারের কারণে বিমানটি গত কয়েক দশক ধরে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল। যেখানে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশেরও বেশি উপাদান ভারতে তৈরি হয়। রাশিয়ানরাও যেখানে মিগ ওড়াচ্ছে না, কিন্তু আমরা ওড়াতে পারছি কারণ আমাদের নিজেদের সংস্কারের সুবিধা রয়েছে।' 

এদিকে সম্প্রতি ভারতের সংসদে মিগ-২১ যুদ্ধবিমান গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার ভেঙে পড়ে বলে মন্তব্য করা হয়। ভারত তার সংগ্রহে থাকা ৮৭২টি মিগ বিমানের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হারিয়েছে বলেও সংসদে তথ্য দেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র