Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কাঁদছেন জেট কর্মীরা

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কাঁদছেন জেট কর্মীরা
কাঁদছেন জেট এয়ারওয়েজের কর্মীরা / ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দীর্ঘদিন আর্থিক ঋণ মেটাতে না পারা, আর্থিক সমস্যা, কর্মীদের বেতন বকেয়া, বিভিন্ন দিক থেকে রীতিমতো কোণঠাসা হচ্ছিল ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান পরিষেবা সংস্থা জেট এয়ারওয়েজ। অবশেষে বিমান সংস্থাটির সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে দিশেহারা এর সঙ্গে জড়িত পাইলট থেকে শুরু করে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা কর্মচারী। জেটের নিজস্ব কর্মী ছাড়াও ট্রাভেল এজেন্ট থেকে শুরু করে বিমানবন্দরে কাজ করা ঠিকা কর্মীদেরও ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

অনেকেই জেট এয়ারওয়েজের শুরু থেকে কাজ করেছেন। তাদের কেউ বিশ্বাসই করতে পারছেন না যে, তাদের আর চাকরি নেই। কেউ আবার এখনো আশা করছেন, ঘুরে দাঁড়াবে সংস্থা। গত তিন মাস বেতন না পেলেও তারা কাজে আসছিলেন। তবে রোববার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে জেট এয়ারওয়েজের এক হাজারের বেশি পাইলট এবং প্রকৌশলী সংস্থাটির প্লেন আর উড়াবে না বলে ঘোষণা দেন। এরপর বুধবার (১৭ এপ্রিল) চূড়ান্তভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় জেট এয়ারওয়েজ।

এদিকে বন্ধ ঘোষণার পর ‘জেট বাঁচান। আমাদের পরিবার বাঁচান।’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে বিভন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করছেন সংস্থাটির কর্মীরা। এ সময় একজন আরেকজনকে জড়িয়ে কাঁদছেন আর ভাবছেন সামনের দিনের কথা, পরিবার ও সংসারের কথা। তাদের দাবি, এ সংকটে সরকার যেন হস্তক্ষেপ করে। পাশাপাশি কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তার তদন্ত হোক।

ভুজা পূজারী নামে জেটের এক কর্মী বলেন, ‘এইরকম চলতে থাকলে বাড়ি বেচতে হবে। মনে হচ্ছে আমার দু’হাত বাঁধা, রাতে ঘুমাতে পারছি না।’

শুধু পূজারী নন, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে হাহাকার করতে দেখা গেল জেটের হাজার হাজার কর্মীকে। দিল্লি, মুম্বই নানা জায়গায় ধর্নায় বসলেন পাইলট, ইঞ্জিনিয়াররা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেটের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, ‘আর কিছুদিন পর ঠিক মতো খাওয়া জুটবে কিনা বুঝতে পারছি না। সিনেমা দেখা, রেস্তোরাঁয় যাওয়া তো কবেই বন্ধ হয়ে গেছে। আমার পরিবার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।’

বার্তা২৪.কম-এর এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেটের কাঁধে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণের বোঝা রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের গত তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। যাত্রীদের ফেরত দিতে হবে বাতিল যাওয়া ফ্লাইটের টিকিটের দামও। সম্প্রতি ইউএস ডলারের তুলনায় রুপির দাম অনেক কমে গেছে। এতে সংকটে থাকা সংস্থাটি উড়োজাহাজের পার্টস থেকে শুরু করে জ্বালানি তেল ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি রুপি গুণতে হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি কারণে বিপদে পড়ে এয়ারলাইনসটি। এসব বোঝা মাথায় নিয়ে সংস্থাটি আপাতত তাকিয়ে আছে নিলাম প্রক্রিয়ার দিকে।

আরও পড়ুন: মধ্যরাত থেকে উড়বে না জেট এয়ারওয়েজ

আরও পড়ুন: কেন বন্ধ হয়ে গেল জেট এয়ারওয়েজ?

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফ্লাইট বাতিলে প্রায় ৩৫০০ কোটি রুপির ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বিমান পরিষেবা প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে ২৬ মার্চ জেট এয়ারওয়েজের বোর্ড অফ ডিরেক্টর পদ থেকে সরে দাঁড়ান সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা নরেশ গোয়েল এবং তার স্ত্রী অনিতা গোয়েল। আর এরপরেই জেটের কপালে নেমে আসে মহাদুর্যোগ।

আপনার মতামত লিখুন :

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত মারা গেছেন

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত মারা গেছেন
শীলা দীক্ষিত, ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার ৮১ বছর বয়স হয়েছিল।

শনিবার (২০ জুলাই) দিল্লির ফর্টিস এসকর্ট হার্ট ইনস্টিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

দেশটির গণমাধ্যম জানায়, শীলা দীক্ষিত বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মৃত্যুর খবর জানায় তার পরিবার।

এবারের অনুষ্ঠিতব্য লোকসভা নির্বাচনেও উত্তর-পূর্ব দিল্লি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শীলা দীক্ষিত। তবে পরাজিত হন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেত্রী।

১৯৯৮, ২০০৩ এবং ২০০৮ সালে পরপর তিন বার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হন শীলা দীক্ষিত। বর্তমানে তিনি দিল্লি কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন।

শীলা দীক্ষিতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে কংগ্রেস পরিবারে। শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। 

এদিকে, শোকপ্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। 

অন্যদিকে, এক টুইট বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপদাহ, আক্রান্ত হচ্ছে কানাডাও

যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র তাপদাহ, আক্রান্ত হচ্ছে কানাডাও
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে তীব্র তাপদাহ ছড়িয়ে পড়েছে। আহাওয়াবিদরা বলছেন, কিছু কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাবে। কানাডার কিছু অংশ এই তাপদাহে আক্রান্ত হতে পারে। 

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, তীব্র তাপদাহে যুক্তরাষ্ট্র ও আশে পাশের দেশের ২০০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, বস্টনের পূর্ব উপকূলে। চলতি মাসে, যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় আর্কটিক সার্কেলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তাপদাহ কলোরাডো এবং কানসাস থেকে প্রসারিত হয়ে দেশজুড়ে আরো তীব্র আকার ধারণ করবে।

ইতোমধ্যে পূর্ব উপকূলের বেশিরভাগ এলাকায় তাপমাত্রা বেড়েছে। দেশটির আবহাওয়া অফিস (এনডব্লিউএসএস) তাপদাহে আক্রান্ত এলাকাগুলোর মানচিত্র প্রকাশ করেছে। তারা বলছেন, "সপ্তাহজুড়েই তাপদাহ থাকবে, তাই সবাইকে সতর্ক ও সাবধানে থাকতে হবে।"

নিউইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও তীব্র তাপদাহের কারণে স্থানীয় জরুরি অবস্থা জারি করেন। এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, গরমের তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। এটি খুবই গুরুতর বিষয়। শুক্রবার তাপমাত্রা বেড়েছে, শনিবার আরও বাড়বে, রোববার তা তীব্র আকার ধারণ করবে।

এই অবস্থায় নিউইয়র্কবাসীকে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বিল ডি ব্লাসিও বলেন, ঠান্ডা স্থানে থাকুন এবং বাইরে গরম জায়গায় যাবেন না। নিউইয়র্কে ৫০০ "শীতল কেন্দ্র" খেলা হয়েছে। অন্যান্য শহরেও এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে তীব্র তাপদাহে কানাডার কুইবেক, অন্টারিও এবং নোভা স্কটিয়া প্রদেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার টরোন্টোতে দিনের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া অফিস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র