Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে
ছবি: সংগৃহীত
সেন্ট্রাল ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১০ জন ও আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় মিলেছে। নিহতদের সকলেই প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক।

নিহত দশজন হচ্ছেন, টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার মালেকা গ্রামের হাবেজ উদ্দিনের ছেলে বাহাদুর, একই উপজেলার কস্তুরিপাড়া গ্রামের মো. শামসুল হকের ছেলে মো. মনির হোসেন, কুষ্টিয়ার ভেড়ামাড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে রফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার আলিপুরের মো. আব্দুল খালেকের ছেলে মো. ইউনুস আলি, নরসিংদীর মনোহরদি উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের মান্নান মাঝির ছেলে জামাল উদ্দিন মাঝি, একই উপজেলার তাতারদি গ্রামের রশিদের ছেলে ইমদাদুল ও দমনমারা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. আল আমিন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেগড়া গ্রামের মো. তফিজউদ্দিন মৃধার ছেলে গিয়াসউদ্দিন মৃধা, একই উপজেলার মো. রমজান আলীর ছেলে মো. মানিক ও কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলার বাহাদিয়া গ্রামের গিয়াসউদ্দিনের ছেলে মো. জুয়েল।

গুরুতর আহতরা হচ্ছেন, টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলার বলদি কোকধরা গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম, একই উপজেলার  কস্তুরিপাড়া গ্রামের শামসুল হকের ছেলে মো. মনির হোসেন, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ গ্রামের মো. ফজলুর ছেলে মো. রশিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার উরপা গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের ছেলে মো. ইউসুফ আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর  উপজেলার আয়ুবপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার ছেলে ফুল মিয়া, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দি গ্রামের  মেনু মিয়ার ছেলে রায়হান মিয়া ও রাজিব। রাজিবের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী একটি মিনিবাসে করে উক্ত ১৭ জন শ্রমিকক তাদের কর্মস্থলে যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মিনিবাসের মোট আরোহীর সংখ্যা ছিল চালকসহ ১৭ জন। এদের মধ্যে ১০ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত আরও ২ জনকে চিকিৎসার জন্য রিয়াদে স্থানান্তর করা হয়। আহত অন্য তিনজনকে শাকরা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে আরও দুইজনকে শাকরা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার সৌদি আরবের শাকরা শহর হতে মদিনার পথে ২০ কিলোমিটার দূরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আল হাবিব কোম্পানি ফর ট্রেডিং কমার্সিয়াল কন্ট্রাক্টস লিমিটেডের ১৭ জন শ্রমিক হতাহত হন।

 

আপনার মতামত লিখুন :

মার্কিন আদালতে মেক্সিকান মাদক সম্রাটের যাবজ্জীবন

মার্কিন আদালতে মেক্সিকান মাদক সম্রাটের যাবজ্জীবন
মাদক সম্রাট এল ছাপো গুজম্যান, ছবি: সংগৃহীত

মেক্সিকান মাদক সম্রাট এল ছাপো গুজম্যানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। এছাড়া ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) মাদক পাচার, মানি লন্ডারিং সহ ১০ মামলায় আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই রায় দেন নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালত।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মাদক মামলায় যাবজ্জীবন ও বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের দায়ে তাঁকে আরও ৩০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার ১২.৬ বিলিয়ন সমপরিমাণ সম্পদ বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়।

এর আগে ২০১৫ সালের মেক্সিকোর কারাগারে আটককৃত অবস্থায় একটি টানেল দিয়ে সে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২০১৭ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে এল ছাপো যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মাদক সরবরাহকারী সিনালোয়া কারটেলের প্রধান ছিলেন।

বিদেশে বিপাকে পড়তে পারেন মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তার সন্তানরা

বিদেশে বিপাকে পড়তে পারেন মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তার সন্তানরা
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‘জাতিগত নিধনের’ অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও তিন শীর্ষ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

এ নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে বিদেশে পড়তে যাওয়া মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের সন্তানরা বিপাকে পড়তে পারেন। দেশটির অধিকাংশ সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানরা ইউরোপ-আমেরিকায় পড়াশোনা করেন।

মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়-সহ তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের সাত সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিদেশে তাদের সম্পদ জব্দের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোতে তাদের ও পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নেয় তাহলে সমস্ত সেনাবাহিনীর ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তখন বিদেশে পড়তে যাওয়া সেনা সন্তানদের সবাইকে মিয়ানমারে ফিরে আসতে হতে পারে।

মিয়ানমারে গত ৫০ বছরে সামরিক আমলে সরকার উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে কম বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু সেনা কর্মকর্তারা নিজেদের সন্তানদের পড়াতে পশ্চিমা দেশগুলোতে পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে স্বচ্ছল পরিবারগুলো বেছে নিয়েছে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন ও ভারতের মত দেশকে।

মিয়ানমারে স্নাতক পড়ুয়াদের জন্য খুব কম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ব্যবসা ও প্রকৌশলের মতো পছন্দসই বিষয়ে পড়তে বড় সংখ্যার শিক্ষার্থীরা বিদেশেই যান। বেশিরভাগই সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো কাছাকাছি দেশগুলোতে যান। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াও অনেকের পছন্দের গন্তব্যস্থল। তবে প্রতিবেশী দেশে শিক্ষার খরচ বাড়ছে। কিন্তু এ দেশগুলোর শিক্ষার মান পশ্চিমা মানের নয়। তাই সামরিক কর্মকর্তারা তাদের সন্তানদের পশ্চিমেই পাঠিয়ে থাকেন।

আর যারা গবেষণা করতে চান তাদের জন্য পছন্দসই গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারের শিক্ষার্থীরা উন্নত মার্কেটিং জ্ঞান অর্জনে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।

মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং শিক্ষার্থী ভিসা পেতে অসুবিধার কারণে অতীতে অল্পকিছু শিক্ষার্থী পশ্চিমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হতো। এ স্বল্প কয়েজনের মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানরাই বেশি সুযোগ পেতেন।

তবে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে ভিসা পাওয়া সহজ হয়। মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত ‘এডুকেশন ফেয়ার’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।

এক হিসাব মতে মিয়ানমারের ২৫ হাজার শিক্ষার্থী বিদেশে অধ্যয়নরত রয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা ক্রমাগতই বাড়ছে।

থাইল্যান্ড হলো মিয়ানমারের শিক্ষার্থীদের প্রধান বিদেশি গন্তব্য, প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী সেখানে যাচ্ছেন।

এশিয়াতে অন্যান্য গন্তব্য সিঙ্গাপুরে ৫ হাজার, জাপানে সাড়ে ৩ হাজার, চীনে ৩ হাজার ও মালয়েশিয়ায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়তে গেছেন। মিয়ানমারের শিক্ষার্থীরা হংকং ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও পড়াশোনা করছেন।

পশ্চিমে যুক্তরাজ্যে ২ হাজার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৬শ’ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৬শ’ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এদের বড় একটি সংখ্যা সামরিক অফিসারদের সন্তান।

মিয়ানমারে প্রায় ৩০টি বেসরকারি আন্তর্জাতিক বিদ্যালয় আছে। সবগুলোতে পশ্চিমা পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়। এর ফলে শুরুতেই সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে চলে যায় এই শিক্ষার্থীরা। এর অর্থ তারা সবাই বিদেশে অধ্যয়ন করার পরিকল্পনা করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র