Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

কেন বন্ধ হয়ে গেল জেট এয়ারওয়েজ?

কেন বন্ধ হয়ে গেল জেট এয়ারওয়েজ?
জেট এয়ারওয়েজের একটি উড়োজাহাজ, ছবি: সংগৃহীত
ইশতিয়াক হুসাইন
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিষেবা সংস্থা জেট এয়ারওয়েজের সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দ্রুত সময়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করা এই এয়ারলাইন্সটি কেন বন্ধ হয়ে গেল তার কারণ খোঁজা হয়েছে বার্তা২৪.কম-এর পক্ষ থেকে।

এর আগে ভারতে অল্প সময়ের মধ্যে আকাশপথের বাজার ধরতে সক্ষম হওয়া কিংফিশার এয়ারলাইন্সও আর্থিক কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। জেট এয়ারওয়েজ বন্ধ হওয়ার পর ভারতের এয়ারলাইন্সের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ ইন্ডিগো’র সেফটি অডিট সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে।

আর্থিক সংকট ও বাজেট এয়ারলাইন্সসমূহের কাছে মার খেয়ে ভারতে বিমান চলাচল খাতে দুরবস্থা নতুন কোনো সংবাদ নয়। আর্থিক সংকটে পড়ে ২০১২ সালে কিংফিশারের অপারেশন বন্ধ হয়ে যাওয়া, রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্স এয়ার ইন্ডিয়া দীর্ঘদিন ধরে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলা এসবই এয়ারলাইন্স ব্যবসার দুরবস্থার নিদর্শন। এই মুহূর্তে এয়ার ইন্ডিয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি রুপি দেনায় জরাগ্রস্ত। তাছাড়া বাজেট এয়ারলাইন্সসমূহের কাছে নিয়মিত এয়ারলাইন্সগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) এয়ারলাইন্সটির কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, তারা বিমানসংস্থাটি আর চালাতে পারছে না। বর্তমানে জেট এয়ারওয়েজের দেনার পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বেশ কিছুদিন ধরেই জেট এয়ারের আর্থিক অবস্থা খারাপ যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে শোনা যাচ্ছিল টাটা কিনে নিচ্ছে এয়ারলাইন্সটি। এ নিয়ে কথাবার্তাও যে হয়নি তা নয়। তবে এর শেষ পরিণতি পেল এটি বন্ধের মধ্য দিয়ে।

২৫ বছর আগে যাত্রা শুরু করা এয়ারলাইন্সটি বন্ধ হয়ে গেল একটিমাত্র নোটিশেই। কেন বন্ধ হলো এয়ারলাইন্সটি?

মূলত ব্যাংকসমূহ থেকে জেট এয়ারওয়েজকে কেউ ঋণ দিতে রাজি না হওয়াতেই এয়ারলাইন্সটি বন্ধ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এ বিষয়ে জেটের পক্ষ থেকে বলা হয়, তার অনেক চেষ্টা, তদবির করেই এয়ারলাইন্সটি বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প রাস্তা খুঁজে পায় নি।

এয়ারলাইন্সটিকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রায় মাস খানেক ধরেই তাদের ফ্লাইট সংখ্যা অনেকগুণ কমিয়ে দিয়েছিল। অথচ বছর খানেক আগেও জেটের বহরে ছিল ১২০টি উড়োজাহাজ।

জেট এয়ারওয়েজ বন্ধ হওয়ার আরেকটি কারণ হলো, সম্প্রতি ইউএস ডলারের তুলনায় রুপির দাম অনেক কমে গেছে। এতে সংকটে থাকা সংস্থাটি উড়োজাহাজের পার্টস থেকে শুরু করে জ্বালানি তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি রুপি গুণতে হয়েছে। এছাড়া অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডলারে বেতন দেয়ার ক্ষেত্রেও তাদের এ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে।

তবে ব্যাংক ঋণ না পাওয়াই কিংবা রুপির দাম কমা এয়ারলাইন্স বন্ধের প্রধান কারণ নয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণেই বিপদে পড়ে এয়ারলাইন্সটি।

জানা গেছে, এসবিআই সহ অন্য ব্যাংকসমূহের কথা ছিল একটাই, আগে তাদের ঋণ শোধ করতে হবে। নতুবা নতুন কোনো ঋণ নয়।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে নিজেদের ব্যয় সমন্বয় করার উপায় ছিল একটিই। আর তা হলে এয়ার টিকেটের দাম বাড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে টিকেটের দাম বৃদ্ধি করে টিকে থাকাটাও একটি কঠিন কাজ।

জেট এয়ারওয়েজ যখন টিকেটের দাম বাড়িয়ে ব্যয় সমন্বয় করার পরিকল্পনা করছিল তখন প্রতিযোগী এয়ারলাইন্সগুলো দাম কমানো শুরু করে। মূলত বাজার ধরতেই প্রতিযোগী এয়ারলাইন্সসমূহ এ নেতিবাচক চর্চা শুরু করে।

বিগত কয়েক বছরে আকাশ পথে যাত্রী সংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়ে। তবে এভাবে টিকেটের দাম বাড়ানোর পরিণতি ভালো হয়নি জেট এয়ারওয়েজের জন্য। যে কারণে বিগত কয়েক মাস ধরেই জেটের বেশিরভাগ কর্মী বেতন পাচ্ছিলেন না।

গেল মাসে এয়ারলাইন্সের ৫১ শতাংশ মালিক নরেশ গয়াল ও তার স্ত্রী এয়ারলাইন্সের পরিচালনা বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন। আর এরপরেই জেটের কপালে নেমে আসে মহাদুর্যোগ।

আপনার মতামত লিখুন :

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি ঋণের ভারে মিয়ানমারের অর্থনীতি নুয়ে পড়েছে। বিশেষ করে চীন ও জাপানের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে শোধ করতে না পেরে এখন বিপাকে মিয়ানমার। এই দুই দেশ ছাড়াও আরও প্রায় ২০টি দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছে দেশটি।

যৌথ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রতিবেদনে এসব উল্লেখ করেছে।

কমিটি বলেছে স্বরাষ্ট্র, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং সেচ; পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও শিল্প এসব খাতে ১০.২ বিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়েছে মিয়ানমার।

এর আগের অর্থ বছরের চেয়ে এ বছর ঋণ নেওয়ার হার বেড়েছে ১১.৫ শতাংশ যা প্রায় এক বিলিয়ন ডলার সমমূল্য অর্থ।

২০১৮ সালের মার্চ পর্যন্ত চীন থেকে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে যা দেশটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, শিল্প, কৃষি, প্রাণিসম্পদ এবং সেচখাতে ব্যয় হয়েছে।

এদিকে, মিয়ানমার জাপানের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার নিয়েছে। অন্যান্য ঋণদাতাদের মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, ভারত, থাইল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের মতো বহুপক্ষীয় সংস্থার যোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়েছে মিয়ানমার। এ সুদের হার ২.৫ থেকে ৪.৫ শতাংশ। উচ্চতর সুদের হার ও মিয়ানমারে নিম্নমূল্যের মুদ্রা দেশের উপর একটি ভারী বোঝা সৃষ্টি করেছে। এই জাতীয় ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত সাবধানতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে কমিটি সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে উচ্চতর সুদের হার, দুর্বল কায়াত এবং ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের কারণে সরকারী অর্থায়নে ক্ষতি হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, শিল্প মন্ত্রকের অধীনে বেশ কিছু ব্যর্থ প্রকল্প রয়েছে যারা ঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও সেচের জন্য বিতরণের পরে কর্পোরেট প্রশাসনকে শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু এটি না করার ফলে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে।

'ভারতের যুদ্ধ বিমান মিগ-এর মতো পুরনো গাড়িও চালানো হয় না'

'ভারতের যুদ্ধ বিমান মিগ-এর মতো পুরনো গাড়িও চালানো হয় না'
ভারতের এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া, ছবি: সংগৃহীত

ভারতের এয়ার চিফ মার্শাল বিএস ধানোয়া বলেন, 'ভারতীয় বিমানবাহিনী এখনও ৪৪ বছরের পুরনো মিগ-২১ (MiG-21 fighter jets) যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে, যখন কেউ এমন পুরনো গাড়িও চালাচ্ছে না। যেখানে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানও উন্নত এফ-১৬ জেট ব্যবহার করছে, সেখানে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে মূল হাতিয়ার হিসেবে চার দশকের পুরনো যুদ্ধবিমানগুলি এখনও ব্যবহার করে চলেছে ভারত।' 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানায়, মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ভারতীয় বিমানবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও দেশীয়করণ সম্পর্কিত এক সেমিনারে বক্তব্য রাখার সময় এসব কথা বলেন তিনি।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পাশে বসেই এমন মন্তব্য করেন দেশটির এয়ার চিফ মার্শাল  বিএস ধানোয়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566308577608.jpg
 মিগ-২১ যুদ্ধ বিমান

 

তিনি আরও বলেন, 'এ বছরেই রাশিয়ান ফাইটার জেটের প্রাথমিক সংস্করণটি পর্যায়ক্রমে বাতিল করা শুরু হবে। আশা করি, আগামী সেপ্টেম্বরেই শেষবারের মতো ওড়ানো হবে এ রাশিয়ান যুদ্ধবিমান।' 

ভারতের তৈরি উপাদান ব্যবহার করে সংস্কারের কারণে বিমানটি গত কয়েক দশক ধরে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছিল। যেখানে সংস্কারের প্রয়োজনীয় ৯৫ শতাংশেরও বেশি উপাদান ভারতে তৈরি হয়। রাশিয়ানরাও যেখানে মিগ ওড়াচ্ছে না, কিন্তু আমরা ওড়াতে পারছি কারণ আমাদের নিজেদের সংস্কারের সুবিধা রয়েছে।' 

এদিকে সম্প্রতি ভারতের সংসদে মিগ-২১ যুদ্ধবিমান গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার ভেঙে পড়ে বলে মন্তব্য করা হয়। ভারত তার সংগ্রহে থাকা ৮৭২টি মিগ বিমানের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হারিয়েছে বলেও সংসদে তথ্য দেওয়া হয়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র