Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ৩১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ধর্ম পালনে চীনের উইঘুর মুসলিমরা নিবেদিত প্রাণ

ধর্ম পালনে চীনের উইঘুর মুসলিমরা নিবেদিত প্রাণ
চীনের কাশগিরে মুসলিমদের প্রধান মসজিদ 'ইদগাহ'/ ছবি: বার্তা২৪.কম
খুররম জামান
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

কাশগির, শিংজিয়ান প্রদেশ (চীন) থেকে: রাজনীতি করেন না ও সরকারি কাজে যুক্ত নন চীনের এমন উইঘুর মুসলিমরা ধর্ম পালনে ইসলামের সব রীতিই কঠোরভাবে পালন করেন। রমজান মাসে শিংজিয়ানে উইঘুর মসলিমদের সাড়ে সতের ঘণ্টা রোজা রাখতে হয়। কারণ এখানে স্থানীয় সময় ১০টার পরে সূর্য অস্ত যায়।

বুধবার (২৯ মে) চীনের শিংজিয়ান প্রদেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের কাশগিরে মুসলিমদের প্রধান মসজিদ 'ইদগাহ' সরজমিনে গিয়ে বার্তা২৪.কম এমনটিই জানতে পারে।

শীতকালে মাইনাস ২০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রায় উইঘুর মুসলিমরা নামাজ পড়তে এসেও জুতা খুলে মসজিদে প্রবেশ করেন, যা এখানে খুবই কষ্টকর অবস্থা। যদিও চীন সরকার মসজিদে প্রবেশের সময় জুতায় প্লাস্টিকের আস্তরণ দিতে মেশিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। যে অটোমেটিক মেশিনে পা রাখলেই জুতা প্লাস্টিকে আস্তরিত হয়ে যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/29/1559149699237.jpg

ইদগাহ মসজিদের প্রধান ইমাম মকদুম হাজী বার্তা২৪.কম-কে এসব জানিয়ে বলেন, ‘চীন সরকার মসজিদে প্রবেশের পর জুতা মোড়ানোর জন্য পলিথিনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু মসজিদে জুতা পড়ে মুসলিমদের যেহেতু প্রবেশের সংস্কৃতি নেই। তাই প্রচণ্ড শীতে উইঘুর মুসলিমরা চামড়ার বা উলের মোটা মোজা পড়ে মসজিদে প্রবেশ করেন।

তিনি জানান, এ মসজিদে ইদের নামাজ হয় বলে এটির নাম ইটগা (ইদগাহ) মসজিদ হয়েছে। ১৪৬৮ সালে এই মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি শুধু কাশগিরে নয়, শিংজিয়ান প্রদেশে মধ্যে সবচেয়ে বড় মসজিদ।

এ মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামজে ৮০ থেকে ৯০ জনের মত মুসল্লি নামাজ পড়তে আসেন। জুম্মার সময় এ সংখ্যা ৮০০ থেকে ৯০০ জনে পৌঁছায়। আর ঈদ-উল ফিতর ও ঈদ-উল আজহার নামাজে এ সংখ্যা দাঁড়ায় আড়াই থেকে তিন হাজারের মতো।

ইমাম মকদুম হাজী জানান, তিনি ও তার জানা মতে আরও একজন হজ পালন করেছেন।

চীনে ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করা হয়েছে। এ কারণে তিনি এ মসজিদে বেতনভুক্ত হলেও সরকার নয়, কাশগিরের মুসলিম কমিউনিটি তার বেতন দিয়ে দেয়। ৩৫ বছর ধরে তিনি ইমামতি করছেন। ইদুল আজহার সময় দুম্বা, ছাগল, গরু ছাড়া উট কোরবানি দেওয়া হয়ে থাকে। একটি উটের দাম ১৫ হাজার ইউয়ান হয়ে থাকে।

উইঘুর জাতির ইতিহাস প্রায় চার হাজার বছর আগের। মূলত, এরা স্বাধীন পূর্ব তুর্কিস্তানের অধিবাসী। পূর্ব তুর্কিস্তান প্রাচীন সিল্ক রোডের পাশে অবস্থিত মধ্য এশিয়ার একটি দেশ, যার চতুর্পার্শ্বে চীন, ভারত, পাকিস্তান, কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার অবস্থান। এ অঞ্চলের বেশির ভাগ দেশেই উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলিমের বাস রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/29/1559149721145.jpg

বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকেও প্রাচীন এ সম্প্রদায়ের লোকদের উইঘুর না বলে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে ডাকা হতো। মূলত, ১৯২১ সালে উজবেকিস্তানে এক সম্মেলনের পর উইঘুররা তাদের পুরনো পরিচয় ফিরে পায়। ভাষাবিদ ও ইতিহাসবেত্তারা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন যে ‘উইঘুর’ শব্দটি ‘উয়্যুঘুর’ শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ সংঘবদ্ধ।

১৯১১ সালে মাঙ্কু সাম্রাজ্য উৎখাতের মাধ্যমে পূর্ব তুর্কিস্তানে চীনা শাসন চালু হয়। ১৯৩৩ ও ১৯৪৪ সালে উইঘুররা দুবার চীনাদের সঙ্গে লড়াই করে স্বাধীনতা অর্জন করে। কিন্তু ১৯৪৯ সালে আবারও তারা চীনা কমিউনিস্টদের পার্টির অধিনে চলে আসে। ১৯৫৫ সালে শিংজিয়ান চীনের অধীনে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

তখন থেকে বেশ কিছু উইঘুর বিচ্ছিন্নতাবাদের কবলে পড়ে সন্ত্রাসবাদের আশ্রয়, যা এখন অব্যাহত রয়েছে। চীনা সরকার এ সন্ত্রাসবাদ রুখতে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বিশেষ করে বিপদগামী উইঘুর তরুণ সমাজ, যারা সন্ত্রাসবাদে প্রভাবিত হয়েছে, তাদের মুল ধারায় ফেরাতে বেশকিছু ভোকেশনাল সেন্টার গড়ে তুলেছে।

আরও পড়ুন: চীনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মাচার নিষিদ্ধ

আপনার মতামত লিখুন :

ট্রাম্পকে 'বর্ণবাদী' বললেন থেরেসা মে

ট্রাম্পকে 'বর্ণবাদী' বললেন থেরেসা মে
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা এক টুইটের নিন্দা জানিয়ে তাকে 'বর্ণবাদী' বলে তিরস্কার করেন।

সোমবার (১৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ট্রাম্পের করা টুইটে নারী সদস্যদের অবমাননা করার পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্য করেন থেরেসা মে। 

সূত্র জানায়, রোববার (১৪ জুলাই) ট্রাম্প তার এক টুইটে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট দলের নারী সদস্যদের 'বিদেশি বংশোদ্ভূত' বলে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

ট্রাম্প আরও বলেন, ডেমোক্র্যাট দলের নারী সদস্যদরা এমন দেশ থেকে এসেছেন যেখানে সবচেয়ে অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এখন তারা বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দেশে এসে বলছে আমাদের কিভাবে সরকার পরিচালনা করতে হবে। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563201679935.jpg
মার্কিন কংগ্রেসের বিদেশি বংশোদ্ভূত নারী সদস্যরা 

 

'তারা কেন ফিরে যাচ্ছে না এবং নিজেদের অপরাধ প্রবণ দেশগুলো ঠিক করার কাজ করছে না। ওখানে আপনাদের প্রয়োজন। যত দ্রুত সম্ভব চলে যান।'- বলেও তিনি তাগিদ দেন। 

মার্কিন কংগ্রেসের বিদেশি বংশোদ্ভূত নারী সদস্যদের কয়েকজন হলেন সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ইলহান ওমর, ফিলিস্তিন থেকে আসা রাশিদা তালিব এবং পোর্টোরিকো বংশোদ্ভূত আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাজিও কর্টেজ।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্পের এই টুইটের সমালোচনা শুরু হয়েছে।

হিমাচলে ভবন ধসে ১৩ সেনা নিহত

হিমাচলে ভবন ধসে  ১৩ সেনা নিহত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের হিমাচল প্রদেশে একটি চারতলা ভবন ধসে ১৩ সেনাসহ ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন স্থানীয় বাসিন্দা রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, রোববার (১৪ জুলাই) বিকেলে হিমাচল প্রদেশের শিমলার সোলান এলাকায় এই ভবন ধসের এই ঘটনাটি ঘটে।

সোমবার (১৫ জুলাই) সকালে হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মুখ্যমন্ত্রী শোক প্রকাশ করে বলেন, 'ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবনটি নিয়ম মেনে নির্মাণ করা হয়নি।'

অঞ্চলটির উপ-কমিশনার কে সি চমন বলেন, 'নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।'

সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন ধরে ভারী বর্ষণের ফলে হিমাচল প্রদেশে ভূমি ধসের ঘটনা ঘটছে। রোববার বিকেলে কিছু ভারতীয় সেনা উত্তরাখণ্ডে যাওয়ার পথে খাবার খেতে ওই রেস্তোরাতে যান। এসময় হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ে। ভবনের নিচে কমপক্ষে ৪২ জন সেনা চাপা পড়েন। বর্তমানে সিআরপিএফের উদ্ধারকারী একটি দল উদ্ধার কাজ করছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র