Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ডাস্টবিনে নবজাতকের কান্না, টুইটারের মাধ্যমে দত্তক

ডাস্টবিনে নবজাতকের কান্না, টুইটারের মাধ্যমে দত্তক
ডাস্টবিনে কুঁড়িয়ে পাওয়া শিশু পিহুর সাথে সাংবাদিক বিনোদ কাপ্রি ও সাক্ষী জোশি/ ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বিনোদ কাপ্রি, ভারতের নয়াদিল্লিভিত্তিক একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ও সাংবাদিক। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার চেক করা তার অভ্যাস।

শুক্রবার (১৪ জুন) সকালেও অভ্যাসমতো মোবাইল হাতে নিয়ে টুইটারের পোস্টগুলো চেক করেছিলেন। হঠাৎ তার দৃষ্টি পড়ে একটি ভিডিও কন্টেন্টের উপর। ভিডিওটিতে তিনি ডাস্টবিনে সদ্যপ্রসূত এক নবজাতককে চিৎকার করে কাঁদতে দেখেন।

দৃশ্যটি তাকে প্রচণ্ড নাড়া দেয়, সঙ্গে সঙ্গে বিনোদ কাপ্রির চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। কাপ্রি ভিডিওটি তার সাংবাদিক স্ত্রী সাক্ষী জোশিকে দেখান। সেও খুব বিমর্ষ হয়ে পড়েন। শিশুটির কান্না সহ্য করা অসম্ভব-তাই পুরো ভিডিওটা দেখা যাচ্ছিল না।

তারা দুইজন তখন ভাবতে থাকেন, তাদের কী করা উচিত এবং তখনই সিদ্ধান্ত নেন, যেকোনোভাবে বাচ্চাটাকে দত্তক নেবেন তারা।

বিনোদ কাপ্রি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিনিধিকে বলেন, ‘সেই মুহূর্তে আমাদের কাছে শিশুটির কোনো ঠিকানা জানা ছিল না। ভিডিওটি সত্যি কি-না তাও নিশ্চিত হতে পারছিলাম না। কারণ, এর আগে অনেক ফেইক ভিডিও সম্পর্কে আমাদের ধারণা ছিল।’

তখন জোশি টুইটারে ভিডিওটি শেয়ার করে তার ফলোয়ারদের কাছে শিশুটি সম্পর্কে তথ্য জানতে চান। কোন এলাকার ডাস্টবিনে শিশুটির ভিডিও ধারণ করা হয়েছে তাও জানতে চান।

জোশি বলেন, ‘মেয়ে শিশুটিকে রাজস্থানে খুঁজে পাওয়া যায়। আর তার খোঁজ পেতে টুইটার বড় ভুমিকা পালন করে।’

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেরই তার নিজস্ব মতাদর্শ ও মতামত রয়েছে। কিন্তু এখানে মানবতা কাজ করেছে। তাতে বোঝা যায় বিশ্বে এখনও মানবতা রয়েছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/18/1560873727393.jpg

শিশুটি এখন রাজস্থানের নাগৌর শহরের জওহরলাল নেহেরু (জেএলএন) হাসপাতালে ডা. আর কে সুতোর তত্ত্বাবধানে রয়েছে। শিশুটি এখন ভালো আছে, তার ওজন এক কেজি ৬০০ গ্রাম। শিশুটির জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে টুইট করেছেন বিনোদ কাপ্রি।

এর আগে ডাস্টবিনে পরিত্যক্ত শিশুটিকে বিনোদের সাবেক সহকর্মী রাহুল চৌধুরী উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলেন বিনোদ কাপ্রি ও সাক্ষী জোশি। ডাক্তার এ সময় তাদের কাছে শিশুটি দত্তক নেওয়ার কারণ জানতে চান। এই দম্পতির আবেগ ও অনুভূতির বিষয়টি আঁচ করতে পারেন ডাক্তার। পরে ডাক্তার জানান শিশুটি ভালো আছে। শুধু তার ওজনের বিষয়টি নজরে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে রাজস্থানে শিশুটিকে নিতে আমন্ত্রণ জানান ডা. আর কে সুতোর।

শনিবার (১৫ জুন) ৫০০ কিলোমিটার দূরে রাজস্থানের নাগৌরে রওনা দেন বিনোদ কাপ্রি ও সাক্ষী জোশি।

শিশু দত্তক নেওয়ার ব্যাপারে কোনো আইডিয়া ছিল না- এজন্য তারা গবেষণা শুরু করেন। এরপর ভারতের দত্তক নেওয়ার আইন সম্পর্কে ভালো করে জেনে দুইজনে মেডিকেল চেকআপ করে, একটি আবেদন ফরম পূরণ করেন। এরপর অন্যান্য নিয়মাবলি সম্পন্ন করে শিশুটিকে দত্তক নেন।

সম্প্রতি বাবা দিবসে বিনোদ কাপ্রি একটি ছবি শেয়ার করেন। সেখানে তাদের সুখী পরিবার বলে উল্লেখ করেন। মেয়ে শিশুটির নাম ‘পিহু’ দেওয়া হয়েছে। টুইটার বন্ধুদের দেওয়া নাম থেকে নামটি বাছাই করা বলে গণমাধ্যমকে জানান বিনোদ কাপ্রি।

সেই সঙ্গে সবাইকে ধন্যবাদ জানান, শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য।

আপনার মতামত লিখুন :

বিদেশে বিপাকে পড়তে পারেন মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তার সন্তানরা

বিদেশে বিপাকে পড়তে পারেন মিয়ানমার সেনা কর্মকর্তার সন্তানরা
ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‘জাতিগত নিধনের’ অভিযোগে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও তিন শীর্ষ কর্মকর্তার যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন প্রশাসন।

এ নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে বিদেশে পড়তে যাওয়া মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের সন্তানরা বিপাকে পড়তে পারেন। দেশটির অধিকাংশ সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানরা ইউরোপ-আমেরিকায় পড়াশোনা করেন।

মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়-সহ তিন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের সাত সেনা কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিদেশে তাদের সম্পদ জব্দের পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোতে তাদের ও পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়। মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে না নেয় তাহলে সমস্ত সেনাবাহিনীর ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। তখন বিদেশে পড়তে যাওয়া সেনা সন্তানদের সবাইকে মিয়ানমারে ফিরে আসতে হতে পারে।

মিয়ানমারে গত ৫০ বছরে সামরিক আমলে সরকার উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে কম বরাদ্দ রেখেছিল। কিন্তু সেনা কর্মকর্তারা নিজেদের সন্তানদের পড়াতে পশ্চিমা দেশগুলোতে পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে স্বচ্ছল পরিবারগুলো বেছে নিয়েছে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, চীন ও ভারতের মত দেশকে।

মিয়ানমারে স্নাতক পড়ুয়াদের জন্য খুব কম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ব্যবসা ও প্রকৌশলের মতো পছন্দসই বিষয়ে পড়তে বড় সংখ্যার শিক্ষার্থীরা বিদেশেই যান। বেশিরভাগই সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো কাছাকাছি দেশগুলোতে যান। যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াও অনেকের পছন্দের গন্তব্যস্থল। তবে প্রতিবেশী দেশে শিক্ষার খরচ বাড়ছে। কিন্তু এ দেশগুলোর শিক্ষার মান পশ্চিমা মানের নয়। তাই সামরিক কর্মকর্তারা তাদের সন্তানদের পশ্চিমেই পাঠিয়ে থাকেন।

আর যারা গবেষণা করতে চান তাদের জন্য পছন্দসই গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মিয়ানমারের শিক্ষার্থীরা উন্নত মার্কেটিং জ্ঞান অর্জনে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।

মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং শিক্ষার্থী ভিসা পেতে অসুবিধার কারণে অতীতে অল্পকিছু শিক্ষার্থী পশ্চিমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত হতো। এ স্বল্প কয়েজনের মধ্যে সেনা কর্মকর্তাদের সন্তানরাই বেশি সুযোগ পেতেন।

তবে ২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ফলে ভিসা পাওয়া সহজ হয়। মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত ‘এডুকেশন ফেয়ার’ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়।

এক হিসাব মতে মিয়ানমারের ২৫ হাজার শিক্ষার্থী বিদেশে অধ্যয়নরত রয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা ক্রমাগতই বাড়ছে।

থাইল্যান্ড হলো মিয়ানমারের শিক্ষার্থীদের প্রধান বিদেশি গন্তব্য, প্রতি বছর প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী সেখানে যাচ্ছেন।

এশিয়াতে অন্যান্য গন্তব্য সিঙ্গাপুরে ৫ হাজার, জাপানে সাড়ে ৩ হাজার, চীনে ৩ হাজার ও মালয়েশিয়ায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়তে গেছেন। মিয়ানমারের শিক্ষার্থীরা হংকং ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও পড়াশোনা করছেন।

পশ্চিমে যুক্তরাজ্যে ২ হাজার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৬শ’ এবং অস্ট্রেলিয়ায় ৬শ’ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এদের বড় একটি সংখ্যা সামরিক অফিসারদের সন্তান।

মিয়ানমারে প্রায় ৩০টি বেসরকারি আন্তর্জাতিক বিদ্যালয় আছে। সবগুলোতে পশ্চিমা পাঠ্যক্রম অনুসরণ করা হয়। এর ফলে শুরুতেই সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে চলে যায় এই শিক্ষার্থীরা। এর অর্থ তারা সবাই বিদেশে অধ্যয়ন করার পরিকল্পনা করছে।

জঙ্গলে বিদ্রোহী, বাঘ গুণতে পারে না মিয়ানমার

জঙ্গলে বিদ্রোহী, বাঘ গুণতে পারে না মিয়ানমার
মিয়ানমারের জঙ্গলে বেঙ্গল টাইগার | ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে সশস্ত্র সংঘাতের ফলে দেশটিতে থাকা বাঘের সংখ্যা গুণে বের করা যাচ্ছে না। দেশটির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সমিতির মতে, সবশেষ বাঘ জরিপে মাত্র ১০ শতাংশ অঞ্চলে এ বিরল প্রাণীটির সংখ্যা গোণা গেছে।

সমিতি বলছে, বাঘের সংখ্যা সঠিকভাবে জানা কঠিন। সংঘাতের কারণে কিছু এলাকায় তারা জরিপ চালাতে পারেনি। মিয়ানমার সেনার সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাতের কারণে এসব অঞ্চলে তথ্য সংগ্রহ করা খুব বিপজ্জনক।

পৃথিবীতে বাঘের ৯টি প্রজাতির মাত্র ছয়টি প্রজাতি এখন আর অবশিষ্ট আছে। বাঘের বাসস্থানগুলির মধ্যে মিয়ানমারে দুটি প্রজাতি রয়েছে। বেঙ্গল টাইগার ও ইন্দো-চায়না বাঘ দুটি দেশটির বিভিন্ন জঙ্গলে দেখতে পাওয়া যায়।

বাঘের বাসস্থান জরিপ করায় অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। তাদের আবাসগুলো দূরবর্তী এবং সশস্ত্র সংঘাতের কারণে তা ব্যাপক ঝুঁকিপূর্ণ।

মিয়ানমারের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সমিতির সুপারিশ—বর্তমান বাঘের বাসস্থান সংরক্ষিত এলাকায় নিয়ে আসা, যাতে বংশবিস্তার নিশ্চিত করা যায়।

মিয়ানমার সরকারের দাবি সারাদেশে ৮০টি বাঘ এখনো অবশিষ্ট আছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংখ্যা আরো কম। সংখ্যা কমার কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বাঘেরা প্রচণ্ড খাদ্য সংকটে পড়েছে।

বাঘেরা যে প্রাণীগুলো শিকার করে খায় বনগুলোতে অবৈধ শিকারিরা সেই সব প্রাণী ধরে নিয়ে বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে। বাঘের পছন্দের খাবারের মধ্যে গৌড়, হরিণ ও সাম্বার হরিণের সংখ্যা হুমকির মুখে। এসব বন্যপ্রাণী পাচারকারীদেরও খুব প্রিয়!

মিয়ানমারে জীববৈচিত্র্য ও বনাঞ্চল আইন দ্বারা সুরক্ষিত থাকলেও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে প্রাণীগুলো অচিরেই হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র