Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

যা আছে রাহুলের পদত্যাগ পত্রে

যা আছে রাহুলের পদত্যাগ পত্রে
রাহুল গান্ধী, ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের দায় কাঁধে নিয়ে ৩ জুলাই কংগ্রেস পার্টির সভাপতির পদ ছেড়েছেন রাহুল গান্ধী। এখানে তার পদত্যাগ পত্রের সম্পূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হলো।

‘কংগ্রেস পার্টির জন্য কাজ করাটা আমার জন্য সম্মানের, যে পার্টির মূল্যবোধ ও আদর্শ আমাদের এই সুন্দর জাতির প্রাণশক্তি।

আমি আমার দেশের কাছে ঋণী এবং দলের অসাধারণ কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় আমি ঋণী।

কংগ্রেস পার্টির সভাপতি হিসেবে ২০১৯ সালের পরাজয়ের জন্য আমি দায়ী। আমাদের দলের ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য জবাবদিহিতা অত্যন্ত জরুরি। এটাই আমার কংগ্রেস পার্টির সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার কারণ।

পার্টি পুনর্গঠনের জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং ২০১৯ সালের পরাজয়ের জন্য অনেককে জবাবদিহি করতে হবে। দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব এড়িয়ে অন্যদের দায়ী করাটা অন্যায় হবে।

আমার অনেক সহকর্মী প্রস্তাব করেছিলেন যেন আমি পরবর্তী কংগ্রেস সভাপতি মনোনীত করি।

নতুন কারো নেতৃত্ব দেওয়াটা আমাদের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেই ব্যক্তি কে হবেন, তা নির্বাচন করা আমার ঠিক হবে না। আমাদের দলের অসামান্য ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও মর্যাদাকে আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। ভারত বুননে এটি গাঁথা রয়েছে এবং আমি বিশ্বাস করি, আমাদের দল সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে যে কে সাহস, ভালোবাসা ও সততা দিয়ে দলের নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

পদত্যাগের পরপরই আমি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির (সিডিব্লিউসি) সহকর্মীদের বলেছি, যেন কয়েকজনকে দলের নতুন সভাপতি খোঁজা শুরু করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি তাদের এই ক্ষমতা দিয়েছি এবং এই প্রক্রিয়ার প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিতে ও সুন্দরভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

রাজনৈতিক ক্ষমতার জন্য আমার লড়াই মোটেই সহজ ছিল না। বিজেপির প্রতি আমার কোনো ঘৃণা বা রাগ না থাকলেও আমার দেহের প্রতিটি জীবন্ত কণা দিয়ে আমি তাদের ভারত সম্পর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর বিরোধিতা করি। এই বিরোধিতার কারণ, আমি যে ভারতীয় মূল্যবোধ লালন করি, তার সঙ্গে তাদের ধ্যান-ধারণা সব সময় সরাসরি সাংঘর্ষিক। এ যুদ্ধ নতুন নয়, হাজার হাজার বছর আগে থেকেই আমাদের মাটিতে এটা চলছে। তারা যেখানে পার্থক্য দেখেন, আমি সেখানে দেখি সাদৃশ্য। তারা যেখানে ঘৃণা দেখেন, আমি দেখি ভালোবাসা। তারা যা ভয় করেন, আমি তা আলিঙ্গন করি।

এমন সহনুভূতিশীল ধ্যান-ধারণা আমার কোটি কোটি প্রিয় নাগরিকের হৃদয়ে রয়েছে। ভারতের এই মূল্যবোধ আমরা কঠোরভাবে রক্ষা করব।

আমাদের দেশ ও লালিত সংবিধানের ওপর আক্রমণ আমাদের জাতি সত্ত্বা ধ্বংসের জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমি কোনোভাবেই এই লড়াই থেকে পিছপা হচ্ছি না। আমি কংগ্রেস পার্টির একজন বিশ্বস্ত সৈনিক এবং ভারতের অনুগত সন্তান। আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দেশকে সেবা দেব এবং রক্ষা করব।

আমরা একটি শক্তিশালী এবং মর্যাদাপূর্ণ নির্বাচন করেছি। আমাদের প্রচারণা ছিল ভারতের সব জনগণ, ধর্ম ও গোষ্ঠীর ভ্রাতৃত্ব, পরমতসহিষ্ণুতা ও সম্মানের জন্য। আমি আমার সমস্ত সত্ত্বা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী, আরএসএস এবং তাদের দখলে থাকা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি। আমি ভারতকে ভালোবাসি বলেই এ লড়াই করেছি এবং ভারত যে আদর্শ নিয়ে গঠিত, সে আদর্শ রক্ষার্থে আমি লড়াই করেছি। এ লড়াইয়ে আমি সম্পূর্ণ একা ছিলাম এবং এজন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমি আমাদের কর্মী এবং দলের নারী ও পুরুষ সদস্যদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, যারা আমাকে ভালোবাসা ও সৌজন্যবোধ শিখিয়েছেন।

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষ থাকা প্রয়োজন; দেশের বিচারক তুল্য সংবাদ মাধ্যমের নিরপেক্ষতা, একটি স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন না থাকলে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না । যদি একটি দলের কাছে দেশের সব আর্থিক সম্পদ কুক্ষিগত থাকে, তাহলেও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

২০১৯ সালের নির্বাচনে আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লড়াই করিনি। বরং আমরা বিরোধী দলের বিরুদ্ধে পরিচালিত ভারতের পুরো মেশিনারিজ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এটা এখন স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ যে ভারতে এখন আর আমাদের লালিত প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা নেই।

আরএসএস’র আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো দখলে নেওয়ার উদ্দেশ্য এখন পূরণ হয়েছে। আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। আসল বিপদটা হলো এখন থেকে নির্বাচন ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পরিবর্তে নিছক আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হবে।

এই ক্ষমতা দখলের ফলে ভারতের সহিংসতা ও কষ্ট অকল্পনীয় পর্যায়ে পৌঁছাবে। কৃষক, বেকার যুব সমাজ, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, দলিত ও সংখ্যালঘুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে যাচ্ছেন। এটি হবে আমাদের অর্থনীতি এবং দেশের খ্যাতির জন্য ধ্বংসাত্মক। প্রধানমন্ত্রীর বিজয় তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বহর বাতিল করতে পারবে না; কোনো টাকা এবং প্রোপাগান্ডাই সত্যের আলো লুকিয়ে রাখতে পারে না। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার ও পুনরুজ্জীবিত করার জন্য ভারতীয় জাতিকে অবশ্যই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কংগ্রেস পার্টি হবে এই পুনর্গঠনের যন্ত্র।

htt
রাহুল গান্ধী, ছবি: সংগৃহীত



এই গুরু দায়িত্ব অর্জন করতে হলে কংগ্রেস পার্টির আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। আজ বিজেপি রীতিমত ভারতীয় জনগণের কণ্ঠস্বর নিষ্পেষণ করছে। তাদের কণ্ঠস্বর রক্ষা করা কংগ্রেস পার্টির দায়িত্ব। ভারত কখনো এক কন্ঠস্বরের ছিল না, ভবিষ্যতেও হবে না। এখানে সম্মিলিত কণ্ঠস্বর আছে এবং থাকবে। এটিই ভারত মাতার সত্য সার কথা।

দেশ বিদেশের হাজারো ভারতীয় জনতাকে ধন্যবাদ, যারা আমাকে মেসেজ এবং চিঠির মাধ্যমে সমর্থন দিয়েছেন। আমি অবশ্যই আমার সর্বশক্তি দিয়ে কংগ্রেস পার্টির আদর্শের জন্য লড়াই করে যাব। পার্টির যখনই আমার কোনো সেবা বা পরামর্শের দরকার হবে, আমি সঙ্গে আছি। 

যারা কংগ্রেস আদর্শে বিশ্বাস করেন, বিশেষ করে আমাদের নিবেদিত ও প্রিয় কর্মী, আমাদের ভবিষ্যতের ওপর আমার অগাধ বিশ্বাস এবং আপনাদের প্রতি পরম ভালোবাসা রয়েছে।

ভারতে এই অভ্যাসটা রয়েছে যে শক্তিধররা ক্ষমতা আকড়ে রাখতে চান, কেউ ক্ষমতা ছাড়তে চান না। কিন্তু আমরা ক্ষমতার বাসনা ত্যাগ না করে আমাদের বিরোধীদের পরাজিত করব না। আমরা গভীর আদর্শগত যুদ্ধ করছি। আমি কংগ্রেসম্যান হিসেবে জন্ম নিয়েছি, এই দল সব সময় আমার সঙ্গে আছে এবং এটি আমার জীবনের প্রাণশক্তি, যা সারা জীবন এভাবেই থাকবে।

জয় হিন্দ
রাহুল গান্ধী’

আরও পড়ুন: পদত্যাগ করলেন রাহুল গান্ধী

আপনার মতামত লিখুন :

এক ফ্যান এক লাইটের বিদ্যুৎ বিল ১২৮ কোটি

এক ফ্যান এক লাইটের বিদ্যুৎ বিল ১২৮ কোটি
বিদ্যুৎ বিল

ভারতের উত্তর প্রদেশের হাপুর শহরের কাছে চামরি নামে একটি গ্রামের এক গৃহস্থের বাড়িতে ১২৮ কোটিরও বেশি রুপির বিদ্যুৎ বিল এসেছে। বাড়িটির বাসিন্দা এক দম্পতি, যাদের ঘরে কেবল লাইট আর ফ্যান চলে।

শামীম নামে ওই বাড়ির কর্তা বিল সংশোধনের জন্য বিদ্যুৎ অফিসে বার বার ধর্না দিয়েও এর কোন সুরাহা করতে পারেননি। বিল পরিশোধ না করায় তার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগের দাবি নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে গেলে শামীমকে কর্মকর্তারা বলেছেন, বিল পরিশোধ করলেই কেবল তার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করে দেওয়া হবে।

বাড়িটির ২ কিলোওয়াটের বিদ্যুৎ সংযোগের বিলের কাগজে ছাপা বিলের মোট পরিমাণ ১২৮ কোটি ৪৫ লাখ ৯৫ হাজার ৪৪৪ রুপি। এই উদ্ভট পরিমাণ সংশোধন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ অফিসের টেবিলে টেবিলে ঘুরেছেন বলে জানিয়েছেন শামীম।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563676901455.jpg
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই’কে তিনি বলেন, কেউ আমাদের কথা শুনছে না। এই অর্থ আমরা কিভাবে পরিশোধ করব? অভিযোগ নিয়ে গেলে কর্মকর্তারা বলছেন, পুরো বিল পরিশোধ করতে হবে। তারা আমার বাড়ির লাইন ইতোমধ্যেই কেটে দিয়েছেন।

অভিযোগ করে শামীম আরও বলেন, প্রতি মাসে আমার বিদ্যুৎ বিল ৭শ’ থেকে ৮শ’ রুপির মধ্যেই থাকে। কিন্তু এবার আমাকে পুরো হাপুর শহরের বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে!

ভুক্তভোগী শামীমের স্ত্রী খাইরুন্নিসা বলেন, আমরা কেবল লাইট আর ফ্যান চালাই। আমরা গরিব মানুষ, আমরা কিভাবে এত বিল দেব?

রামশরণ নামে প্রদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের এক প্রকৌশলী সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এটা বড় কোন ব্যাপার না, সামান্য যান্ত্রিক ত্রুটি। পরে সংশোধন করে দেওয়া হবে।
সূত্র: এনডিটিভি

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত মারা গেছেন

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিত মারা গেছেন
শীলা দীক্ষিত, ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেত্রী শীলা দীক্ষিত মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার ৮১ বছর বয়স হয়েছিল।

শনিবার (২০ জুলাই) দিল্লির ফর্টিস এসকর্ট হার্ট ইনস্টিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। 

দেশটির গণমাধ্যম জানায়, শীলা দীক্ষিত বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। শনিবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মৃত্যুর খবর জানায় তার পরিবার।

এবারের অনুষ্ঠিতব্য লোকসভা নির্বাচনেও উত্তর-পূর্ব দিল্লি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শীলা দীক্ষিত। তবে পরাজিত হন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেত্রী।

১৯৯৮, ২০০৩ এবং ২০০৮ সালে পরপর তিন বার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হন শীলা দীক্ষিত। বর্তমানে তিনি দিল্লি কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন।

শীলা দীক্ষিতের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে কংগ্রেস পরিবারে। শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। 

এদিকে, শোকপ্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। 

অন্যদিকে, এক টুইট বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র