Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

উত্তর প্রদেশ মোদির তালুতে

উত্তর প্রদেশ মোদির তালুতে
ছবি: বার্তা২৪
খুররম জামান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

লক্ষ্ণৌ থেকে: ভারতের রাজনীতিতে একটি কথা প্রচলিত আছে, যে উত্তর প্রদেশ জেতে সে দিল্লির ক্ষমতায় বসে। উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে মোদির নামই চলছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এ প্রদেশে ৮০টি আসনের মধ্যে ৭০টিতে জিতেছিল।

২০১৯ সালে এসে এ প্রদেশে মোদির নাম আরো ব্যাপকতা পেয়েছে। উত্তর প্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌ ঘুরে দেখা গেল, এখানে মোদি ছাড়া কিছু বুঝছেন না মানুষ। লক্ষ্ণৌতে মোদি লড়ছেন না। এখানে বিজেপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। তার বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছেন সমাজবাদ পার্টির চমক অভিনেতা-রাজনীতিক শত্রুঘ্ন সিনহার স্ত্রী পুনম সিনহা। ১৬ এপ্রিল সমাজবাদী পার্টিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। পুনম উত্তরপ্রদেশের লক্ষ্ণৌ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

কিন্তু মোদি ঝড়ে তিনি টিকবেন বলে মনে করেন না স্থানীয় সংকর যাদব।

Scene of Uttar Pradesh
উত্তর প্রদেশের একটি স্থাপনা/ছবি: বার্তা২৪.কম

তিনি বলেন, রাজনাথ সিং লক্ষ্ণৌ থেকে বিজেপির পক্ষ থেকে লড়ছেন। তিনি এখানকার লোক। মোদির জনপ্রিয়তা অনেক বেশি হওয়ায় পুনম হেরে যেতে পারেন এখানে।

লক্ষ্ণৌয়ের অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, মোদিই তাদের একমাত্র পছন্দ। স্থানীয় একলব ঠাকুর বলেন, নরেন্দ্র মোদির কথায় সব চলছে। প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য রাহুল গান্ধী অপরিপক্ক। প্রধানমন্ত্রীর পদের জন্য মোদিজির প্রতিদ্বন্দ্বী এখন আর কেউ নেই।

শক্তি সিং জানালেন, কংগ্রেস এখানে কোনো গড়ে তুলতে পারেনি। দুই ধাপে ভোট হয়ে গেছে। ভোটারদের উপস্থিতি বেশ ভাল। এটাই ইঙ্গিত দেয় মোদি জোয়ার আবারও উত্তর প্রদেশে উঠেছে। সাত পর্বের ভোট ১১ এপ্রিল শুরু হয়েছে। শেষ হবে ১৯ মে। ভোট গণনা ২৩ মে এবং চূড়ান্ত ফলাফল সেদিন সন্ধ্যায় ঘোষণা করা হবে।

এদিকে, উত্তর প্রদেশের আর এক আসনের প্রার্থী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাহুল গান্ধী সম্পর্কে বলেছেন, রাহুলের সঙ্গে গরিবের কোনো সম্পর্ক নেই। কংগ্রেস প্রধান উত্তর প্রদেশের আমেঠীতে নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় পাঁচ বছরে মাত্র একবারই তার নির্বাচনী এলাকাকে মনে করেন। রাহুল সেখানে দরিদ্র পরিবারের নারীদের জন্য কিছুই করেননি। প্রাসাদে বসবাসকারী রাহুল গান্ধী তার নির্বাচনী এলাকা থেকে গরিব নারীদের জন্য দুঃখ বোধ করেন না।

তিনি বলেন, তিনি (রাহুল) এমন একজন ব্যক্তি যিনি নিজের লোকসভা নির্বাচনে পাঁচ বছরে আমেঠী যান কারণ, তাকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিতে হয়। রাহুল গত ১৫ বছর ধরে এ আসনে কংগ্রেসের এমপি। কংগ্রেসের নেতাদের ঘরগুলো ঘি আলো দিয়ে প্রজ্বলিত হয়, কিন্তু নিজেদের মুক্তির জন্য গরিব নারীদের অন্ধকারের সন্ধান করতে হচ্ছে।

ইরানি বলেন, প্রথমবারের মতো আমেঠীতে দুই লাখ পরিবারকে (বিজেপির শাসনামলে) টয়লেট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

২০১৪ সালে সাধারণ নির্বাচনে এক লাখ ভোটের ব্যবধানে ইরানি পরাজিত হন রাহুলের কাছে। কিন্তু তিনি হারলেও রাহুলের সঙ্গে লড়েছেন বলেই মন্ত্রী হয়ে যান। এবার তিনি না জিতলেও ব্যবধান আরো কমাবেন বলে উত্তর প্রদেশের ভোটারদের মতো।

উত্তর প্রদেশের আর এক নেত্রী মায়াবতী কংগ্রেস ও বিজেপি দুদলকেই এ প্রদেশে হারানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। যদিও ২০১৪ সালে একটিও আসন পাননি তিনি।

বিএসপি প্রধান মায়াবতী বলেছেন, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেসের যে অবস্থা ছিল তেমন অবস্থায় চলে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি। তারা কংগ্রেসের মতোই উত্তর প্রদেশে হারবে।

তিনি বলেন, বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী মোদি হতাশ হয়ে পড়েছেন, গত লোকসভা নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় কংগ্রেসও মরিয়া জিততে। কিন্তু তারা কেউই গরিবের জন্য কিছুই করেনি।

আপনার মতামত লিখুন :

গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান নেই: অমর্ত্য সেন

গণতন্ত্র ছাড়া কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান নেই: অমর্ত্য সেন
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন

কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকারের সমালোচনা করে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর জোর দিয়ে মানুষের অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। আমার মনে হয় না গণতন্ত্রের চর্চা ছাড়া কাশ্মীর সমস্যার সমাধান সম্ভব।

সোমবার (১৯ আগস্ট) ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

৮৫ বছর বয়সী এই নোবেল বিজয়ী বলেন, ভারত গণতন্ত্রের আর্দশ মানছে না। আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এখন আর আমি গর্ব করি না। একটা সময় ছিলো পাশ্চাত্যের দেশগুলোর বাইরে একমাত্র ভারতে গণতন্ত্রের চর্চা হতো। ভারত এখন গণতন্ত্রের সেই পথ হারিয়েছে।

সম্প্রতি ভারত সরকার সংবিধানে কাশ্মীরকে দেওয়া মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে জম্মু কাশ্মীর থেকে লাদাখকে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে জম্মু কাশ্মীরের জমি ভারতের অন্য রাজ্যের মানুষও কিনতে পারবেন। এই অধিকার কেবল কাশ্মীরের জনগণেরই ছিলো। 

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল ও জমি ক্রয় প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, কাশ্মীরের জনগণের উপরই এই সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার দেওয়া উচিত। তারাই ঠিক করবে জমি ক্রয় বিক্রয় বিষয়ে, এই জমি তাদের অধিকার। 

কাশ্মীরের নেতাদের গ্রেফতারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমি মনে করি না, মানুষকে ভয় দেখিয়ে কণ্ঠস্বর রোধ করে ভালো কিছু পাওয়া যায়। নেতাদের গ্রেফতার করে, আটকে রেখে গণতন্ত্র দমন করে অতীতেও ভালো ফল পাওয়া যায়নি। 

কড়া নিরাপত্তায় মোড়ানো কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, এটা হচ্ছে জম্মু কাশ্মীরের উপর উপনিবেশিক অত্যাচার। ঠিক এভাবেই ২০০ বছর বিট্রিশরা আমাদের শাসন করেছিলো।

মিয়ানমারে সেনা এবং বিদ্রোহী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে

মিয়ানমারে সেনা এবং বিদ্রোহী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে
মিয়ানমারে সেনা এবং বিদ্রোহী জোটের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ছে

মিয়ানমারে ভিন্ন ভিন্ন বিদ্রোহী জোট একজোট হয়ে হামলা চালানোর পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সঙ্গে লড়াই বিস্তার লাভ করেছে। আরাকান আর্মি (এএ), মিয়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি এবং তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি এক জোট হয়ে এ হামলা চালায়।

তবে জোটের চতুর্থ সদস্য, কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি কোনও আক্রমণে অংশ নিয়েছে তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

এ সশস্ত্র জোটটি ১৫ আগস্ট আর্মি একাডেমিসহ ছয়টি স্থানে সমন্বিত হামলা চালায়। এর ফলে ১৫ জন নিহত হয়। এর পরেই চার দিন ধরে লাগাতার সেনা ও বিদ্রোহী জোটের আরো সংঘর্ষের খবর মিয়ানমার মিডিয়া জানিয়েছে।

শান স্টেটের ন্যাংচো জনপদের নিকটে পাইয়ন ওও লুইন অঞ্চলে ডিফেন্স সার্ভিসেস টেকনোলজিকাল একাডেমিসহ বিদ্রোহী জোটটি ছয়টি ভিন্ন এলাকায় হামলা পরিচালনা করার পর এ সংঘর্ষ বেড়েই চলেছে। এ সংঘর্ষে একজন অ্যাম্বুল্যান্স ড্রাইভার মারা গেছেন বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছিলেন যে তারা নাম হাটপাট কার ও কুতকাইয়ের মাঝামাঝি নান্ট কুট গ্রামের কাছে বন্দুকের গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছে।

গত চারদিন ধরে শানের লাসিও, কুতকাই, কিউকমে, থেইনি এবং মিউজি শহরতলীতে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) মিয়ানমারের কমান্ডার-ইন-চিফের অফিসের থেকে বিবৃতিতে, জানানো হয়েছে ইউ টুন মিন্ট নামে একজন ৫৮ বছর বয়সী স্বেচ্ছাসেবক অ্যাম্বুলেন্স চালক, অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। লশিওয়ের কাছে এ সংঘর্ষের পর নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিদ্রোহীরা স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র এবং একটি রকেট চালিত গ্রেনেড দিয়ে তার গাড়িতে গুলি চালায়। আহত হয়েছেন আরও পাঁচ জন।

সামরিক বাহিনীর জানায়, বিদ্রোহী জোটটি হালকা এবং ভারী উভয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে। এ জোটের আক্রমণগুলিতে ১০৭ মিলিমিটার রকেট ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।

সামরিক বাহিনী দাবি করছে, যে শান ও রাখাইন রাজ্যে জুলাই ও আগস্টে ২১০ কোটি মিয়ানমার মুদ্রার সমমূল্যের মাদক জব্দ করার কারণে আরাকান আর্মি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায়  এই হামলা চালাচ্ছে।

এদিকে বিদেশি পর্যটকদের মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি এ অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে স্বদেশি নাগরিকদের এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলীয় শান স্টেটে সশস্ত্র বিদ্রোহী জোটের হামলার পরে বিদেশিদের জন্য পাইয়ন ওও লুইন, ন্যাংচো এবং থিবাবের ভ্রমণ বাতিল করতে ট্র্যাভেল এজেন্সিগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র