Alexa

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কাঁদছেন জেট কর্মীরা

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কাঁদছেন জেট কর্মীরা

কাঁদছেন জেট এয়ারওয়েজের কর্মীরা / ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন আর্থিক ঋণ মেটাতে না পারা, আর্থিক সমস্যা, কর্মীদের বেতন বকেয়া, বিভিন্ন দিক থেকে রীতিমতো কোণঠাসা হচ্ছিল ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিষেবা সংস্থা জেট এয়ারওয়েজ। অবশেষে বিমান সংস্থাটির সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে দিশেহারা এর সঙ্গে জড়িত পাইলট থেকে শুরু করে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা কর্মচারী। জেটের নিজস্ব কর্মী ছাড়াও ট্রাভেল এজেন্ট থেকে শুরু করে বিমানবন্দরে কাজ করা ঠিকা কর্মীদেরও ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

অনেকেই জেট এয়ারওয়েজের শুরু থেকে কাজ করেছেন। তাদের কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে, তাদের আর চাকরি নেই। কেউ আবার এখনো আশা করছেন, ঘুরে দাঁড়াবে সংস্থা। গত তিন মাস বেতন না পেলেও তারা কাজে আসছিলেন। তবে রোববার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে জেট এয়ারওয়েজের এক হাজারের বেশি পাইলট এবং প্রকৌশলী সংস্থাটির প্লেন আর উড়াবে না বলে ঘোষণা দেন। এরপর বুধবার (১৭ এপ্রিল) চূড়ান্তভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় জেট এয়ারওয়েজ।

এদিকে বন্ধ ঘোষণার পর ‘জেট বাঁচান। আমাদের পরিবার বাঁচান।’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বিভন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করছেন সংস্থাটির কর্মীরা। এ সময় একজন আরেকজনকে জড়িয়ে কাঁদছেন আর ভাবছেন সামনের দিনের কথা, পরিবার ও সংসারের কথা। তাদের দাবি, এ সংকটে সরকার যেন হস্তক্ষেপ করে। পাশাপাশি কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার তদন্ত হোক।

ভুজা পূজারী নামে জেটের এক কর্মী বলেন, ‘এইরকম চলতে থাকলে বাড়ি বেচতে হবে। মনে হচ্ছে আমার দু’হাত বাঁধা, রাতে ঘুমাতে পারছি না।’

শুধু পূজারী নন, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাহাকার করতে দেখা গেল জেটের হাজার হাজার কর্মীকে। দিল্লি, মুম্বই নানা জায়গায় ধর্নায় বসলেন পাইলট, ইঞ্জিনিয়াররা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেটের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘আর কিছুদিন পর ঠিক মতো খাওয়া জুটবে কিনা বুঝতে পারছি না। সিনেমা দেখা, রেস্তোরাঁয় যাওয়া তো কবেই বন্ধ হয়ে গেছে। আমার পরিবার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।’

বার্তা২৪.কম-এর এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেটের কাঁধে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণের বোঝা রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের গত তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। যাত্রীদের ফেরত দিতে হবে বাতিল যাওয়া ফ্লাইটের টিকিটের দামও। সম্প্রতি ইউএস ডলারের তুলনায় রুপির দাম অনেক কমে গেছে। এতে সংকটে থাকা সংস্থাটি উড়োজাহাজের পার্টস থেকে শুরু করে জ্বালানি তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি রুপি গুণতে হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি কারণে বিপদে পড়ে এয়ারলাইনসটি। এসব বোঝা মাথায় নিয়ে সংস্থাটি আপাতত তাকিয়ে আছে নিলাম প্রক্রিয়ার দিকে।

আরও পড়ুন: মধ্যরাত থেকে উড়বে না জেট এয়ারওয়েজ

আরও পড়ুন: কেন বন্ধ হয়ে গেল জেট এয়ারওয়েজ?

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফ্লাইট বাতিলে প্রায় ৩৫০০ কোটি রুপির ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বিমান পরিষেবা প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে ২৬ মার্চ জেট এয়ারওয়েজের বোর্ড অফ ডিরেক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়ান সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা নরেশ গোয়েল এবং তার স্ত্রী অনিতা গোয়েল। আর এরপরেই জেটের কপালে নেমে আসে মহাদুর্যোগ।

আপনার মতামত লিখুন :