মিয়ানমারে অবিবাহিত ৪ জনের ৩ জনই যৌন শিক্ষায় অজ্ঞ

খুররম জামান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মিয়ানমারে চারজন অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে তিনজনের কোনো যৌন শিক্ষা নেই। চারজনের মধ্যে মাত্র একজন যৌন শিক্ষা পেয়েছেন তাদের বন্ধুবান্ধব বা ইন্টারনেট থেকে।

মিয়ানমারের মিডিয়া সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। একটি অলাভজনক দাতব্য সংস্থা দেশটির ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী এক হাজার অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে।

চিনা ও কায়াহ রাজ্য ছাড়া মিয়ানমারজুড়ে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এ জরিপ চালানো হয়।

এদিকে গত ২২ জুন থেকে মিয়ানমারের চিনা ও রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসবাদ দমনের নামে সব ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে দেশটির সরকার।

ইন্টারনেট থেকে যতটুকু যৌন শিক্ষা পেত, তাও বন্ধ করার ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থাগুলো।

এ জরিপেই উঠে এসেছে, প্রাপ্তবয়স্করা যৌন শিক্ষা পেতে বাবা-মায়ের চেয়ে ইন্টারনেটে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

দাতব্য সংস্থা ডি কে টি’র চিকিৎসা প্রশিক্ষণ বিভাগের প্রধান ড. ফায়া থিহা জানান, জরিপে দেখা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগই আত্মীয় ও বন্ধুদের কাছ থেকে অনানুষ্ঠানিক যৌন শিক্ষা পেয়েছেন, কিন্তু স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তেমন যৌন শিক্ষা পাননি। আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ভুল হলে, ভবিষ্যতে সঙ্কটে পড়তে পারেন তারা। সঠিক তথ্যসহ যৌন শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জরিপ অনুযায়ী, ৯৬ শতাংশ উত্তরদাতা আনুষ্ঠানিক যৌন শিক্ষাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। ৮৯ শতাংশ সম্মত হয়েছেন যে এ সম্পর্কে পাবলিক স্কুলে পড়ানো উচিত। ২৫ শতাংশ উত্তরদাতা, যারা আনুষ্ঠানিক যৌন শিক্ষা পেয়েছেন, তাদের বেশিরভাগই শহুরে এলাকায় থাকেন। ৬৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা বন্ধু, প্রতিবেশী এবং সহপাঠীদের মাধ্যমে গোপনে যৌন শিক্ষা পেয়েছেন।

বাবা-মায়ের চেয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এ সম্পর্কে বেশি জানতে পেরেছেন তারা। ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে গর্ভনিরোধক ব্যবহার নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রধানত নারীর।

এ গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, লিঙ্গ ভেদে যৌন মিলনে নারী-পুরুষ ভিন্ন মনোভাব পোষণ করেন। বিয়ের আগে যৌন মিলনে অধিকাংশ নারী অসম্মতি ও নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। শতকরা ৯৭ ভাগ বিশ্বাস করেন যে মেয়েদের বিয়ের আগ পর্যন্ত কুমারী থাকা উচিত। আবার এসব নারীর ৭৬ শতাংশ মনে করেন, ছেলেদেরও এমন থাকা উচিত। ৫৯ শতাংশ বলেছেন, আমরা যদি ছেলেদের সঙ্গে যৌন মিলন না করি, তাহলে তারা আমাদের সম্মানই করবেন না। ৬৯ শতাংশ বলেছেন, যৌন মিলনে আগে ভালোবাসার সম্পর্ক জরুরি। ৫০ শতাংশ মেয়ে বলেছেন, ছেলেরা যৌন মিলনে অনেক সময় তাদের বাধ্য করেন।

উল্লেখ্য, কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এইচআইভি পজেটিভ পাওয়া গেছে। ফলে বাংলাদেশে এইডসের ঝুঁকি বাড়ছে৷ তাই এইচআইভি ছড়ানো ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার৷ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে থাকার সময় কোনো যৌন শিক্ষা না পাওয়ার কারণে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন সাত লাখের মতো রোহিঙ্গা৷ নতুন আর পুরনো মিলে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে এখন প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস৷

আপনার মতামত লিখুন :