Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

দলীয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চাইলেন মমতা

দলীয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চাইলেন মমতা
বক্তব্য রাখছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়, ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে অনেকগুলো আসন খোয়ানোর পর ভোটের ফল পর্যালোচনার জন্য নিজ দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এ বৈঠকের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে চান তিনি।

শনিবার (২৫ মে) নিজের বাসভবন সংলগ্ন কার্যালয়ে এ বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূল চেয়ারপারসন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে এসেছে, লোকসভা নির্বাচনের সব প্রার্থীকেই ডাকা হয়েছিল সেখানে। শনিবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা কিছু সংবাদ মাধ্যমকে বললেন ভোট নিয়ে, তার সারকথা এই। ভোটের ফলাফল পর্যালোচনার জন্য নিজের বাসভবন সংলগ্ন কার্যালয়ে এ দিন বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূল চেয়ারপারসন। লোকসভা নির্বাচনের সব প্রার্থীকেই ডাকা হয়েছিল সেখানে। ডাকা হয়েছিল দলের জেলা সভাপতি এবং পর্যবেক্ষকদের। ডাকা হয়েছিল সিনিয়র নেতাদেরও। পর্যালোচনা শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বললেন, তাতে কিন্তু তৃণমূলের বা তার সরকারের তরফে কোনও খামতির স্বীকারোক্তি রইল না। বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা খাওয়ার অজুহাত হিসেবে ঘুরেফিরে বার বারই বরং উঠে এল নানা রকম চক্রান্ত ও অশুভ আঁতাতের তত্ত্ব।

শনিবারের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রায় আগাগোড়াই আক্রমণাত্মক থাকার চেষ্টা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কোথাও মনে হল তিনি বিরক্ত, কোথাও মনে হল তথাকথিত চক্রান্তের সামনে তিনি অসহায় বোধ করছেন, কোথাও আবার রয়ে গেল একটু অভিমানের সুর। তিনি জানালেন, এ দিনের বৈঠকের শুরুতেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তাকে গত পাঁচ মাস কোনও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘আমি এ রকম আগে কখনও দেখিনি। পাঁচ মাস ধরে কোনও কাজ করতে গেলেই বলছে, সব নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সারা ভারতে আর কোথাও হয়েছে কি না জানি না, কিন্তু বাংলায় তো হয়েছে।’’ কণ্ঠস্বরে তীব্র ঝাঁঝ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, ‘‘পুরো কেন্দ্রীয় বাহিনী আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, নির্বাচন কমিশন পুরো ওদের (বিজেপির) হয়ে কাজ করেছে। কেউ বলুক ছাই না বলুক, ঘটনা তো সত্য!’’

তবে এত কিছু করেও তৃণমূলকে বিজেপি খুব একটা ধাক্কা দিতে পেরেছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করছেন না। তিনি বলেছেন, ‘‘আমাদের আসন হয়তো কমেছে, কিন্তু ভোট বেড়েছে।’’ ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনের হিসেবে চোখ রাখলে দেখা যাবে তৃণমূলের ভোটপ্রাপ্তির হার অবশ্যই বেড়েছে। কিন্তু তার পরে ২০১৬ সালে যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল, তাতে তৃণমূলের পাওয়া ভোট শতাংশে যদি চোখ রাখা যায়, তা হলে কিন্তু ভোট এ বার কমেছে। সে প্রসঙ্গে কারও কাছ থেকে কোনও মন্তব্য মেলেনি।

নির্বাচনী ফলাফলের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘‘পুরোপুরি হিন্দু-মুসলমান করা হয়েছে। আমি এটা মানি না, আমি এই থিওরি মানি না। আমি ওদের অভিনন্দন জানিয়েও বলছি, আমি এই থিওরি মানি না। এতে যদি আমায় একা থাকতে হয়, আমি একা থাকতেও রাজি আছি। কিন্তু আমি হিন্দু-মুসলমান-শিখ-খ্রিস্টানে ভোট ভাগাভাগি মানি না।’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, শুধু সাম্প্রদায়িক মেরুকরণেই বিজেপি থামেনি। হাজার হাজার কোটি টাকা বিজেপি ছড়িয়েছে বলে তার দাবি। তিনি বলেন, ‘‘এই নির্বাচনে যে টাকা খরচ করেছে বিজেপি, যে কোনও কেলেঙ্কারিকে হারিয়ে দেবে।’’ এই সব কথা বলতে গেলেই তার বিরুদ্ধে সিবিআই বা ইডি-কে ব্যবহার করা হতে পারে— এই আশঙ্কাও প্রকাশ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তবে পরক্ষণেই জানান যে, কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভয়ে তিনি চুপ করে থাকবেন না।

কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যে টাকা ঢোকানো এবং ঘরে ঘরে টাকা বণ্টন হয়েছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ। কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে এবং কলকাতা বিমানবন্দর যে কমিশনারেটের অধীনে, সেই বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে সরিয়ে দিয়ে টাকার আদান-প্রদানের পথ প্রশস্ত করা হয়েছিল বলে তার ইঙ্গিত।

তৃণমূল চেয়ারপারসন এ দিন বলেন, ‘‘পুরো জরুরি অবস্থা তৈরি করে নির্বাচন করেছে। খুব অপমানের মধ্যে দিয়ে সরকার চালিয়ে এসেছি।’’ এই প্রসঙ্গেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ইস্তফার ইচ্ছার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘‘আমি এটা মেনে নিতে পারছি না। সাম্প্রদায়িকতার দোষে দুষ্ট, টাকার দোষে দুষ্ট নির্বাচনকে আমি মেনে নিতে পারছি না। তাই আমি আজ বৈঠকের শুরুতেই বলেছিলাম, আমি আর মুখ্যমন্ত্রী থাকতে চাই না।’’ কিন্তু তার এই প্রস্তাব দল মানেনি বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন যে, তিনি কিছুতেই দলকে নিজের কথা বোঝাতে পারেননি, তাই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

শুধু বাংলা নয়, অন্যান্য রাজ্যের নির্বাচন নিয়েও যে তার সন্দেহ রয়েছে, সে কথাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বুঝিয়ে দিয়েছেন। গুজরাত, রাজস্থান, দিল্লি, হরিয়ানা-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে সব আসন বা প্রায় সব আসন বিজেপির ঝুলিতে গেল কী ভাবে? প্রশ্ন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ভোট লুঠ না করলে কি এমনটা সম্ভব? প্রশ্ন তার।

‘প্রোগ্রামিং’ তত্ত্বও এ দিন বেশ জোর দিয়ে তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আমরা অনেক কিছু শুনতে পেয়েছি, পাচ্ছি। যেখানে আমরা এক লক্ষের কমে হেরেছি, সেখানে আমার সন্দেহ আছে। আমার নিজের ধারণা, প্রোগ্রামিং একটা করা ছিল। আমাকে তিন মাস আগে থেকে আমলা মহলের অনেকে বলেছিলেন।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সেটিং একটা হয়েছে। সেটিংটা কী করে হল, কী করে হল? দেখা যাক।’’

বিজেপির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকেও এ দিন তীব্র আক্রমণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি একা নন, সম্মিলিত বিরোধী শিবির বার বার কমিশনে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে, কিন্তু কোনও অভিযোগকেই কমিশন গুরুত্ব দেয়নি— বিরক্তি নিয়ে এ দিন বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সুরাহা হয়নি— আক্ষেপ তার। সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাতেও যে তিনি সন্তুষ্ট নন, তাও এ দিন বুঝিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন কমিশনের বিরুদ্ধেই। তার কথায়, ‘‘এ বার ইলেকশন কমিশন ওপেন গেম খেলেছে, ইলেকশন কমিশন হল এই নির্বাচনের ম্যান অব দ্য ম্যাচ।’’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু এ দিন এক বারের জন্যও বুঝতে দিতে চাননি যে, নির্বাচনের এই ফলাফলে তিনি আশাহত। সাংবাদিক সম্মেলনের প্রায় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন স্বভাবসিদ্ধ তেজ। কোনও প্রসঙ্গেই ব্যাকফুটে গিয়ে খেলার কথা ভাবেননি, আক্রমণাত্মক মেজাজে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন যাবতীয় অস্বস্তি। কিন্তু তার ফাঁকে ফাঁকেই কখনও উঁকি দিয়েছেন এক অভিমানী মমতা। যিনি মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন অথবা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে বলছেন, ‘‘একটু বেশি কাজ করে ফেলেছিলাম মনে হচ্ছে। এ বার একটু দলটা বেশি করে করব।’’ কখনও দেখা দিয়েছেন ঈষৎ সংশয়ে থাকা মমতা। যিনি দাবি করছেন, চক্রান্ত করে তার দলকে অনেক আসনে হারানো হয়েছে। আবার সে সব ঠেলেই আচমকা তে়ড়েফুঁড়ে উঠতে দেখা গিয়েছে এক বেপরোয়া মমতাকেও। যিনি বলতে পারেন, ‘‘আমার চেয়ারকে প্রয়োজন নেই, আমাকে চেয়ারের প্রয়োজন।’’

আপনার মতামত লিখুন :

অ্যামাজনের আগুন নেভাতে মাঠে ব্রাজিলের সামরিক বাহিনী

অ্যামাজনের আগুন নেভাতে মাঠে ব্রাজিলের সামরিক বাহিনী
অ্যামাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ব্রাজিলের সামরিক বাহিনী/ ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত অ্যামাজন জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভাতে সামরিক আকাশযানসহ মাঠে নেমেছে ব্রাজিলের সামরিক বাহিনী। অ্যামজনে আগুন লাগার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় সরকারবিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংকটও দেখা দিয়েছে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ের বলসোনারো অবশ্য বৈশ্বিক উদ্বেগ কমাতে বলেছিলেন যে, অ্যামাজনের যেখানে আগুন লেগেছে, সেখানে আরও আগেই বন ধ্বংস করা হয়েছে। গভীর জঙ্গল এখনো অক্ষত রয়েছে। এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহের শেষে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ এর সভায় আলোচনারও কথা রয়েছে।

ব্রাজিলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফার্নান্দো আজেবাদো জানান, দেশটির প্রায় ৪৪ হাজার সেনা এই অনাকাঙ্ক্ষিত আগুন নেভাতে অ্যামাজন এলাকার ছয়টি রাজ্যে যাচ্ছেন। রাজ্যগুলো হলো- রুরাইমা, রন্দনিয়া, টোকানটিনস, প্যারা, অ্যাকর ও মাতো গ্রসো।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566749928367.gif

রন্দনিয়ার রাজধানী পোর্তো ভেলোতে প্রথম অভিযানে অংশ নেবেন সাতশরও বেশি সেনা। অভিযানে তারা দুটি সি-১৩০ উড়োজাহাজ ব্যবহার করবেন পাটি ছিটানোর জন্য, যার প্রতিটি ১২ হাজার লিটার পানি ধারন করতে পারে।

অ্যামাজন সংকটের প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর ভূমিকা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়ার পরই মাঠে নামছে দেশটির সামরিক বাহিনী। শুক্রবার বলসোনারো তাঁর সামরিক বাহিনীকে আগুন নেভানোর কাজে নামার অনুমতি দেয়। এ সময় তিনি দাবি করেন যে, অ্যামাজনকে রক্ষা করতে তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মধ্যে শনিবার প্রেসিডেন্ট বলসোনারো গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আগুন স্বাভাবিক হওয়ার পথে।’ এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানসেজ সহ ল্যাটিন আমেরিকার একাধিক দেশের নেতাদের সাথে কথা বলছেন বলেও জানান তিনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566749945974.gif

বরাবরই বলসোনারো অ্যামাজন জঙ্গল রক্ষা করাকে ব্রাজিলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের বাধা হিসেবে উল্লেখ করছিলেন এবং যারা মনে করেন অ্যামাজন বন বিশাল আকারের গ্রীনহাউজ গ্যাস হজম করে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে ভূমিকা পালন করে, তাদের কড়া জবাবও দিয়ে আসছিলেন।

অ্যামাজনের অগ্নিকাণ্ড বর্তমানে একটি বৈশ্বিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে ব্রাজিল ও ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপিয়ানরা বলছেন, বলসোনারো জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাঁর ওয়াদা ভঙ্গ করেছেন। ইউরোপ ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ব্রাজিল দূতাবাসের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভ করে উত্তেজিত জনতা। এমনকি ব্রাজিলেও আন্দোলনে নামেন প্রতিবাদকারীরা।

কাশ্মীরিদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

কাশ্মীরিদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, ছবি: সংগৃহীত

জম্মু কাশ্মীরের শ্রীনগর বিমানবন্দর থেকে শনিবার (২৪ আগস্ট) দিল্লিতে ফেরত পাঠানো হয় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ ১১ বিরোধী দলের নেতাদের। রাহুল গান্ধী ও বিরোধী দলের নেতাদের প্রতি প্রশাসনের এমন ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি রোববার (২৫ আগস্ট) কড়া ভাষায় টুইট করেন।

টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘কাশ্মীরিদের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এর থেকে বেশি রাজনৈতিক ও দেশবিরোধী কিছু হতে পারে না।’

এদিকে, টুইটে একটি ভিডিও দিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। সেখানে দেখা যাচ্ছে, বিমানের মধ্যে এক নারী রাহুল গান্ধিকে কেন্দ্রীয় পদক্ষেপের ফলে সৃষ্ট নানা সমস্যার কথা জানাচ্ছেন।

দেশটির সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে, কাশ্মীরে বিধি নিষেধ জারি অবস্থায় সেখানকার আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন রাহুল গান্ধী। সেই সময়ই তাকে কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান রাজ্যপাল সত্যাপাল মালিক। তিনি জানান, গান্ধীর জন্য বিমানও পাঠিয়ে দেওয়া হবে। রাজ্যপাল ও রাহুলে টুইট ঘিরে রাজনীতি আবর্তিত হয়।

আরও পড়ুন: কাশ্মীর থেকে ফেরত পাঠালো রাহুল গান্ধীকে

শনিবারের ঘটনার বিষয়ে রাহুল গান্ধী বলছেন, ‘এটা প্রমাণ হয়ে গেল কাশ্মীরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। দিন কয়েক আগেই রাজ্যপাল আমাকে কাশ্মীরে যাওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করে। এজন্য আমি ও দলের অন্য নেতারা এসেছিলাম। অথচ আমাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হল না। অবাক করা বিষয়।’

জম্মু-কাশ্মীরের সরকারের পক্ষ থেকে এক টুইটে জানানো হয়, বিরোধী নেতাদের রাজ্যে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তারা এলে পরিবেশ অন্যরকম হয়ে উঠতে পারে। সীমান্ত সুরক্ষা ও হিংসা রুখতেই নিয়ন্ত্রণের জারি করছে প্রশাসন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র