Alexa

প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করতে পারে ব্যাঙ !

প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করতে পারে ব্যাঙ !

জেনোপস ব্যাঙ, ছবি: সংগৃহীত

কোনো নারী মা হচ্ছেন কিনা? তা জানার জন্য সাধারণত আমরা ডাক্তার কাছে যাই অথবা বাজারে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার জন্য যেসব কাঠি পাওয়া যায় তার মাধ্যমে নিশ্চিত হই। এখন যে কোনও ফার্মেসিতেই প্রেগনেন্সি টেস্ট কিট পাওয়া যায়। এই কিট-এর সাহায্যে সহজেই গর্ভাবস্থার পরীক্ষা করে ফেলতে পারেন নারীরা।

একটি ব্যাঙ বলে দিতে পারবে কোন নারী গর্ভবর্তী কীনা, এ কথা আপনার কাছে আজগুবি মনে হতে পারে। আধুনিক এই যুগে একে কুসংস্কার বলেও ভাবতে পারেন অনেক।

তবে ইতিহাস বলছে, আজ থেকে প্রায় ৬ হাজার বছর আগে মানুষের প্রসাব বা মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থা শনাক্ত করার পদ্ধতি আবিষ্কার হয় মিশরে। যদি কোনও নারীর সময় মতো মাসিক বা ঋতুস্রাব না হতো,তাহলে ধারণা করা হত তিনি গর্ভবতী। 

নারীর প্রেগনেন্সি পরীক্ষায় আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির আশেপাশের দেশগুলোতে ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত ব্যবহার করা হত এক ধরণের নখওয়ালা ব্যাঙ। নাম জেনোপস। পানিতে বসবাস করে এ ব্যাঙটি। ১৯৩০ এর দশকে, ব্রিটিশ এক বিজ্ঞানী তার ওপর গবেষণা করে দেখলেন যে ব্যাঙটি দিয়ে নারীর গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করা সম্ভব।

জেনোপস নামের এই ব্যাঙটির শরীরে তিনি ইনজেকশন দিয়ে মানুষের মূত্র ঢুকিয়ে দিলেন। ল্যান্সলট হগবেন নামের এই প্রাণীবিজ্ঞানীর কাজই যেন ছিল বিভিন্ন প্রাণীর শরীরের নানা রকমের জিনিস, বিশেষ করে হরমোন ঢুকিয়ে দেওয়া। তার উদ্দেশ্য ছিল এর ফলে ওই প্রাণীর শরীরে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ঘটে সেটা লক্ষ্য করা।

ঠিক এই একই ধরনের আরেকটি পরীক্ষার পর,অনেকটা দুর্ঘটনাবশতই, তিনি আবিষ্কার করে ফেললেন যে এই ব্যাঙের ভেতরে প্রেগনেন্সি হরমোন ঢুকিয়ে দিলে সেটি ডিম পাড়তে শুরু করে দেয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/26/1558836862345.jpg

পরীক্ষাটি ছিল এরকম: নারী জেনোপস ব্যাঙের চামড়ার নিচে ইনজেকশনের মাধ্যমে নারীর মূত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। ৫-১২ ঘণ্টা পর দেখা হতো ব্যাঙটি ডিম পেড়েছে কিনা। ডিম পাড়লে নিশ্চিত হওয়া যেত যে ওই নারী গর্ভবতী। নিখুঁতভাবেই বলে দিতে পারতো ব্যাঙটি। পরীক্ষাগারে করা হতো এই টেস্ট।
তবে সাধারণ লোকজনের জন্যে এই জেনোপস টেস্ট ব্যবহার করা হতো না। শুধুমাত্র জরুরি চিকিৎসাতেই এই পরীক্ষাটা করা হতো। যেমন আসলেই ভ্রুণের মতো কোনো কিছুর জন্ম হচ্ছে নাকি তৈরি হচ্ছে টিউমার - সেটা নির্ণয় করতে জেনোপস টেস্ট করা হতো। ব্রিটেনের অল্প কিছু হাসপাতালের ল্যাবে এই জেনোপস পরীক্ষা করা হতো।
মরেন সাইমন্স নামের এক নারী বলছিলেন, ১৯৬০ এর দশকের মাঝামাঝি এই ব্যাঙ-এর সাহায্যে কীভাবে তার প্রেগনেন্সি টেস্ট করা হয়েছিল। তার এখনও মনে আছে এরকম এক পরীক্ষার কথা।

বিবিসিকে তিনি বলেন, ‘আমার মাথায় এই দৃশ্যটা এখনও পরিষ্কার গেঁথে আছে, অন্তত দুবার, একজন ডাক্তার আমার কাছে এসে বললেন, আপনি গর্ভবতী হয়েছেন, ব্যাঙটা ডিম পেড়েছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/26/1558836888415.jpg

মরেনের দুবার মিসক্যারেজ অর্থাৎ সন্তান জন্ম হওয়ার আগেই গর্ভপাত হয়ে গিয়েছিল। এবং এই জেনোপস ব্যাঙ-ই সেই সত্যটা বলতে পেরেছিল।

চিকিৎসা-ইতিহাসবিদ জেসে ওলসজিঙ্কো-গ্রিন বলেন, আধুনিক কালে এই টেস্টটিকে খুব অদ্ভুত মনে হতে পারে, কিন্তু ১৯৩০-এর দশকে এটা ছিল খুব বড় ধরনের ঘটনা। আজকে যেমন বাড়িতে পরীক্ষা করেই বোঝা যায় কেউ সন্তানসম্ভবা কিনা, তখনও এই টেস্ট অনেকটা সেরকমই ছিল। গর্ভধারণ ও তার পরীক্ষার ব্যাপারে এটা ছিল একটা উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

আপনার মতামত লিখুন :