Alexa

উত্তর কোরিয়ার নারী দিয়ে চীনে রমরমা যৌন ব্যবসা

উত্তর কোরিয়ার নারী দিয়ে চীনে রমরমা যৌন ব্যবসা

ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার হাজারো নারী ও কিশোরীকে পাচার করে চীনে বাধ্যতামূলকভাবে যৌন কর্মে বাধ্য করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ান নাগরিকদের পুনর্বাসিত করার সুযোগে দেশিয় দালাল চক্র ও  চীনা দালালদের যোগসাজশে পাচার হচ্ছেন এসব নারী। 

লন্ডনভিত্তিক রাইটস গ্রুপের এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সার্ভাইভারস নামে একটি সংস্থাও চীন থেকে কৌশলে এসব তথ্য সংগ্রহ করে পরে তা প্রকাশ করে।

প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়, চীনের উত্তর কোরিয়াকে পুনর্বাসিত করার সুযোগে এসব নারীকে প্রায়ই ফাঁদে ফেলে পাচার করা হচ্ছে। পরে চীনে নিয়ে নিগৃহীত হিসেবে তাদের অধিকাংশকে একাধিকবার বিক্রি করা হয় এবং বাসায় নিয়ে যৌনদাসী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অপহরণকৃত এসব নারীদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কমবয়সী কিশোরীদের সাইবার সেক্স ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয় করতে বাধ্য করা হয় এবং ক্যামেরার সামনে যৌন অভিনয় করতেও বাধ্য করা হয়। আর তাদের দক্ষিণ কোরিয়ান হিসেবেই উপস্থাপন করে চলে এ ব্যবসা।

রিপোর্টের প্রতিবেদক উন হি সুন বলেন, উত্তর কোরিয়ার নারী ও কিশোরীকে অপহরণ করে চলা এই বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। এসব নারীদের জোরপূর্বক বিয়ে করে পরে ১২ হাজার থেকে শুরু করে ছয় লাখ পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে প্রত্যন্ত এলাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাদের কিনে বাসায় আটকে রেখে যৌনকর্ম করে থাকেন স্বামীরা।

পাচার করা এসব নারীদের বয়স ১২ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। তাদের কাছ থেকে নেওয়া তথ্য নিয়ে লন্ডনভিত্তিক রাইটস গ্রুপ এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব নারী ও কিশোরীকে অপহরণ করে যৌনপল্লীতে বিক্রি অথবা চীনা নাগরিককে বিয়ে করতে বাধ্য করা হয়। যৌন কর্মের জন্য বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে তিনশ আর স্ত্রী হিসেবে বিক্রি করা হয় বাংলাদেশি টাকায় ১২ হাজার টাকায়।

উত্তর কোরিয়ার চংজিন সিটির মিসেসে পিয়ন নামে ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, আরও অন্য ছয় উত্তর কোরিয়ান নারীদের মতো আমাকেও হোটেলে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে আমাদের ঠিকমতো খাবার খেতে দেওয়া হতো না এবং যৌনকর্মে বাধ্য করা হতো। এভাবে আট মাস পেরিয়ে গেলে আবারও আমাদের বিক্রি করে দেওয়া হয়। বিক্রি হওয়ার পরে দালালরাও আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে নতুন যৌনপল্লীতে গেলে আমার দেহকে ক্ষতবিক্ষত করা হয়। দালালদের একটি দল আমাকে মারধর করে।

ভুক্তভোগী আরেক নারী কিম বলেন, চীনে আমাদের পরিচয় সম্বলিত কার্ড হোটেলগুলোর দরজায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়। কার্ডগুলো ছিল কোরিয়ান ভাষায়। সেখানে নানা অফার দিয়ে আমাদের বারে নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো সাধারণত উত্তর কোরিয়ার যৌনকর্মীদের চায়। তাদের এক ব্যবসায়িক পার্টনারের সঙ্গে আমার এটাই ছিল আমার প্রথম অভিজ্ঞতা।

চীনের উত্তর পূর্বের একটি জেলার যৌনপল্লীতে চলে এই বেচাকেনা। আর সেখানকার অভিবাসী ওয়ার্কাররাই এসব নারীদের খদ্দের।

আপনার মতামত লিখুন :