Alexa

‘পাখির ভাষায়’ কথা বলেন যে গ্রামের বাসিন্দারা!

‘পাখির ভাষায়’ কথা বলেন যে গ্রামের বাসিন্দারা!

পাহাড়েরর কোল ঘেঁষা তুরস্কের কুশকয় গ্রাম/ ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের পাহার ঘেরা প্রত্যন্ত গ্রাম কুশকয়। কৃষ্ণ সাগরের উপকূলে পাহাড়ের পাদদেশের এই গ্রামের মানুষ অদ্ভুতভাবে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করে। তারা কোনো শব্দ ব্যবহার করেন না। তারা পাখির মতো শিস দিয়ে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করেন। এ কারণে এ ভাষার নাম হয়ে গেছে ‘পাখির ভাষা’।

গ্রামটিতে মূলত কৃষকরা বাস করেন। তারা চা, ভুট্টা, বীট ও অন্যান্য শস্য চাষ করেন এবং পশুপাখি পালন করেন। তুরস্কের অন্যান্য জায়গার বাসিন্দাদের সাথে তাদের কোনো মিল নেই। তাদের এই গোপন পাখির ভাষা তাদেরকে তুর্কিদের থেকে আলাদা করেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/19/1558243737055.jpg

এক ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে তার স্ত্রীর উদ্দেশে শিস দিচ্ছেন চল্লিশোর্ধ্ব এক পুরুষ। তার জবাবে নিচে পাহাড়েরর কোলঘেঁষা ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে ঐ শিসের জবাব দিচ্ছেন তার স্ত্রী। একজন চা বাগানে কাজ করছেন, বাড়ির সামনে থেকে তাদের উদ্দেশে আরেক জন শিস দিয়ে জানাচ্ছেন, খাবার প্রস্তুত, খেতে আস।

এভাবেই কোনো শব্দ ব্যবহার না করে কুশকয় গ্রামের বাসিন্দারা কথা বলেন। তবে প্রাত্যহিক জীবনের সকল প্রয়োজনে এই শিস ব্যবহার করলেও কারও সাথে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা গোপন কথার ক্ষেত্রে তারা এই শিস ব্যবহার করেন না। তাহলে যে ধরা খেয়ে যাবেন!

এই কুশকয় গ্রামের তরুণ-তরুণীরাও প্রেম করেন। তবে প্রেমের ক্ষেত্রে তারা শিসের ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন। কারণ উচ্চস্বরের এই শিস অনেক দূর থেকে শোনা যায়। তাই নিজেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই তারা প্রেমের সম্পর্কে শিস দেওয়া থেকে বিরত থাকেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/19/1558243752839.jpg

ইউনেসকোর তথ্যমতে, তুরস্কের ঐ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ এই পাখি ভাষা অর্থাৎ শিস দিয়ে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করেন। সংস্থাটি এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের সংকটাপন্ন অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

তবে কুশকয় গ্রামের বাসিন্দারাও তাদের পাখির ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে বাৎসরিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। তাদের স্থানীয় স্কুলগুলোতে এই ভাষার উপর বাচ্চাদের পড়ানো হচ্ছে, শিস দেওয়া শেখানো হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :